এডিটার'স মেইলবক্স: ডাকসু নির্বাচন বিতর্ক ও ব্রেক্সিটের ভবিষ্যত

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী আবাসিক হলে উপ-উপাচার্যের গাড়ি ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবির কপিরাইট Lalon Mahmud
Image caption ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী আবাসিক হলে উপ-উপাচার্যের গাড়ি ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

চলতি সপ্তাহের অন্যতম সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন।

এ প্রসঙ্গে দাকোপ, খুলনা থেকে লিখেছেন মুকুল সরদার

''দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশবাসীও প্রত্যাশা করেছিল একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন দেশের সর্ববৃহৎ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদের সদস্যরা। কিন্তু ডাকসু নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যেই এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করেছে ছাত্রলীগ ব্যতীত অন্যান্য ছাত্র সংগঠন। এ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে অনশন, ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ সহ নানা কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

''কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কার্যত পুনরায় নির্বাচনের এ দাবিকে নাকচ দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রথম পর্যায়ের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটাদের উপস্থিতি ছিল খুবই সামান্য । উপজেলা পরিষদ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে, তেমনটা মনে হচ্ছে না। সব মিলে দেশ এখন কোন দিকে এগোচ্ছে? এই যে নিরুত্তাপ নির্বাচন বা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সেটি আমাদের গণতন্ত্রের বিকাশকে কি কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে?''

মি: সরদার গণতন্ত্রের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প অবশ্যই নেই। একইসঙ্গে ভোটদানে সাধারণ মানুষের অনীহা স্থিতিশীল গণতন্ত্রের জন্য ভাল লক্ষ্মণ কখনই হয় না। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন ভোট সুষ্ঠুভাবেই হয়েছে। এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যকে প্রধান করে একটি চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আপনাকে লেখার জন্য ধন্যবাদ। ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

ছবির কপিরাইট Election Commission Bangladesh
Image caption নির্বাচন কমিশন সচিবালয়

ডাকসুর নির্বাচন প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেছেন কপিলমুনি খুলনা থেকে মো. শিমুল বিল্লাল বাপ্পী

''বাংলাদেশে উপজেলা নির্বাচন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের ভোটের প্রতি যে অনীহা তৈরি হয়েছে তা দূর করতে নিরপেক্ষ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। নির্বাচন কমিশন যেন ভোটারদের নিরাপত্তা দেয়, এবং ভোটের আগে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার কোন সুযোগ যেন না রাখে। ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ ছাত্ররা যেমন তাদের পছন্দের ভিপি নির্বাচিত করে গণতন্ত্রের যাত্রাকে গতিশীল করেছে, তেমন নিরপেক্ষ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তৃণমূলের গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।''

আপনার মত সবাই আশা করবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করবে। তবে পাঁচধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পর্যায়ের এই নির্বাচনে যতটুকু দেখা যাচ্ছে সব দল অংশগ্রহণ করছে না। তাই অন্তত প্রথম ধাপের নির্বাচনে তেমন উত্তাপ দেখা যায়নি। এ নিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন পড়তে ক্লিক করুন।চিঠি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption ব্রিটেনের ইইউ থেকে বেরনর ব্রেক্সিট প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল।

ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবার প্রক্রিয়া বা ব্রেক্সিট ছিল চলতি সপ্তাহে আলোচিত বড় একটি আন্তর্জাতিক খবর। আমাদের শ্রোতাদের অনেকেই মনে হচ্ছে এ নিয়ে আমাদের খবরাখবর নিয়মিত শুনছেন। তার প্রমাণ এ সপ্তাহে এ প্রসঙ্গে অনেকগুলো চিঠি। সঙ্গে বেশ কিছু প্রশ্ন।

বড়শশী-অমরখানা,পঞ্চগড় থেকে প্রশ্ন করেছেন মো: উজ্জ্বল ইসলাম

''গত দুদিন ধরে বিবিসিতে একটি নিউজ খুব বেশি করে শুনছি, আর তাহলো ব্রেক্সিট বিষয় নিয়ে। আমি যতটা জানি, ব্রিটেনের জনগণ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সম্ভবত গত বছরের আগে গণভোটে সম্মতি জানিয়েছিলেন যে তারা আর ইইউতে থাকতে চায় না। অথচ ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা এর ঘোর বিরোধিতা করছে এবং অনেকবার সংসদে এধরনের বিল নাকচ হয়ে গেছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের এর বিরোধিতা করার কারণ কি?''

