বিশ্বসেরা শিক্ষক পিটার তাবিচি: আয়ের ৮০ ভাগই শিক্ষার্থীদের দান করেন যিনি

ব্রাদার পিটার তাবিচি ছবির কপিরাইট Varkey Foundation
Image caption বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নিযুক্ত হওয়া ব্রাদার পিটার তাবিচি, যিনি তার আয়ের ৮০ ভাগই দান করে থাকে।

২০১৮ সালের জন্য বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছেন কেনিয়ার পিটার তাবিচি, যিনি খ্রিস্টানদের ফ্রান্সিসকান ধারার অনুসারী হওয়ায় তাকে 'ব্রাদার পিটার' বলা হয়।

দাতব্য সংস্থা ভার্কে ফাউন্ডেশন প্রতিবছর বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার দিয়ে থাকে।

দুবাইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পিটার তাবিচির হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন হলিউড অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যান।

এই পুরস্কারের সাথে ১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭ লাখ ৫৮ হাজার পাউন্ড) অর্থও পেয়েছেন মি. তাবিচি।

তবে এই অর্থপ্রাপ্তির পরও মি. তাবিচি হয়তো সহসাই বিত্তশালী হয়ে উঠবেন না। কারণ তিনি তার মাসিক আয়ের ৮০ ভাগই দান করে থাকেন।

এই পুরস্কারের চূড়ান্ত প্রতিযোগী মনোনীত হয় ১৭৯ টি দেশের ১০ হাজারের বেশি প্রার্থীর মধ্যে থেকে।

শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা উন্নীত করা ও শিক্ষকতা পেশাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে এই পুরস্কার দেয়া হয়ে থাকে।

'আমার শিক্ষক আমাকে আত্মহত্যা থেকে বাঁচিয়েছেন'

কোথায় শিক্ষকরা সবচেয়ে মর্যাদা পান, কোথায় পান না

ফেসবুক ব্যবহারে শিক্ষকদের সতর্কতা: কী আছে সরকারি নীতিতে?

Image caption পুরস্কারজয়ী পিটার তাবিচি বলেন, 'এখন আফ্রিকার সময়'।

যেসব কারণে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলেন পিটার তাবিচি

মি. তাবিচি কেনিয়ার একটি গ্রামের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন অঙ্ক এবং পদার্থবিদ্যার শিক্ষক।

তিনি তাঁর আয়ের ৮০ ভাগই তার শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পেছনে ব্যয় করেন বলেই তার অধিকাংশ ছাত্র স্কুলের পোশাক বা বই কিনে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে।

মি. তাবিচি পয়ানি গ্রামের 'কেরিকো মিক্সড ডে সেকেন্ডারি স্কুল' এ শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। এটি এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে খরা এবং দুর্ভিক্ষ লেগেই থাকে।

স্কুল পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য সেখানকার অনেক শিক্ষার্থীদেরই ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত হাঁটতে হয়। বর্ষার সময় যেসব রাস্তার অনেকগুলোতেই চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

পুরস্কার বিতরণ করা সংস্থার কর্তৃপক্ষ জানায়, স্কুলটির '৯৫ ভাগ শিক্ষার্থীই দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছে, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী অনাথ এবং অনেকেই অভুক্ত অবস্থায় দিনযাপন করে'।

মি. তাবিচি গত ১২ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত আছেন।

যেসব পরিবার তাদের কন্যাদের কম বয়সে বিয়ে করিয়ে দিতে চায় - সেসব পরিবারকে বুঝিয়ে মেয়েদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনুপ্রেরণা দেন তিনি।

তিনি এমনভাবে স্কুলের সাইন্স ক্লাবের কার্যপরিধি বাড়িয়েছেন যার ধারাবাহিকতায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা উন্নতমানের গবেষণাধর্মী প্রকল্প তৈরি করতে শিখেছে।

বর্তমানে তাদের অধিকাংশ প্রকল্পের পরিকল্পনাই জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত হয়।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায়ও তার এক ছাত্রের প্রকল্প পুরস্কৃত হয়েছে।

৩৬ বছর বয়সী এই শিক্ষক শুধু কেনিয়াতেই নয়, পুরো আফ্রিকার শিক্ষার্থীদের কাছেই বিজ্ঞান শেখার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চান।

মি. তাবিচি আফ্রিকার তরুণদের সম্পর্কে বলেন, "শিক্ষক হিসেবে আমি দেখেছি এখানকার তরুণদের সম্ভাবনা কতটুকু - তারা উৎসুক, প্রতিভাবান, বুদ্ধিমান এবং আত্মবিশ্বাসী।"

"নিকট ভবিষ্যতে আফ্রিকা থেকে বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং এই সফলতার গল্পে মেয়েরা বড় ভূমিকা পালন করবে।"

সম্পর্কিত বিষয়