ভারতে লোকসভা নির্বাচন ২০১৯: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বারাণসীতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন যারা

প্রধানমন্ত্রীর আসন বারাণসী দেশের সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রধানমন্ত্রীর আসন বারাণসী দেশের সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র

ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বারাণসী আসনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ঘোষণার যেন হিড়িক পড়ে গেছে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে অত্যন্ত খারাপ মানের খাবার দেওয়া হয়, প্রকাশ্যে এই অভিযোগ তুলে বিএসএফ থেকে বরখাস্ত হওয়া এক জওয়ান যেমন জানিয়েছেন, তিনি বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবেন।

কৃষকদের দুর্দশার দিকে দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তামিলনাডু রাজ্যের ১১১জন ঋণগ্রস্ত চাষীও বারাণসীতে মনোনয়ন জমা দেবেন বলে আগেই ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া বিরোধী কংগ্রেসের তারকা ক্যাম্পেনার প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পর্যন্ত নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনিও বারাণসী থেকে ভোটে লড়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে টক্কর নিতে পারেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption নিজের কেন্দ্রে পূজা করছেন নরেন্দ্র মোদী।

আরো পড়তে পারেন:

এফ আর টাওয়ার মালিকদের বিচার হবে কোন আইনে

"নিঃশ্বাস নিতে না পেরেই মানুষগুলো ঝাঁপ দিয়েছিল"

বনানীর আগুন কি আরো আগে নেভানো যেতো?

কী হয়েছিল মাদ্রিদে উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসে

ভারতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী যখন নিজের রাজ্য গুজরাটের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে লড়েছিলেন, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে সেটা ছিল একটা মাস্টারস্ট্রোক।

উত্তরপ্রদেশসহ গোটা হিন্দি বলয়ে মোদীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে তা বিরাট সাহায্য করেছিল।

পরে গুজরাটে জেতা ভাদোদরা আসনটি ছেড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী হিন্দুদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে গণ্য বারাণসীর এমপি-ই রয়ে গিয়েছিলেন।

এবারেও তিনি লড়বেন সেই বারাণসী থেকেই - কিন্তু সেখানে প্রায় রোজই জুটছে তার নতুন নতুন চ্যালেঞ্জার।

যেমন হরিয়ানার সাবেক বিএসএফ কনস্টেবল তেজ বাহাদুর যাদব।

ছবির কপিরাইট India Today
Image caption সাবেক বিএসএফ সদস্য তেজ বাহাদুর যাদব

বিএসএফে জওয়ানদের যে কত নিকৃষ্ট মানের খাবার দেওয়া হয়, তার একটি ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেছিলেন তিনি - যার জেরে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেলেও তাকে বাহিনী থেকে বরখাস্ত হতে হয়।

হরিয়ানার রেওয়ারির এই বাসিন্দা এখন ঘোষণা করেছেন, সামরিক বাহিনীর ভেতরে যে দুর্নীতি আছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ভোটে লড়বেন।

তার স্থির বিশ্বাস, "এতে বাহিনীতে তার সতীর্থদের মনোবল বাড়বে, তারা এটা ভেবে ভরসা পাবেন যে তাদের একজন সাথী দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে প্রধানমন্ত্রীকেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে পারছেন!"

তেজ বাহাদুর যাদব তবু একা - কিন্তু তামিলনাডুর দুর্দশাগ্রস্ত কৃষকরা আবার নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে লড়তে আসছেন একশো এগারোজন মিলে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption দিল্লিতে একটানা বহুদিন ধরে নানা অভিনব পন্থায় আন্দোলন করে গেছেন তামিল নাডুর কৃষকরা

ঋণ মওকুফ ও কৃষিপণ্যের সঠিক দামের দাবিতে এর আগে তারা দিল্লিতে লাগাতার অনশন করেছেন, কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি বলেই তাদের অভিযোগ।

সে রাজ্যের কৃষক নেতা পি আয়াকান্নু এখন ঘোষণা করেছেন, সরকারের টনক নড়াতে তাই তারা ১১১জন গরিব কৃষককে মোদীর বিরুদ্ধে দাঁড় করাবেন।

তিনি বলছেন, "নিজেদের অধিকারের জন্য ১৪১ দিন ধরে দিল্লিতে আন্দোলন করার পরেও কেন্দ্র আমাদের ফসলের লাভজনক দাম দেয়নি।"

"প্রধানমন্ত্রী চাষীদের ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু আজও তারা ঋণের জালে জড়িয়ে ধুঁকছে।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বারাণসীতে কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। মার্চ, ২০১৯

"এই জন্যই আমরা তার বিরুদ্ধে লড়ব - মানুষের কাছে অনুরোধ জানাব, আমাদের জামানতের টাকা জোগাড়ে সাহায্য করুন।"

ভারতে একজন প্রার্থীকে কোনও লোকসভা আসলে লড়তে হলে ২৫ হাজার রুপি নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়, ফলে তামিলনাড়ুর শতাধিক কৃষককে বারাণসীতে শুধু মনোনয়ন জমা দিতেই মোট প্রায় আঠাশ লক্ষ রুপি জোগাড় করতে হবে।

তবে জামানতের অঙ্কটা যাদের জন্য কোনও দুশ্চিন্তার বিষয় নয়, এমন কোনও কোনও প্রার্থীকেও বারাণসীতে মোদীর বিরুদ্ধে লড়তে দেখা যেতে পারে।

যেমন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সক্রিয় রাজনীতিতে নামার পর থেকেই তিনি বেকারত্ব বা কালো টাকার প্রশ্নে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আক্রমণ করে চলেছেন, নিজে বারাণসীতে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারও করেছেন। ইঙ্গিত দিয়েছেন বারাণসী থেকে তার ভোটে লড়াও অসম্ভব নয়।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বারাণসীতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গত নির্বাচনে তিনিই ছিলেন মোদীর প্রধান চ্যালেঞ্জার

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, দল চাইলে তিনি অবশ্যই ভোটে লড়বেন।

যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে রায়বেরিলি বা আমেথি আসনের কথা, তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন, "বারাণসীতে কেন নয়?"

গত নির্বাচনে এই আসনে মোদীর বিরুদ্ধে ছিলেন আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

এবারে তিনি না-থাকলেও বিরোধী সমাজবাদী ও বহুজন সমাজ পার্টি জোটের প্রার্থীও লড়াইতে থাকবেন।

এছাড়াও উত্তরপ্রদেশের দলিত সংগঠন 'ভীম আর্মি'র নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ 'রাবণ'ও বারাণসীতে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন বলে ঘোষণা করেছেন।

ফলে নরেন্দ্র মোদীর মোকাবিলা হবে পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে আম আদমি অ্যাক্টিভিস্ট - সবার সঙ্গেই!