বনানী আগুন: ওপর থেকে হাত নাড়ছিল অনেকে, পানির স্বল্পতায় উদ্ধারে ব্যাঘাত, রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন, নিহত ৭

উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী

বনানীর বহুতল ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে ও উদ্ধার তৎপরতায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনী কাজ করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দুপুরে আগুন লাগার পর থেকে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট। পরে যোগ দেয় আরো ৫টি ইউনিট।

মোট ১৭টি ইউনিটের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টা চালায় এবং তাদের সাথে যোগ দেয় সেনা ও বিমান বাহিনী। বিকেল পাঁচটা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় তারা।

নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

শুরুতে একজনের কথা জানা গেলেও নিহতের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিকেল পাঁচটার পর থেকে এ পর্যন্ত সাতজনের নিহত হবার খবর নিশ্চিত জানা গেছে।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরমান আলী মোট সাত জনের নিহত হওয়ার তথ্য বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে কুর্মিটোলা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ফরিদা ইয়াসমিন জানান, সেখানে একজন মারা গিয়েছে। ইউনাইটেড হাসপাতালের কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান শুভ বিবিসি বাংলাকে বলেন, তাদের হাসপাতালে তিনজনকে মৃত অবস্থা নিয়ে যাওয়া হয়। আহত অবস্থায় কমপক্ষে ২০জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ভবন থেকে বাঁচার চেষ্টায় কয়েকজনকে লাফ দিয়ে পড়তে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে কারও কারও অবস্থা গুরুতর।

পানির স্বল্পতায় উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত

ঘটনাস্থল থেকে বিবিসি বাংলার আফরোজা নীলা জানান, পানির স্বল্পতার কারণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছিল। বারবার পানি ফুরিয়ে যাচ্ছিল। এরপর বিকেল চারটার দিকে ক্রেনের সাহায্যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কাজ শুরু করেন। যোগ দেয় বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার।

মাঝে মাঝেই পুরো এলাকাটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছিল।

নিচে দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী একজন বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ওপর থেকে কাগজ-পত্র উড়ে উড়ে নিচে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছিল, আর বাতাসে ধোঁয়া আর একধরনের পোড়া গন্ধে নি:শ্বাস ভারী হয়ে আসছিল"।

আরও পড়ুন:

'ভেতরে কেবল জীবন-মৃত্যুর তফাৎ, বেশি বলতে পারবো না'

‘দোস্ত, উপরে ওঠ! হেলিকপ্টার আইছে’

বনানী আগুন: বিবিসির একজন সাংবাদিকের চোখে

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption রাস্তায় মানুষের ভিড় ছাপিয়ে সাইরেন বাজিয়ে দ্রুতগতিতে অ্যাম্বুলেন্সের আসা-যাওয়া দেখা যায়।

ঘটনাস্থলে স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছেন। আশেপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসে যোগ দেয় সেখানে।

উৎসুক জনতা যেন উদ্ধারে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে সেজন্য তারা স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন। অনেককে দেখা যায় পানির বোতল এনে তা বিতরণ করতে।

বিবিসি বাংলার আফরোজা নীলা ঘটনাস্থল থেকে জানান, বেলা তিনটার দিকে প্রথম মই দিয়ে কয়েকজনকে বের করে আনতে দেখেন তিনি। তাদের আট/নয়-তলা থেকে বের করে আনা হয়। এরপর চারটা নাগাদ আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে উদ্ধার করে আনা হয়।

বিবিসির সংবাদদাতা জানান, একটা সময় ভবনটির ওপরের দিকের তলাগুলো থেকে বেশ কয়েকজনকে দেখা গেছে হাত নাড়ছেন।

ভবন থেকে বাঁচার চেষ্টায় চার/পাঁচজনকে লাফ দিয়ে পড়তে দেখা গেছে।

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবন

স্বজনের অপেক্ষায়...

অনুপম নামে একজন ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে তার ভাই মোহিত বিবিসিকে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, "টেলিফোন করে আমার ভাই জানিয়েছে যে ১১তলায় অনুপম সহ ২০ থেকে ২২ জন আটকে পড়েছে, ধোঁয়ার জন্য তারা বেরোতে পারছে না"।

এরপর ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানান মোহিত।

সম্পর্কিত বিষয়