বনানী আগুন: আটকে থাাকা একজন বেরিয়ে এসে মাকে বেঁচে থাকার খবর দিলেন- 'মা আমি ভালো আছি, স্যারেরা আটকে গেছে কয়েকজন'।

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption পানির স্বল্পতায় বনানীর আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়।

"মা, আমি ভালো আছি। ঠিক মতো নামছি। চিন্তা কইরেননা। স্যারেরা আটকে গেছে কয়েকজন। আমি নামছি। ভালো আছি। আমার সমস্যা হয়নি"।

ভবনটির লিফটের আট অর্থাৎ নবম তলায় ছিলেন এই ব্যক্তি। জীবন নিয়ে বেরিয়ে এসে এভাবেই তিনি তার তার মাকে বেঁচে থাকার খবর দিচ্ছিলেন।

কিন্তু কিভাবে এতো আগুন আর ধোঁয়ার মধ্যে বের হলেন তিনি?

"আমি লিফটের আটে ছিলাম। আগুন যখন ছয় তলায় আমাদের উত্তর পাশ থেকে ধোঁয়া উড়ছিল। সাথে সাথে আমাদের অফিসে লোকজন সহ বের হলাম। নীচে আর নামতে পারিনি। কারণ প্রচণ্ড ধোয়া। পরে ২২ তলায় হেটে উঠেছি। পরে গ্রিল ভেঙ্গে লাফ দিয়ে পাশের আহমদ টাওয়ারে ঢুকেছি। আমাদের কয়েকজন শেভ হয়েছে। বাকীরা আটকে আছে"।

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption উদ্ধারকাজে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের সাথে সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা।

বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে যে টাওয়ারে আগুনটি লেগেছে সেখানে সামনে ও পেছনে ভবন লাগোয়া ঝুলে থাকে বিদ্যুৎ, টেলিফোন কিংবা ইন্টারনেটসহ নানা কাজে ব্যবহারের অসংখ্য তার।

আর ভবনগুলোর একটি আরেকটির সাথে লাগোয়া। রাস্তার দু পাশ জুড়ে সারিবদ্ধ ভবনের নীচে ফুটপাতে দিনভর ব্যবসা করেন বিশেষ করে চায়ের দোকান রয়েছে অনেকের।

তাদেরই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন , "চায়ের দোকান থেকে দেখলাম ১১টা ২৯র দিকে আগুন লাগলো। এরপর ধোঁয়া বের হল। এরপর ৩/৪ পর পড়ে গেলো। মা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলো"।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption হেলিকপ্টার থেকে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে।

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, "খুব ভয়ানক। যেদিকে আগুন লাগছে সেদিক দিয়েই লাফিয়ে পড়েছে। অন্য কোনও বিকল্প পথ ছিলোনা"।

আরেকজন বলেন, "অনেক মানুষ নামার চেষ্টা করছে। কার মৃত্যু হয়েছে জানিনা। কিন্তু অনেকেই এখান থেকে পড়ে গেছে"।

বনানীর ভবন থেকে হাত নাড়ছিল অনেকে, নিহত ৪

'ভেতরে কেবল জীবন-মৃত্যুর তফাৎ, বেশি বলতে পারবো না'

সম্পর্কিত বিষয়