শুক্র গ্রহ 'ভূতাত্বিকভাবে মৃত' নয়: নতুন গবেষণা

শুক্র গ্রহ ছবির কপিরাইট NASA
Image caption শুক্র গ্রহ সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ

শুক্র গ্রহকে এতো দিন 'ভূতাত্ত্বিকভাবে মৃত' ভাবা হলেও এখন নতুন গবেষণা থেকে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে - তাতে প্রমাণ মিলছে যে শুক্র সম্পর্কে এ ধারণা আসলে 'কল্পনাপ্রসূত।'

সম্প্রতি নতুন একটি গবেষণার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞানীরা শুক্রকে 'ভীষণভাবে জীবিত গ্রহ' বলে স্বীকার করেছেন।

নতুন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্র গ্রহের ল্যান্ডস্কেপ বা ভূচিত্র নিয়েও নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।

শুক্র গ্রহের জন্য নতুন মিশন 'এনভিশন' নিয়ে পরিকল্পনা করছে দি ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি।

সূর্যের নিকটস্থ গ্রহ শুক্র একটি উষ্ণ গ্রহ। এর ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৫'শ সেলসিয়াস। কিন্তু শুধু তাপমাত্রার জন্যই এই গ্রহটি প্রাণশূন্য নয়। বরং এই গ্রহের উপরিতলের চাপ-ও এতো বেশি যে তা সওয়া খুবই দুস্কর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর কোনো একটি মহাসমুদ্রে ৯০০ মিটার বা ২৭শ ফুট পানির গভীরে একজন মানুষ যে চাপ অনুভব করবে শুক্রের উপরিতলে সব সময়ই তেমন চাপ বিরাজমান।

এনভিশন প্রজেক্টের প্রধান গবেষক ড. রিচার্ড গেইল বলছেন, পৃথিবী ও শুক্র প্রায় একই রকম অবস্থায়, বলতে গেলে জমজের মতন হয়ে তাদের যাত্রা শুরু করেছিল।

"কিন্তু কালক্রমে পৃথিবী পেয়েছে অক্সিজেন, জীবন ও শীতল আবহাওয়া। আর শুক্র গ্রহ অবিরতভাবে কেবল উষ্ণ থেকে উষ্ণতর আর শুষ্ক হয়ে উঠেছে" বলছিলেন ড. গেইল।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

বাঘুসের পতন দিয়ে আইএসের 'খিলাফতের' অবসান

আর্থিক খাতে সাইবার ক্রাইম ঠেকানো যাচ্ছেনা কেন?

জি এম কাদেরকে অব্যাহতি দিলেন এরশাদ

১৯৭১: ভারতকে যেভাবে সাহায্য করে ইসরায়েল

ছবির কপিরাইট NASA
Image caption শুক্র গ্রহের উপরিভাগের ছবি, উপগ্রহ থেকে পাঠানো

মঙ্গলের মতন শুক্রেও একসময় প্রাণের বিকাশের উপযোগী পরিস্থিতি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্র গ্রহ তার পৃষ্ঠতলে অন্তত একশ' মিলিয়ন বা দশ কোটি বছর ধরে পানি রাখতে পারতো বলে মনে করছেন ড. গেইল। তাছাড়া, বিলিয়ন বছর ধরে শুক্রের বুকে সাগর থাকাও সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এই পানি কোথায় গেলো? শুক্র কী করে হারালো এতো পানি? এটিই বিজ্ঞানীদের কাছে একটি জটিল ধাঁধাঁ হিসেবে রয়ে গেছে।

এই সমীকরণ মেলাতে পারলে, শুক্রের নিয়তি বা অতীত থেকেই হয়তো পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও আঁচ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিগত ৫০ বছর ধরেই শুক্রের ইতিহাস সন্ধানের চেষ্টা চলছে। ৬০ থেকে ৮০র দশক পর্যন্ত সোভিয়েতরা শুক্রকে নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছে।

শুক্রকে একটি 'টফি গ্রহ' অর্থাৎ এর বাহ্যিক স্তরটি খুবই পাতলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই তত্ত্ব নিয়েও কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন শুক্রগ্রহের অনেক জায়গায় উপরের স্তরটি অনেক পুরু হতে পারে।