ক্রাইস্টচার্চ হামলা: মুসলিমদের সাথে একাত্মতায় নিউজিল্যান্ডে নারীদের মাথায় স্কার্ফ

ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে ক'জন স্কুল ছাত্রী। ছবির কপিরাইট ANTHONY WALLACE
Image caption ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে ক'জন স্কুল ছাত্রী।

নিউজিল্যান্ডের মুসলমান নারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশ জুড়ে নারীরা একদিনের জন্য মাথা ঢেকে রাখবেন।

'হেডস্কার্ফ ফর হারমনি'র আয়োজকরা বলছেন, কী ধরনের কাপড় মাথায় পরতে হবে, বা কিভাবে তা পরতে হবে, তা নিয়ে বিশেষ কোন নিয়মকানুন থাকবে না।

শুধু এর মাধ্যমে কিউইরা নিউজিল্যান্ডের মুসলমান নারীদের প্রতি তাদের সহমর্মিতা প্রকাশ করবেন বলে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড সংবাদপত্র খবর দিয়েছে।

কিন্তু এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে ইতোমধ্যেই হৈচৈ শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নারীদের প্রতি অবিচার করা হবে, এবং নারীরা যে পুরুষের অনুগত, সেই বার্তাও দেয়া হবে।

তবে অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম বিষয়ক একজন পণ্ডিত ড. যাইন আলী বলছেন, এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে তিনি ভীষণভাবে গর্বিত। নিউজিল্যান্ডের মুসলমান নারীরাও অনুষ্ঠানটি নিয়ে গর্বিত হতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত শুক্রবার একজন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী উগ্রপন্থী নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যা করে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড বলছে, 'হেডস্কার্ফ ফর হারমনি'র ধারণাটা প্রথম আসে অকল্যান্ডের একজন ডাক্তার থায়য়া আশমানের মাথায়।

ছবির কপিরাইট headscarfforharmony
Image caption হেডস্কার্ফ ফর হারমনি

আরো পড়তে পারেন:

সব ধরনের সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করবে নিউজিল্যান্ড

'যত গতি তত ক্ষতি, মোড়ে মোড়ে ফুট ওভারব্রিজে লাভ নেই'

হোটেলে গোপন ক্যামেরায় পর্নোগ্রাফির শিকার কয়েকশ' মানুষ

ক্রাইস্টচার্চের হামলার পর একদিন তিনি টিভির খবর দেখতে পান যে একজন মহিলা বলছেন, ঐ ঘটনার পর তিনি হিজাব পরে বাইরে বেরুতে ভয় পাচ্ছেন।

একথা শুনে তিনি মনে করলেন সারা দেশের মুসলমান নারীদের জন্য কিছু একটা করা দরকার। এরই পথ ধরে 'হেডস্কার্ফ ফর হারমনি'র শুরু।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানাচ্ছে, শুরুর দিকে ডা. আশমান বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে আলাপ বলেন। পরে তিনি ইসলামিক উইমেন কাউন্সিল অফ নিউজিল্যান্ড এবং মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অফ নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেন।

দুটি প্রতিষ্ঠানই ডা. আশমানের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানায়। কিউইরা কিভাবে এই মাথা ঢেকে রাখবেন তা নিয়ে ডা. আশমান তাদের কাছ থেকে পরামর্শ চান।

তবে তিনি বলছেন, তিনি ঠিক হিজাব পরার কথা বলছেন না। তার বদলে নিউজিল্যান্ডের নারীরা যে কোন ভাবে কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে মুসলিমদের প্রতি সমর্থন জানালেই চলবে।

তবে শুক্রবারের এই অনুষ্ঠান নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই বিরোধিতা করছেন। অনেকে বলছেন এতে নারী অধিকারের অবমাননা হবে।

একজন পোস্ট করেছেন: "হ্যাঁ, নারীদের নির্যাতন করতেই হবে। ইরানে নারীরা মাথার চাদর খুলে ফেললে তাদের পিটিয়ে জেলে পোরা হয়।"

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption মুসলিম নারীদের সাথে নিউজিল্যান্ডের মাওরি নারীর একাত্বতা।

"নির্যাতন আর বৈষম্যের প্রতীক মাথায় বেঁধে আপনারা এক হত্যাযজ্ঞের স্মরণ অনুষ্ঠান করছেন," অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, "এটা ভুলে গেলে চলবে না।"

অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. যাইন আলী বলছেন, এর মধ্য দিয়ে মুসলিম নারীদের অবমাননা হবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

"কিন্তু এর মাধ্যমে অন্য নারীদের কি অপমান করা হচ্ছে? না, কারণ কাউকে জোর করে মাথায় কাপড় দেয়ানো হচ্ছে না।"

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের নারীরা যদি মাথায় স্কার্ফ পরেন, তার মানে এই নয় যে সৌদি আরব বা ইরানে যা ঘটছে তারা তার সাথে একমত। দুটি ভিন্ন বাস্তবতাকে আলাদা করে দেখার পরিপক্বতা থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্পর্কিত বিষয়