বনানী আগুন: আপনার বহুতল ভবন কি আগুনের হাত থেকে নিরাপদ

এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার পর আতংকিত হয়ে অনেকেই ভবনের গা বেয়ে নামার চেষ্টা করেন। ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার পর আতংকিত হয়ে অনেকেই ভবনের গা বেয়ে নামার চেষ্টা করেন।

ঢাকার বনানীতে ২০ তলা একটি বহুতল ভবন। ভবনটিতে ঢুকতে গিয়ে নিচ তলায় কোন অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র চোখে পড়লো না।

লিফটের সামনে কয়েক হাত ফাঁকা জায়গা। তার পাশেই একমাত্র সিঁড়ি। এছাড়া আলাদা কোন সিঁড়ি কিংবা ফায়ার এক্সিট নেই।

ভবনটির ১৪ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকি। কোন ফ্লোরেই ফায়ার এলার্ম কিংবা অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র চোখে পড়লো না।

ভবনটির দশম তলায় একটি বেসরকারি অফিস। সেই অফিসে কর্মরত একজন জানালেন, ভবনটিতে গত একবছরে অগ্নি-নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা দেখেন নি তিনি।

"এখানে আমি একবছর চাকরি করি। কোথাও কোন ফায়ার ফাইটিংয়ের যন্ত্রপাতি দেখি নি। আমাদের অফিসেও নেই। ভবন কর্তৃপক্ষেরও নেই। এমনকি এখানে তো জরুরি নির্গমনের জন্য আলাদা কোন সিঁড়িও নেই।"

মাইনুদ্দীন খান নামে আরেকজন বলছিলেন, ভবনটিতে অগ্নি নিরাপত্তার কিছুই নেই।

এসবের মধ্যেই ভবনটি ব্যবহার করছেন? এই প্রশ্নে তার জবাব, "আশেপাশে সব ভবনই তো এভাবেই চলছে।"

কিন্তু আগুন লাগলে আপনাদের নিজেদের কী প্রস্তুতি আছে?

তার খেদোক্তি, "নাথিং।"

ভবনটি থেকে বেরিয়ে আসি।

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption বাংলাদেশে বহুতল ভবনগুলো কতটা অগ্নি ঝুঁকিমুক্ত সে বিষয়ে কার্যকর কোন নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

আরো পড়তে পারেন:

"নিঃশ্বাস নিতে না পেরেই মানুষগুলো ঝাঁপ দিয়েছিল"

বনানীর আগুন কি আরো আগে নেভানো যেতো?

কী হয়েছিল মাদ্রিদে উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসে

বাংলাদেশে এরকম ভবন আরো আছে। যদিও তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই কারো কাছে।

তবে ২০১৭ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রায় ৪,০০০ বহুতল ভবনে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জরিপ চালায় ফায়ার সার্ভিস।

সেই জরিপে দেখা যায়, ৯৬ শতাংশ ভবনই অগ্নি-নিরাপত্তার ঝুঁকিতে আছে।

ভবনের এই কাঠামোগত ঝুঁকির সঙ্গে যোগ হচ্ছে, ভবন ব্যবহারকারীদের সচেতনতার অভাব।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ভবন ব্যবহারকারীরা অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রের ব্যবহার সঠিকভাবে জানেন না। আগুন লাগলে কী করতে হবে সে বিষয়েও ধারণা নেই, প্রশিক্ষণও নেই।

ঢাকার মতিঝিলে যেখানে নতুন-পুরনো অসংখ্য বহুতল ভবন আছে, সেখানেই কয়েকজন চাকুরীজীবীর সঙ্গে কথা বলি আমি।

এদের মধ্যে মোহসেনা বেগম নামে একজন বলছিলেন, "আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের ব্যবহার জেনেছি। কিন্তু এছাড়া আর কিছু জানি না। আগুন লাগলে কী করবো সেটা আসলে ওভাবে ভাবা হয়নি।"

রেজাউল করীম নামে আরেকজন বলছিলেন, তাদের অফিসে কখনো কোন ফায়ার ড্রিল কিংবা মহড়া হয়নি। হলে হয়তো করণীয় সম্পর্কে জানতে পারতেন।

করণীয় কী?

স্থপতি ইকবাল হাবিব মনে করেন, এখন থেকেই জরুরি ভিত্তিতে সকল ভবন অডিটের ব্যবস্থা করতে হবে রাজউককে। এবং যেসব ভবন সংশোধন দরকার, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে পুনর্গঠন করতে হবে। আর যেগুলো সংশোধন অযোগ্য সেগুলো ভেঙ্গে ফেলতে হবে।

একইসঙ্গে ভবন ব্যবহারকারীদের জন্য মহড়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। এক্ষেত্রে যেমন ভবন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিতে পারে। তেমনি ফায়ার সার্ভিসকেও এগিয়ে আসতে হবে।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
বনানী আগুন: কালো ধোঁয়া থেকে যেভাবে বাঁচলেন লামিয়া

সম্পর্কিত বিষয়