ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স বিমান দুর্ঘটনা: শেষ মুহূর্তের কিছু তথ্য

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান। ছবির কপিরাইট JONATHAN DRUION
Image caption ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান।

তিন সপ্তাহ আগে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে দেড়শোজনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে তার শেষ মুহূর্তের বিস্তারিত তথ্য ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

ওই দুর্ঘটনার জন্য বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের এন্টি-স্টলিং সিস্টেমকে দায়ী করা হচ্ছে।

উড়ান শুরু করার মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে আরোহীদের সবাই, অর্থাৎ মোট ১৫৭ জন নিহত হয়।

বলা হচ্ছে, বিমানটি মাটি থেকে মাত্র সাড়ে চারশো ফুট উপরে উঠার পরেই বিমানের নাকটি সামনের দিকে নেমে যেতে শুরু করে।

তখন একজন পাইলট আরেকজন পাইলটকে উদ্দেশ্য করে 'উপরে তোল, উপরে তোল' বলে চিৎকার করতে থাকেন বলে খবর দিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

পত্রিকাটি বলছে, এই দুর্ঘটনার তদন্তের সাথে যারা জড়িত তাদের সাথে তারা কথা বলে এসব জানতে পেরেছে। তারা বলছে, এখনও পর্যন্ত যেসব তথ্য তারা পেয়েছে তাতে মনে হচ্ছে, বিপর্যয়কর এক ব্যর্থতার ঘটনা ঘটেছিল যা খুব দ্রুত বিমানের ক্রু সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইথিওপিয়াতে এখনও তদন্ত চলছে।

তদন্তে পাওয়া যেসব তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে তাতে মনে হচ্ছে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথেই বিমানের এন্টি-স্টল সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে গিয়েছিল।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption নিহতদের স্বজনের আহাজারি।

আরো পড়তে পারেন:

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স: নতুন প্রযুক্তিই কি দুর্ঘটনার কারণ?

একের পর এক দেশ নিষিদ্ধ করছে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এইট ওড়া বন্ধ করেছে ভারতও

এর আগে গত অক্টোবর মাসে ইন্দোনেশিয়াতে লায়ন এয়ারের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল তাতেও একইভাবে এই ম্যানুভারিং ক্যারেক্টারিস্টিকস অগমেন্টেশন সিস্টেম আপনা আপনি চালু হয়ে গিয়েছিল।

সেটাও ছিল বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের। জাকার্তা থেকে উড়ান শুরু করার কিছুক্ষণ পরেই সেটি বিধ্বস্ত হয় এবং তাতে নিহত হয় বিমানে থাকা ১৮৯ জনের সবাই।

লায়ন এয়ারের ওই দুর্ঘটনার তদন্তে দেখা গেছে, এন্টি-স্টল সিস্টেমটি ঠিক মতো কাজ করেনি। ফলে বিমানের সামনের দিকে নাকটি হঠাৎ করেই নিচের দিকে নেমে যেতে শুরু করে।

বলা হচ্ছে, সাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটির সামনের অংশ কুড়িবারেরও বেশি নিচের দিকে নেমে গিয়েছিল।

ইথিওপিয়ায় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে এই দুটো বিমান দুর্ঘটনার মধ্যে 'পরিষ্কার কিছু মিল' রয়েছে।

তদন্তের যেসব খবরাখবর আগেই ফাঁস হয়ে গেছে সেসব বিষয়ে এয়ারলাইন এবং কর্তৃপক্ষের তরফে মন্তব্য করার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের দুর্ঘটনার পর বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের সব বিমানের উড়ান বন্ধ করে সেগুলো বসিয়ে রাখা হয়েছে।

আরো পড়তে পারেন:

ঢাকার অবৈধ ভবনগুলো টিকে আছে কীভাবে

এক নারীর দুই জরায়ু থেকে জন্মালো তিন সন্তান

ভারতীয় নির্বাচন: চায়ের গ্লাসেও 'চৌকিদার' স্লোগান কেন?

মৃত মস্তিষ্ক নিয়েও সন্তান জন্ম দিলেন এক নারী