আড়াই মাসের শিশু নিয়ে আদালতে স্বামী-স্ত্রী, নারী নির্যাতন আইনের ১১(গ) ধারা বদলের নির্দেশ

হাইকোর্ট, উচ্চ আদালত, বাংলাদেশ, ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের একটি ধারা সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

সাত বছর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন বাংলাদেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামের একজন নারী।

সেই মামলায় তার স্বামীর তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে রায় ও জরিমানার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি মামলা করেন সেই স্বামী।

কিন্তু এর মধ্যে তাদের মধ্যে মিল হয়ে যায়। যখন আদালতে মামলা চলছে, তখন এই যুগল একসঙ্গে ঘর-সংসারও করছেন। কিছুদিন আগে তাদের একটি সন্তানও হয়েছে।

বুধবার আড়াই মাসের সন্তানকে নিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে হাজির হয়েছিলেন এই দম্পতি।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ওনাদের সংসার চলছে, কিছুদিন আগে একটি বাচ্চাও হয়েছে।

"সেই আড়াই মাসের বাচ্চা নিয়ে আজকে এই ভদ্রমহিলা আদালতে এসেছেন।"

আরো পড়ুন:

বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা কতটা হয়?

পঁচিশতম স্ত্রীর করা মামলায় স্বামী গ্রেফতার?

'পুরুষ অধিকার' রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছেন যারা

"আদালত দেখলেন যে, মামলাও চলছে আবার তারা সংসারও করছেন, দুজনের জন্যই এটা বিব্রতকর অবস্থা।"

তিনি জানান, আড়াই মাসের একটি শিশুকে নিয়ে তাদের আদালতে আসতে হচ্ছে দেখে আদালত "খানিকটা আবেগপ্রবণ" হয়ে পড়ে।

"আদালত বলেছেন এটা আমাদের জন্য যেমন বিব্রতকর অবস্থা, তেমনি এই দম্পতির জন্যও বিব্রতকর অবস্থা,'' বলছেন মি. মোর্শেদ।

''এ কারণে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই সাজার রায়টি বাতিল করে দিয়েছেন।"

সেই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয় এবং মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে যে, এই আইনের ১১ (গ) ধারাটিকে সংশোধন করে আপোষযোগ্য করার জন্য, জানান তিনি।

কী বলা আছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (গ) ধারায়

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (গ) ধারা অনুযায়ী, যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষের কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর সাধারণ জখম করেন, তাহলে দায়ী ব্যক্তি অনধিক তিন বছর কিন্তু অন্যূন এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

এই ধারাটি জামিন অযোগ্য।

তবে আগামী ছয়মাসের মধ্যে একে সংশোধন করে 'আপোষযোগ্য' করার জন্যই হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন মি. মোর্শেদ।

সংশোধন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালগুলোকে এই ধারাটি 'আপোষযোগ্য' বলে বিবেচনা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে স্বামী-স্ত্রী চাইলে এই মামলায় আপোষ করতে পারেন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

সোনাগাজীর ওসি প্রত্যাহার, 'শম্পাকে' পায়নি পুলিশ

রাসেল সরকারকে পাঁচ লাখ টাকা দিল গ্রিন লাইন

জামায়াত কি সংস্কারের পথ থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে?

গভীর রাতে হাইকোর্ট মাজারের সিন্দুক ভাঙলো কে?

সাবেক বিচারপতিও বিচারের আওতামুক্ত নন- হাইকোর্ট