ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স বিমান দুর্ঘটনা: পাইলটদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে

ছবির কপিরাইট JONATHAN DRUION
Image caption ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান।

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের যে বিমানটি গত মাসে বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি পুরোপুরি মাটিতে পড়ে যাবার আগে সেটির সামনের অংশ কয়েকবার নিচের দিকে নেমে এসেছিল।

বোয়িং এর নির্ধারিত ম্যানুয়াল মেনে এ সময় পাইলটরা সেটিকে ঠিক করার জন্য বারবার চেষ্টা করেছে।

প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে এ কথা উঠে এসেছে।

বোয়িং এর শীর্ষ কর্মকর্তা এ প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন যে বিমানের অ্যান্টি-স্টল সিস্টেমের কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

ইথিওপিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রী বলেছেন, বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও পাইলটরা বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।

গত পাঁচ মাসের মধ্যে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান দ্বিতীয়বারের মতো বিধ্বস্ত হয়।

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রুরা বিমানটি পরিচালনার জন্য পুরোপুরি দক্ষ ছিলেন। তারা সব ধরণের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে করেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে এই প্রতিবেদনে বিমানের অ্যান্টি-স্টলিং সিস্টেমকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি।

এক পর্যায়ে বিমানের ক্যাপ্টেন অপর পাইলটকে উদ্দেশ্য করে 'উপরে তোল, উপরে তোল' বলে চিৎকার করতে থাকেন।

বিমানের ক্যাপ্টেন ফার্স্ট অফিসারকে নির্দেশ দেয় কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ করতে।

বিমানটি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হবার বিষয়টি কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানানোর জন্য ক্যাপ্টেন ফার্স্ট অফিসারকে নির্দেশ দেয়।

এদিকে বোয়িং এর প্রধান নির্বাহী ডেনিস মুলেনবার্গ বলেছেন, যাত্রীদের আস্থা ফেরানোর জন্য সংস্থাটি সব ধরণের কাজ করবে।

আরো পড়তে পারেন:

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স: নতুন প্রযুক্তিই কি দুর্ঘটনার কারণ?

বাংলাদেশ বিমানে অস্ত্রধারী উঠলো কিভাবে

বিমান ছিনতাই চেষ্টা নিয়ে কর্তৃপক্ষের যত বক্তব্য

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বিভিন্ন দেশে ম্যাক্স ৭৩৭ বিমানের উড্ডয়ন আপাতত বন্ধ রয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন যে অ্যান্টি-স্টলিং সিস্টেমে ত্রুটি থাকার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় লায়ন এয়ার এবং ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান দুটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

মি: মুলেনবার্গ জানান, অ্যান্টি-স্টলিং সফটওয়্যারের ত্রুটি সংশোধন এবং পাইলটদের জন্য নতুন নির্দেশিকা দেবার পর বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স হবে সবচেয়ে নিরাপদ বিমান।

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৫৭ জন আরোহীর সবাই মারা যাওয়ার পর বোয়িং-এর এই মডেলের বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একের পর এক দেশ বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের উড্ডয়ন বন্ধ রেখেছে।

বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে

বোয়িংয়ের সফল ৭৩৭ বিমানের সর্বশেষ মডেলটি হচ্ছে ম্যাক্স (৭, ৮,৯ এবং ১০)।

এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বোয়িং বিভিন্ন ধরণের ৫,০১১ টি ম্যাক্স বিমানের অর্ডার পেয়েছে। এখন পর্যন্ত সরবরাহ করেছে ৩৫০টি।

রোববার ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেল।

বোয়িংয়ের কাছ থেকে এরকম ৩০টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে ইথিওপিয়ার এই বিমান সংস্থা।

গত বছর অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের যে বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছিল সেটিও ছিল ৭৩৭ ম্যাক্স।

পাঁচ মাসের মধ্যে এই মডেলের আরো একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, বোয়িংয়ের এই মডেল নিরাপদ নয় - এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

যেভাবে রাতারাতি ইউটিউব তারকা হলেন এক তরুণী

যে কারণে বাকশাল নিয়ে এত বিতর্ক

রাশিয়ার অস্ত্র কেনা নিয়ে তুরস্ককে হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

ভবনের অকুপেন্সি বা ব্যবহার সনদ আসলে কী?

কমিটির সুপারিশ: কী বলছে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা?

সম্পর্কিত বিষয়