বনানী আগুন: এফ আর টাওয়ার মালিকদের বিচার হবে কোন আইনে

বনানী আগুন, ঢাকা , বাংলাদেশ ছবির কপিরাইট K M ASAD
Image caption বনানীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবনটির মালিকদের দু'জন এখন গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে রযেছেন

বাংলাদেশে ঢাকার বনানীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঐ ভবনের মালিকদের দু'জনকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেফতার দেখিয়ে সাতদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে তাদের গ্রেফতারের পর আজ আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

পুলিশ বলেছে,ভবনটির নির্মাণ থেকে শুরু করে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সবক্ষেত্রে ত্রুটি ছিল। সেজন্য পারস্পরিক যোগসাজশে অবহেলা এবং উদাসীনতার কারণে হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিচার কোন আইনে হবে? বহুতল ভবনে ঝুঁকি বা কোনো ঘাটতির বিষয়ে আইনেই বা কী বলা হয়েছে?

বনানীর এফ আর টাওয়ারের মালিকদের দু'জন তাসভীর উল ইসলাম এবং এস এম এইচ আই ফারুককে আজ রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে ১০দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল।

অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আদালত দু'জনের সাতদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।

তারা আত্নগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশ বলেছে।

তবে মামলায় অভিযুক্ত এই দু'জন গ্রেফতার হলেও মালিকদের আরেকজন আত্মগোপনে গেছেন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি পুলিশের উপ কমিশনার মশিউর রহমান বলেছেন, অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে গ্রেফতাকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

"অভিযুক্তরা পারস্পরিক যোগসাজশ করে ভবন নির্মাণের নকশার বাইরে ১৮ তলা থেকে ২৩ তলা করেছে। ভবনে জরুরি সিঁড়ি যা ছিল বলে বলা হচ্ছে, সেটাকে বিকল্প সিঁড়ি বলা যায় না। এরকম অনেক ক্রুটি ছিল। সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয়েছে ৩০৪ এর 'ক' ধারায়।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption রাজউকের ২৪টি দল আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকা নগরীর সব বহুতল ভবন পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করবে

আরো পড়তে পারেন:

"নিঃশ্বাস নিতে না পেরেই মানুষগুলো ঝাঁপ দিয়েছিল"

বনানীর আগুন কি আরো আগে নেভানো যেতো?

কী হয়েছিল মাদ্রিদে উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসে

আইনজীবীরা বলছেন, এর আগে বিভিন্ন সময় অবহেলাজনিত কারণে প্রাণহানি বা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তের পর সেগুলোকে সরাসরি হত্যা মামলায় রুপান্তর করা হয়েছে। তবে সেটা তদন্তে পাওয়া তথ্য প্রমাণের ওপর নির্ভর করে।

ফৌজদারী আইনের একজন আইনজীবী শামীম আরা শাম্মী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার বিচারের আইনেও এখন জামিন অযোগ্য করে শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ফলে এই আইনেই কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেছেন, অবহেলাজনিত প্রাণহানির অভিযোগের বিচার হয় ফৌজাদারী অপরাধ হিসেবে ।

"অবহেলাজনিত প্রাণহানির আইনে আগে জামিনযোগ্য ছিল। আইনে সংশোধন করে জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। এছাড়া সাজাও যাবজ্জীবন করা হয়েছে। এই অভিযোগ ফোজদারী মামলা হিসেবে বিচার হবে।"

নগর পরিকল্পনাকারীদের অনেকে বলছেন, বনানীর ঘটনায় অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে বিচার হলে এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গত ২৮শে মার্চ বনানীতে এই অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৬জন নিহত এবং ৭০ জনের মতো আহত হয়।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
বনানী আগুন: কালো ধোঁয়া থেকে যেভাবে বাঁচলেন লামিয়া

সেদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পূর্ত মন্ত্রী স ম রেজাউল করিম বলেছিলেন, ঘটনাটিক তিনি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করেন।

এখন মামলাতেও সেই অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এর যেন বিচার হয়, সেই নিশ্চয়তা চাইছেন নগরপরিকল্পনাকারীদের অনেকে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেছেন, আইন না মেনে ভবন নির্মাণ করা হলে কঠোর সব ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা আছে। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়ায় তার প্রভাব চোখে পড়ে না।

"নিয়ম মেনে নির্মাণ না করলে ভবনের ব্যবহার বাতিল হয়ে যায়। গ্যাস, পানি এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বাতিল হয়। সেটা যে বসবাসের যোগ্য নয়, সেই নোটিশ ভবনের সামনে ঝুলিয়ে দিতে হয়। এগুলো সবই আইনে আছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলেও ভবন মালিকদের অনিয়ম করার প্রবণতা কমতো। তবে অবহেলাজনিত হত্যাকান্ডের মামলায় বিচার হলে, সেটা এ ধরনের ভবন মালিকদের মাঝে একটা ভয় সৃষ্টি করবে। সেটা ইতিবাচক হবে।"

পূর্ত মন্ত্রনালয় বলেছে, রাজউকের ২৪টি দল আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকা নগরীর সব বহুতল ভবন পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করবে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ভবনের সংখ্যা এত বেশি যে, সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার পর কতটা ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে, এনিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়