এডিটার'স মেইলবক্স: বনানীর আগুন নিয়ে ক্ষোভ

ঢাকার আগুন নিভানোর কাজে ক্লান্ত দমকল বাহিনী সদস্য, ২৮-০৩-২০১৯ ছবির কপিরাইট K M Asad
Image caption বনানীর মুখ: ঢাকার আগুন নিভানোর কাজে ক্লান্ত দমকল বাহিনী সদস্য।

বেশ কিছু দিন পর আবার আপনাদের চিঠিপত্র নিয়ে বসলাম, আশা করি সবাই ভাল আছেন। শুরুতেই একটি বিষয়ের ব্যাখ্যা দেই।

আপনারা ইতোমধ্যেই জানেন আমাদের রেডিও অনুষ্ঠান প্রবাহ বেশ কিছু দিন ধরে স্টুডিও থেকে ফেসবুক পাতায় লাইভ সম্প্রচার করা হতো। কিন্তু শুক্রবার ২৯শে মার্চ ছিল ফেসবুকে তার শেষ সম্প্রচার। এই অনুষ্ঠান এখন শুধু রেডিওতে আর আমাদের ওয়েবসাইটে অডিওতে শোনা যাবে।

আমরা জানি, অনেক শ্রোতাই ফেসবুকে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, বলছেন বিবিসি পুনরায় একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিলো। তাহলে ফেসবুকে রেডিও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ করার কারণ কী?

কারণ একটিই - আমাদের অডিয়েন্স ইনসাইট বিভাগ তিন মাস ফেসবুক লাইভ পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে যে এই সম্প্রচারের তেমন কোন চাহিদা নেই। খুব কম মানুষই এই অনুষ্ঠান ফেসবুকে দেখছেন, যারা দেখেন তারাও গড়ে মাত্র ৪০ সেকেন্ড দেখেন। ফেসবুকে আমাদের ফলোয়ার সংখ্যা এক কোটি কুড়ি লক্ষ, কিন্তু মাত্র হাজার দশেক লোক এই অনুষ্ঠান দেখেন, শেয়ার করেন বা সেখানে কমেন্ট করেন।

অর্থাৎ এনগেজমেন্ট এতই কম যে এটা ফেসবুক লাইভে দেয়ার কোন মানে হয়না। কথাগুলো বলতে খারাপ লাগছে, কিন্তু বাস্তবতা আমাদের মেনে নিয়েই আগাতে হবে।

Image caption রেডিও অনুষ্ঠান 'প্রবাহ' ফেসবুকে আর নয়: শাকিল আনোয়ার আর পুলক গুপ্ত মার্চের ২৯ তারিখে সান্ধ্য অধিবেশন পরিবেশন করছেন।

যাই হোক, অন্য প্রসঙ্গে আসি।

আজ শুরু করছি আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন ঢাকা থেকে নুসরাত - যিনি শুধু একটি নামই ব্যবহার করেছেন:

''গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের ২৭ তারিখে বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে 'বাংলাদেশে পরকীয়া সংক্রান্ত আইনে ঠিক কি বলা হয়েছে?' , এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, 'আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান আইন ও সালিশ কেন্দ্রের একজন আইনজীবী নীনা গোস্বামীর কাছে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত আইন খুব বেশি নেই। তবে ৪৫৭ ধারায় বলা হয়েছে যে কোন বিবাহিত ব্যক্তি যদি অন্য কোন বিবাহিত নারীর সাথে জেনেশুনে যৌন সম্পর্ক করে তাহলে তা ব্যভিচার বলে গণ্য হবে।'

এই লিখায় আপনারা যে ৪৫৭ ধারার কথা উল্লেখ করেছেন আমার জানা মতে এটি ভুল। ধারাটি হবে ৪৯৭। যদি আমার জানায় ভুল থাকে তাহলে আমাকে রেফারেন্স দিয়ে শুধরে দিবেন আর যদি আপনাদের কোন ত্রুটি থাকে তাহলে ভুলটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঠিক করে নিবেন।''

আপনি ঠিকই বলেছেন নুসরাত। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখলাম ধারাটি, আপনি যেমন বলেছেন, ৪৯৭। মনে হচ্ছে লেখাটি টাইপ করার সময় নয়-এর জায়গায় পাঁচ চলে এসেছে। প্রতিবেদনটি বেশ আগে ছাপা হলেও, ভুলটা আমাদের নজরে আনার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট K M Asad
Image caption উদ্ধারের আশায়: ঢাকার বনানীতে আক্রান্ত ভবনে আটকে যাওয়া মানুষ দমকল বাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছে।