মি: ইসলাম -ব্রিটেন ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে চায় কিনা সে প্রশ্নে গণভোট হয়েছিল ২০১৬ সালের ২৩শে জুন। আর বিচ্ছেদের তারিখ ধার্য হয়েছিল এবছরের ২৯শে মার্চ। এই গোটা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল। ইইউ থেকে বেরনর পর কীধরনের সুযোগ সুবিধা ব্রিটেনের হাতে থাকবে, কী শর্তে ব্রিটেনকে বেরতে হবে তা নিয়ে ইইউ ও ব্রিটেনের মধ্যে দেনদরবার চলেছে দুবছর ধরে। গত নভেম্বরে যুক্তরাজ্য এবং ইইউ একটি চুক্তিতে একমত হয়েছে। তবে তা কার্যকর করতে হলে ব্রিটিশ এমপিদেরও তাতে মত দিতে হবে।

এখন নর্দান আয়ারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড রিপাব্লিক এর মাঝামাঝি ইইউ আর যুক্তরাজ্যের সীমানা কীভাবে নির্ধারণ হবে সেটা মতবিরোধের অন্যতম বড় একটা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও অন্য বিষয়ও রয়েছে। কিন্তু প্রীতিভাজনেষুর এই সীমিত পরিসরে সব কিছু ব্যাখ্যা করা কঠিন। বিবিসি বাংলার ওয়েবপেজে আমরা বিস্তারিতভাবে সবদিক ব্যাখ্যা করে অনেকগুলো প্রতিবেদন ছেপেছি। আপনি আরও অনেকগুলো প্রশ্ন করেছেন যেমন ব্রেক্সিট হলে ব্রিটেনের মানুষের কী সুবিধা কী অসুবিধা হবে বা আবার গণভোট হতে পারে কীনা। আমাদের প্রতিবেদনগুলো থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর আপনি পেয়ে যাবেন।

গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে প্রশ্ন করেছেন মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ব্রিটেনের ইইউ থেকে বেরনর জন্য নির্ধারিত তারিখ ২৯শে মার্চ

''ব্রিটিশ এমপিরা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হওয়ার চুক্তি দুইবার প্রত্যাখান করেছেন। চুক্তিবিহীন বের হয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও ব্রিটিশ এমপিরা নাকচ করেছেন। এখন আমার প্রশ্ন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যদি সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব নাকচ করে কিংবা বর্ধিত সময়েও ব্রিটিশ এমপিরা মতৈক্যে না পৌঁছেন, তখন ব্রেক্সিট চুক্তির কী পরিণতি হবে?''

আপনি নিশ্চয়ই জেনেছেন ইতোমধ্যে সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী টুরিসা মে তার প্রত্যাহার চুক্তিটি বিবেচনার জন্য আবার সংসদে পেশ করবেন ২০শে মার্চ ভোটাভুটির জন্য। আমাদের ওয়েবপেজে চোখ রাখুন ব্রেক্সিট ঘটনাপ্রবাহ জানার জন্য। আপনাকে ধন্যবাদ।

সাম্প্রতিক কয়েকটি পথ দুঘর্টনার কথা উল্লেখ করে খিলগাঁও, ঢাকা থেকে লিখেছেন বোরহান বিশ্বাস

''ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চলতি পথে অনেক বয়সী গাছ দেখা যায়। তাছাড়া, রাজধানীর অনেক জায়গাতেই রাস্তার পাশে লাগানো কিছু কিছু গাছ একটা পর্যায়ে গিয়ে আর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় না। মৃতপ্রায় সেসব গাছ রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের জন্য অনেকটা মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সামনে কালবৈশাখী মৌসুম। তাই দ্রুতই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।''

আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মি: বিশ্বাস। আশা করি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টির দিকে নজর দেবেন এবং দেখবেন চলাচলের পথে কোন্ গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। আপনাকে লেখার জন্য ধন্যবাদ।

বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় একটা খবর ভুল বলে উল্লেখ করেছেন মনিরুল ইসলাম আপনি ঠিকানা লেখেননি।

''এটা কেমন ভুল! বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় দেখলাম, জিদান রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে আসার খবর- কিন্তু সেখানে বলা হয়েছে জিদান ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী কোচ, এবং রিয়াল মাদ্রিদকে রেয়াল বলা হয়েছে প্রথমে ভাবলাম হয়তো আমারই ভুল হয়েছে, তাই কমেন্টগুলো দেখলাম। কিন্তু সেখানে দেখলাম একই ... ।''

