ঢাকায় অগ্নি নিরাপত্তা: অবৈধ ভবন শনাক্ত করার পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

ঢাকায় অসংখ্য বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে যেগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ঢাকায় অসংখ্য বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে যেগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ঢাকার বনানীতে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ২৬জন মারা যাওয়ার পর, অপরিকল্পিত ও অবৈধ ভবন শনাক্তে ১৫দিন ব্যাপী একটি অভিযান শুরু হচ্ছে আজ (রবিবার)।

বনানীর অগ্নিকাণ্ডের শিকার ভবনটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, সেটি নকশা বর্হিভুতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখানে অগ্নি নির্বাপনের যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না।

দমকল বিভাগ বলছে, ঢাকার বেশিরভাগ ভবনে অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা নেই।

এসব নিয়ম ভঙ্গকারীরা কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় এরকম কর্মকাণ্ড চালালেও তাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার উদাহরণ বিরল।

বিশেষ করে রাজউক বা সিটি কর্পোরেশন, যাদের এসব ভবন নজরদারি করার দায়িত্ব, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে ভবন মালিকদের কাছ থেকে নানারকম সুবিধা নিয়ে তারাই এসব অনিয়মের প্রশ্রয় দেন।

বাংলাদেশের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী রেজাউল করিমের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল এরকম ক্ষেত্রে সেই রাজউক, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে কতটা কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব?

তিনি বলেন, "দেখুন, দীর্ঘদিন জমে থাকা জঞ্জাল দূর করতে কিছুটা সময় লাগবে সেটা স্বাভাবিক।"

তিনি আরো বলেন, "যারা দীর্ঘদিন ধরে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে নি, তাদের সামান্য সুযোগ দিয়ে অ্যাকশনে যেতে চাই।"

বনানী আগুন: ছবিতে উদ্ধার তৎপরতা

আগুন থেকে পালানোর সিঁড়ি ছিল তালাবন্ধ

ঢাকার সব বহুতল ভবন পরিদর্শন করা হবে: মন্ত্রী

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
বনানী আগুন: উদ্ধার পেতে হাত নেড়েছেন অনেকে

কী পদক্ষেপ নিবে সরকার?

মি. করিম বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুর্নীতি, অনিয়মের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

"বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট বা বিল্ডিং কোড বা ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত যে সকল শর্তাবলী দেয়া হয়, সেগুলো যারা প্রতিপালন করেনি তাদের সময় দিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়া হবে।"

যারা এর মধ্যেও শর্তাবলী মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, বলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী।

ব্যবস্থা হিসেবে ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা, ভবন বন্ধ করে দেয়া বা দোষীদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলে জানান মি. করিম।

তিনি জানান, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

"যদি এজাতীয় অনিয়মের সাথে ডেভেলপার, মালিক কিংবা রাজউক বা আমার দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকে তাকেও আলাদা কোনো অনুকম্পা দেখানো হবে না।"

অভিযোগ আছে, অবৈধভাবে নির্মিত ভবনের অনেকগুলোরই মালিক আর্থিক বা রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

এই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা কতটা সম্ভব হবে - সে প্রশ্নের জবাবে মি. করিম বলেন, "দূর্নীতি বা অন্যায়ের আশ্রয় নেয়া ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক, তাঁকে ছাড় না দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে।"

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
ঘটনাস্থল থেকে বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোল

সম্পর্কিত বিষয়