এবারে আসি ঢাকার বনানীর একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''ঢাকায় আবারও আগুন, প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে, আহতদের সংখ্যাটিও বেশ বড়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যতটা জানা গেছে বনানীর ঐ বহুতল ভবনটিতে অগ্নি নিরাপত্তার যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না এবং বিল্ডিং কোড মেনেও ভবনটি তৈরি হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনা কি এভাবে চলতেই থাকবে? আমরা দেখেছি প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়। কিন্তু এমনটা কখনো দেখিনা যে, বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ না করলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে বা শাস্তির আওতায় নেওয়া হচ্ছে।''

আপনি হয়তো আমাদের রেডিও অনুষ্ঠানে শুনেছেন বা ওয়েবসাইটে পড়েছেন, রাজউকের চেয়ারম্যান বিবিসির সাথে সাক্ষাৎকারে বলেছেন ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এখন আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে তিনি কী পদক্ষেপ নেন সেটা দেখার জন্য। তবে যে ভবনটিতে আগুন লেগেছিল তাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে কোন মন্তব্য করবো না, যেহেতু তদন্ত সবে শুরু হয়েছে। আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
ঘটনাস্থল থেকে বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোল

এবারে আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন নিয়ে একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন সাভারের ভাকুর্তা থেকে সাবিনা ইয়াসমিন:

''গত ২৫ মার্চ বিবিসি বাংলাতে শুনলাম এ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছে। সত্যিই এ্যান্টিবায়োটিক তেমন কাজ করছে না। সামান্য জ্বর বা মাথাব্যথা বা ছোটখাটো অসুখেও ঔষধ কাজ করছে না। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির প্রতি নজর দিবে।''

আপনাকে ধন্যবাদ মিন ইয়াসমিন। এ্যান্টিবায়োটিকের অনেক অপব্যবহার হয়। অনেকে কোন প্রয়োজন বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। আবার অনেকে শরীর ভাল লাগলেই পুরো কোর্স সম্পন্ন না করেই এ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করে দেন। এর ফলে এ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারাচ্ছে। কাজেই, শুধু কর্তৃপক্ষ না, পাবলিককেও সচেতন হতে হবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
ক্লাসরুমে মনোপলির আদলে একটি বোর্ডগেমের মাধ্যমে বয়ঃসন্ধিকালীন নানা শারিরীক পরিবর্তন সম্পর্কে জানছে শিক্ষার্থীরা।

পরের চিঠি বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে, লিখেছেন ভোলার মনপুরা থেকে মলয় কৃষ্ণ দাস:

''বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ে কিশোর, কিশোরীদের যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে আহরার হোসেনের রিপোর্টটি খুবই ভালো লেগেছে। আমি এক জনস্বাস্থ্য সহকারী হিসাবে বলবো, এটি একটি ভালো উদ্যোগ, প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে পারলে যৌন হয়রানি, সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ, স্তন ক্যানসার, জরায়ু মুখে ক্যানসার, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি প্রতিরোধ সম্ভব হবে।''

আপনাকে ধন্যবাদ মি: দাস। যৌন শিক্ষা নিয়ে এই প্রতিবেদন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলেই আমরা আশা করছি। আমাদের মতে যৌন স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যেটা সম্পর্কে কিশোর-কিশোরীরা সচেতন থাকলে পরবর্তীতে অনেক ভাল ফল নিয়ে আসবে।

এবারে আরেকটি আলোচিত বিষয়, ব্রেক্সিট নিয়ে একটি ছোট প্রশ্ন - পাঠিয়েছেন চট্টগ্রামের সন্দীপ থেকে মোহাম্মদ রেজাউল করিম:

''কোন্‌ বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্রেক্সিট করা হচ্ছে, অর্থাৎ ব্রিটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে কেন বের হতে চায়?''