এটাকে ভুল বলা ঠিক হবে না মি: ইসলাম। জিনেদিন জিদান ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার এবং তিনি রেয়াল মাদ্রিদের কোচও বটে। কিন্তু তাকে বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার বা খেলোয়াড় বললেও কিন্তু সেটা সঠিক হতো না কারণ তিনি এখন খেলেন না - তিনি এখন কোচ। আর উচ্চারণ প্রসঙ্গে বলি দলটির নামের সঠিক উচ্চারণ রেয়াল মাদ্রিদ -রিয়াল মাদ্রিদ নয়। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption রেয়াল মাদ্রিদের সাবেক খেলোয়াড় জিনেদিন জিদান যিনি এখন দলের কোচ

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এ সপ্তাহের চিঠির সংখ্যা প্রচুর। কাজেই আরও দুএকটি চিঠির উল্লেখ করছি। লালমোহন, ভোলা থেকে লিখেছেন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান

''ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এক সময় বলা হতো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড এবং ডাকসুকে বলা হতো বাংলাদেশের মিনি পার্লামেন্ট। বাংলাদেশের সমস্ত প্রগতিশীল আন্দোলন ও সংগ্রাম এই ডাকসুকে কেন্দ্র করেই সংগঠিত হয়েছে। প্রায় তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচন সকলের মধ্যে আশার আলো প্রজ্জ্বলিত করেছিল এবং ত্রুটিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের পর ডাকসু নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে সকলে প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাপক অনিয়ম ও প্রতিবাদের মুখে ডাকসু নির্বাচন শেষ হয়েছে।

''ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে আমার মতো অনেকেই অসম্মান ও লজ্জ্বাবোধ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দেয়াল লিখনে লক্ষ্য করেছি, ১১ মার্চের নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্পৃহার মৃত্যু ঘটিয়েছে। বিবিসির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমার নিবেদন থাকবে নির্বাচনের ত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কালিমামুক্ত করার।''

আর পার্বতীপুর, দিনাজপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক মন্তব্য করেছেন।

''আমাদের সবার মনে একটি প্রশ্ন জেগেছে- আসলে ডাকসু নির্বাচন আমাদের কী শিক্ষা দিল? ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যে আশার আলো টিমটিম করে জ্বলছিল, আশার সেই প্রদীপটি এবার নিভে গেল কিনা- সে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে অনেকের মত আমার মনেও।''

এই নির্বাচন নিয়ে মতামত দিয়ে আরও লিখেছেন ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন; মৌকরন, পটুয়াখালী থেকে শাহিন তালুকদার, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল, মাড়েয়া, পঞ্চগড় থেকে পলাশ চন্দ্র রায় আর গেণ্ডারিয়া, ঢাকা থেকে তানাকা রহমান। আপনারা সবাই ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সুচিন্তিত মতামত পাঠিয়েছেন। সবার মতামত পড়ে শোনানো গেল না। কিন্তু আপনাদের সবাইকে লেখার জন্য ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের ইতিহাস নতুন নয়

কাশ্মীরে উত্তেজনা অনেকটা কমে এলেও এ নিয়ে লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গে হুগলির ধনিয়াখালি থেকে সৈয়দ মহম্মদ মুসা

''ভারত-পাকিস্তান সংঘাতকালে টিভি চ্যানেলের ভূমিকা এককথায়, জঘন‍্য। বিশেষত ভারতীয় মিডিয়া। আন্তর্জাতিক রিপোর্ট যত আসছে, একটা বিষয় জলের মতো পরিস্কার, একটা শব্দও সত‍্য বলেনি ভারতীয় টিভি চ‍্যানেল। উল্টে 'অবাঞ্ছিত' উগ্র দেশপ্রেম উগরে দিয়েছে। সন্ত্রাসের উৎসমূলে না গিয়ে ও কাশ্মীর সমস‍্যাকে পাশ কাটিয়ে পাইকারি হারে মিথ্যে তথ‍্য দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জণগনকে ক্ষেপিয়েছে। অন‍্যদিকে পাকিস্তানের টিভি চ‍্যানেল তুলনামূলকভাবে অনেক 'সংযত ও সত‍্য' তথ‍্য পরিবেশন করেছে। উল্টোদিকে, বাংলাদেশি টিভি চ‍্যানেলের টকশোগুলো শুনে অবাক হয়েছি। মনে হচ্ছিল যেন ভারতীয় চ‍্যানেল দেখছি।''

মি: মুসা জানি না সবগুলো চ্যানেল নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা একইরকম কীনা। ধরে নিচ্ছি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সবগুলো চ্যানেলের কভারেজ দেখা আপনার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে ভারতের বেশিরভাগ চ্যানেলে প্রচারণামূলক ও একপেশে কভারেজ হয়েছে এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বহু পোস্টে উঠে এসেছে। আপনাকে ধন্যবাদ। ভারত পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার কভারেজ নিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

ভারতের আর একটি খবর প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে লিখেছেন রাফিউল ইসলাম রাফি

''কয়েকদিন আগে "বিবিসি প্রবাহে" শুনলাম, ভারতে একটি ডিটারজেন্ট কোম্পানির বিজ্ঞাপনে হিন্দু মেয়ে তার মুসলিম বন্ধুকে তাদের হোলি'র রং থেকে বাঁচিয়ে নামাজে পাঠাচ্ছে। বিষয়টিকে ভারতের হিন্দু সম্প্রদায় ভালোভাবে নিতে পারছেন না কারণ সেটা নাকি মুসলিম ও হিন্দুতে প্রেম ভালোবাসার অনুপ্রেরণা যোগাবে! যেখানে কিনা পৃথিবীতে চলছে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তুমুল প্রচারণা, সেখানে বিষয়টি থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা উচিৎ ছিলো। এটা বর্তমান শিশুদের ভেতর ভ্রাতৃত্ববোধের জন্ম দিতো। কিন্তু উল্টো এই সামান্য বিষয়টি নিয়ে এতোটা গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে যার কারণে সেটা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে পরিণত হচ্ছে।''

বিষয়টি ভালভাবে নিতে পারে নি ভারতে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটা অংশ - যারা কট্টর হিন্দুত্ববাদী। তারাই ওই বিজ্ঞাপনের পর ডিটারজেন্ট নিমার্তা সংস্থা হিন্দুস্থান ইউনিলিভারের যাবতীয় প্রোডাক্ট বর্জন করারও ডাক দেয়। ভারতের একজন বামপন্থী অ্যাকটিভিস্ট এই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে সঙ্ঘ পরিবারের অনুগামী ঘৃণার কারবারীরাই লাভ জিহাদের চশমা দিয়ে এই বিজ্ঞাপনটিকে দেখছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

ডিটারজেন্ট 'সার্ফ এক্সেল'-এর বিজ্ঞাপন নিয়ে প্রতিবেদনটি পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

ছবির কপিরাইট HINDUSTAN UNILEVER
Image caption সার্ফের বিজ্ঞাপনের মূল থিম ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

শ্রোতা সম্মেলনের অভাব বোধ করছেন ঢাকার শ্রোতা এ.টি.এম.আতাউর রহমান রঞ্জু।

''বিবিসি বাংলা আমার পছন্দের বেতার সার্ভিস। একদিন বিবিসি বাংলার সংবাদ না শুনতে পারলে খুবই খারাপ লাগে,মনে শূন্যতা লাগে। তাই ঢাকা শহরে এফ এম ১০০ তে ৭.৩০ খবর শুনি। রংপুরে গেলে ৮৮.৮এ। এখন যেহেতু বিবিসি বাংলার সংলাপ নাই তাই শ্রোতাদের একত্রিত হওয়ার সুযোগও নাই। তাই অনুরোধ বিবিসি বাংলা নতুন কিছু অনুষ্ঠান করুক যাতে আমরা শ্রোতা বন্ধুরা মিলিত হতে পারি।''

বিবিসি বাংলা সময় সুযোগ পেলে শ্রোতা সম্মেলন আয়োজন করে। কিন্তু আমাদের বেশির ভাগ শ্রোতা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমাদের অনুষ্ঠান হয় শোনেন না হয় ওয়েবপেজে খবরাখবর পড়েন। আমাদের খবর যত মানুষের কাছে পৌঁছয় তাদের সবাই নিয়মিত চিঠি লেখেন না। ফলে তারা কে কোথায় সেটা আমরা সবসময় জানতে পারি না। কাজেই কীধরনের অনুষ্ঠান করলে আপনারা শ্রোতা বন্ধুরা মিলিত হতে পারবেন সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন আছে। ধন্যবাদ আপনাকে।

এবারে কিছু প্রাপ্তিস্বীকার।

সাইফুল ইসলাম থান্দার, দূর্গাপুর, রাজশাহী।

আসিফ ইকবাল কাজল, ঝিনাইদহ।

মোঃ সিরাজ উদ্দিন মাষ্টার, ভাকুর্তা, সাভার।

এমদাদুল হক বাদশা, দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা।

দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

ডা: এস.এম.এ হান্নান, চাটমোহর,পাবনা।

মুস্তাফা হাসান, যশোর।

শাহ্ আলম ইসলাম, মিঠাপুকুর, রংপুর।

মশিউর রহমান, ডোমার, নিলফামারী।

মোহাম্মাদ সারওয়ার হুসাইন, দেয়রা, দুবাই।

সুরঞ্জন মিত্র, কয়রা, খুলনা।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/