ছবির কপিরাইট Darren Staples
Image caption নতুন সূর্যোদয়?: ইংল্যান্ডের লিঙ্কনশায়ারের বস্টন শহরের ভোটারদের ৭৫ শতাংশ ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেয়।

কোন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্রিটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বা ইইউ ছাড়তে চাইছে না। ব্রিটেনে অনেক রক্ষণশীল বা জাতীয়তাবাদী লোক মনে করেন ইইউতে থাকার ফলে ব্রিটেন তার সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে, যেহেতু ইইউ'র আইন এবং নির্দেশ মেনে চলতে হয়। আবার অনেকে মনে করেন ইইউতে থাকার ফলে পূর্ব ইউরোপ থেকে লোকজন অবাধে ব্রিটেনে চলে আসতে পারছে যেটা তারা পছন্দ করছেন না। এসব কারণে ব্রিটেনের বৃহৎ রক্ষণশীল দল টোরি পার্টির একটি বড় অংশ ইইউ ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল। এই বিতর্কের অবসান ঘটানোর জন্য ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গণভোটের আয়োজন করেন।

গণভোটে ৫২ শতাংশ মানুষ ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দিলে সংকট সৃষ্টি হয়, কারণ ইইউ ছাড়লে ব্রিটেনের অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নানা জটিলতা সৃষ্টি হবে। ইইউ দেশগুলো মূলত চায় না যে ব্রিটেনের মত বড় দেশ জোট ছেড়ে চলে যাক। ইইউ-ভুক্ত অনেক দেশ ব্রিটেনের সাথে অবাধ বাণিজ্য করে লাভবান হচ্ছে, আবার অনেক ইইউ দেশের লোকজন ব্রিটেনে অভিবাসী হিসেব বসবাস করছেন। এখন বিতর্ক হচ্ছে, ব্রিটেন আদৌ ইইউ ছাড়বে কি না, আর ছাড়লে কোন ধরণের চুক্তি করতে পারবে কি না। চুক্তি ছাড়া ছাড়তে হলে সংকট আরো ঘনীভূত হতে পারে, বিশেষ করে অর্থনীতিতে।

ছবির কপিরাইট Mike Kemp
Image caption আত্মঘাতী ব্রেক্সিট: ব্রিটেনে অনেকে মনে করেন ইইউ ত্যাগ করা নিজের পায়ে গুলি করার শামিল।

পরের চিঠি লিখেছেন রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রী কলেজ থেকে রামিম হাসান:

আমি বিবিসি বাংলার একজন নিয়মিত শ্রোতা । গত ২৭ শে মার্চ প্রবাহতে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে মাননীয় মন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে । একই দিনে, বিবিসির মিয়ানমার বিভাগের একটি সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশের অনেকেরই নজরে এসেছে । ভাষাগত সমস্যার জন্য সেই রিপোর্টটি বুঝতে পারিনি । আশা করি বিবিসি মিয়ানমারের সেই প্রতিবেদনটা বাংলাতে দেখার সুযোগ করে দিবেন।

''আমি আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারলাম না মি: হাসান। বিবিসি বার্মিজ এর প্রতিবেদন যদি বার্মিজ ভাষায় দেখে থাকেন যেটা আপনি পড়তে পারেননি, তাহলে সেটা বাংলাদেশে অনেকের নজরে আসলো কী করে? আমার জানা মতে বাংলাদেশের খুব একটা লোকজন নেই যারা বার্মিজ ভাষা পড়তে পারেন। তারা যদি স্থানীয় কোন পত্রিকায় তার বাংলা অনুবাদ পড়ে থাকেন, তাহলে আপনিও নিশ্চয় সেটা পড়ে নিতে পারেন। আপনাকে ধন্যবাদ।''

Image caption বোঝা কঠিন! বিবিসি বার্মিজ-এর ওয়েবসাইট।

আবার ফিরে আসছি ঢাকার বনানী অগ্নিকাণ্ড বিষয়ে। লিখেছেন ঢাকারই ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''বনানীর ভয়াবহ আগুনের লাইভ দেখলাম বিবিসি বাংলার ওয়েব সাইট ও ফেসবুকে। এই পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং আতঙ্কজনক। আমি যেমন আতঙ্কিত বিপদে পড়া মানুষদের নিয়ে, তেমনি আতঙ্কিত আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আমরাও কোন না কোন বিল্ডিং এ থাকি এবং কাজ করি। যে হারে ঢাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে এবং মানুষজন পুড়ে মারা যাচ্ছে, তা আমাদের আতঙ্কিত করে। আমরা এর সমাধান চাই।''

একই বিষয়ে আরেকটি চিঠি, লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

''যারা এই অগ্নিকান্ডের সাথে জড়িত সঠিক তদন্তর মাধ্যমে তাদের কঠোর শাস্তির বিধান করা উচিত । বাংলাদেশের বেশির ভাগ ভবনে অগ্নিনির্বাপ এর ব্যবস্থা থাকে না এবং ভবনে বিকল্প পথ দিয়ে বের হবার কোন সুযোগ ও নেই । কোন ভবনে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটলে জীবন রক্ষা করা জন্য ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সরকারের প্রতিটি ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার জন্য বিকল্প পথ ব্যবস্থার বিধান করা উচিত, তাহলে অগ্নিকান্ড ঘটলে ও প্রাণহানি ঘটার ব্যবস্থা থাকবে না।''

আপনাদের সাথে সবাই যে একমত হবেন, তা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই শামীমউদ্দিন শ্যামল এবং আরিফুল ইসলাম। সবাই এর সমাধান চায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সমাধান করতে যে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তার জন্য যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সাহসের প্রয়োজন, সেটা কর্তৃপক্ষের আছে কি না? যদি থাকে, তাহলে সময় লাগলেও সমাধান অবশ্যই হবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption আস্থার অভাব?: নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদে ঢাকায় বামপন্থীদের নীরব বিক্ষোভ।

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে জহিন মমতাহিনাহ:

''জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের সহায়তায় রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল জয়লাভ করেছে, এই অভিযোগ করে বিরোধী সকল জোট উপজেলা নির্বাচন বয়কট করেছে। ফলে উপজেলা নির্বাচন অনেকটা এক তরফা ভাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ কারণে স্বভাবতই ভোটের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ একেবারেই কম। কোথাও কোথাও ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের চেয়ে ভোটার উপস্থিতি আরও কম কিংবা কোন কোন বুথে শূন্য ভোট পড়ার নজির রয়েছে।

অনেকে অভিযোগ করে বলছেন, প্রকারান্তরে ভোটের অনিয়মের কারণে ভোটদান পদ্ধতির অপমৃত্যু ঘটেছে। বিবিসির কাছে আমার প্রশ্ন, এ অভিযোগটি কতটুকু সত্য?''

সংসদ নির্বাচনের পর ভোটের প্রতি মানুষের আগ্রহে যে ভাটা পড়েছে, তা আমরা ঢাকা উত্তরের মেয়র নির্বাচনেই লক্ষ্য করলাম, এবং সেটা আরো পরিষ্কার হয়েছে এই উপজেলা নির্বাচনে। তবে এর মাধ্যমে ভোটদান পদ্ধতিরই অপমৃত্যু হয়েছে, এ'কথা বলার সময় এসেছে বলে আমার মনে হয়না। বাংলাদেশের রাজনীতি যে একটি জটিল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনমুখী। আমি নিশ্চিত বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে আবার প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি ফিরে আসবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

পরের চিঠি লিখেছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে আতিকুর রহমান:

''বিবিসি বাংলা যদি বাংলাদেশের সকল উপজেলার সংবাদগুলো প্রচার করতো তাহলে মফস্বল এলাকার দুর্নীতি অনেকাংশেই কমে যেতো। কারণ, বিবিসি একটি সর্বাধিক জনপ্রিয় নিউজ মিডিয়া। মুহূর্তেই সব খবরগুলো হাজারো মানুষ পেয়ে যাচ্ছে, তাই রাষ্ট্রের সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তি অনেকটা সাবধানে কর্তব্য সম্পাদন করতেন বলে আমি মনে করি।''

বিবিসি ওপর আপনার এই বিশাল আস্থার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মি: রহমান। আমরা যতটুকু পারি আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি, তাতে যদি আপনাদের কাছে ক্ষমতাবানদের জবাবদিহিতা কিছুটা হলেও বারে, সেটাই আমাদের সাফল্য বলে গণ্য করবো।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

পলাশ চন্দ্র রায়, বোদা, পঞ্চগড়।

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পাবনা।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন মাষ্টার, ভাকুর্তা, সাভার।

এস,এম,এ হান্নান, চাটমোহর, পাবনা।

মোহাম্মদ সোহেল রানা, নারায়ণগঞ্জ।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।

শাহাবউদ্দিন ফরহাদ, সিলেট।

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/