এডিটার'স মেইলবক্স: একদিকে নুসরাত হত্যা অন্যদিকে আহমদীয়া বিতর্ক

ঢাকা মেডিকাল কলেজ হাসপাতালে বোন নুসরাত জাহানের মরদেহ সংগ্রহ করতে দিয়ে ভেঙ্গে পরেন ভাই, ১১-০৪-২০১৯। ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption প্রিয়জন হারানোর বেদনা: ঢাকার হাসপাতালে বোন নুসরাত জাহানের মরদেহ সংগ্রহ করতে দিয়ে ভেঙ্গে পরেন ভাই।

বিবিসি বাংলার শ্রোতা, দর্শক এবং পাঠকদের মধ্যে এ'সপ্তাহে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় নি:সন্দেহে ছিল ফেনীতে নুসরাত জাহান নামক একজন মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন এবং পরবর্তীতে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনা।

এ'বিষয়ে কয়েকটি চিঠি এসেছে, তার মধ্যে একটি দিয়ে আজ শুরু করছি, লিখেছেন টাঙ্গাইলের সরকারি ম্যাটস থেকে বিলকিস আক্তার:

''ধর্ষণ একটি অসুখ। যার সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, তার পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা কী হয়, ধর্ষক কখনো তা অনুভব করে না। ধর্ষণের ফলে ভিকটিম সমাজে নানাভাবে অবহেলা, এমনকি বঞ্চনার শিকার হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, অফিসে ও বাড়িতে সে অপমানিত জীবন যাপন করে। আমরা অনেকে মানবতার কথা বলি। কিন্তু কেউ এর শিকার হলে সেই মানবিক বোধ যেন উবে যায়। প্রতিদিন দেশের কোন না কোন স্থানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন ও কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।''

আমি আপনার সাথে একমত মিস আক্তার, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে ধর্ষণের শিকার নারী যেন পুনরায় সামাজিক নিপীড়নের শিকার না হন, তার ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ যেমন দরকার, তেমনি নির্যাতিত নারী অভিযোগ নিয়ে এগিয়ে আসার পর তার নাম-পরিচয় যাতে কোনভাবেই প্রকাশ না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে, নির্যাতিত নারীরা সাক্ষ্য দিতে এগিয়ে আসবে না এবং অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption প্রতিবাদ: নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ।

একই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও থেকে বৃত্তি রায়:

''বড় দু:খের সাথে বলতে হচ্ছে, নুসরাত এর মত হাজার হাজার মেয়ের শুধু কষ্টের মৃত্যু সংবাদ আমরা সকলে দেখতে পাই। কিন্তু ধর্ষকের পরিণতি সাজা আমরা কি দেখতে পাই?''

আসলেই, বাংলাদেশে যত ধর্ষণ নিয়ে মামলা হয়, তার কয়টি অভিযুক্ত ব্যক্তির সাজার মধ্য দিয়ে শেষ হয়? খুবই কম। এবং মামলার সফল পরিচালনা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত অপরাধীর মনে ভয় ঢুকবে না, তারা তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে উৎসাহ পাবে। কাজেই, শুধু অভিযোগ, মামলা আর গ্রেফতার না, মানুষ সফল বিচার দেখতে চায়। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট সাতবি
Image caption যৌন হয়রানি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মেয়েদের অভিনব প্রচারণা।

পরের চিঠি লিখেছেন সাভারের ভাকুর্তা থেকে সাবিনা ইয়াসমিন:

" গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না" টি-শার্টের গায়ে লেখাটা দেখে ভালোই লাগলো। আমি একজন সরকারিচাকুরিজীবী, এবং সাভার উপজেলার সদর থেকে প্রায়ই সন্ধ্যা ৭টা বা ৮টার সময় বাসায় আসি। অনেক সময় বাসে সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে আসতে হয়। তখন অনেকে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে। মাঝে মধ্যে প্রতিবাদ করি, অনেক সময় প্রতিবাদ করার পরিবেশ থাকেনা। তাই এ ধরনের সচেতনমূলক প্রচারের জন্য ধন্যবাদ।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মিস ইয়াসমিন। এই প্রচারণা যারা শুরু করেছেন, হয়তো তারা সফল হবেন। তবে কাজটা কঠিন হবে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই কারণ পুরো বিষয়টি নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিশে আছে।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
আমেরিকায় প্রত্যর্পণের ঝুঁকিতে জুলিয়ান আসঞ্জ

এ'বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মিনহাজুল ইসলাম তারেক:

'গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না' কথাটা একটা প্রতিবাদ ঠিকই এবং রাস্তা বা বাসে চলার পথে অনেক নারী দুষ্ট পুরুষদের দ্বারা নিগৃহীত হন, এটাও স্বীকার করছি। আমি প্রতিবাদের শব্দের সাথে একমত, তবে প্রতিবাদের ধরনের সাথে একমত হতে পারিনি। কারণ এই প্রতিবাদটি আমাদের সমাজের গুটি কয়েক নষ্ট মানুষের চেয়ে, লজ্জিত করেছে পুরো পুরুষ জাতিকে! আমি নিজেই লোকাল বাসে চলাফেরা করি, সেখানে মেয়েরাও চলে। তাদের গায়ে লাগাতো দূরের কথা, কখনও চোখ তুলে তাকানোরও প্রয়োজন বোধ করিনা। তো ঢালাও ভাবে এসব প্রচারণার মানে কি?''

প্রচারণাটা দেখতে-শুনতে ঢালাও মনে হতে পারে মি. ইসলাম। কিন্তু আমার মনে হয় এই ছোট একটি শ্লোগান বহু নারীর জীবন অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নিয়েছে। গত বছর বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এক জরিপ অনুযায়ী, যেসব নারী গণপরিবহন ব্যবহার করেন তাদের ৯৪ শতাংশ কোন না কোন সময় এই গা ঘেঁষা-ঘেঁষি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। কারা করেছে? পুরুষরা।

কিন্তু অনেক পুরুষই এ'ব্যাপারে সচেতন নন, বা এটাকে খুবই হাল্কা চোখে দেখে। খুব কম পুরুষই এগিয়ে আসেন নারীদের হয়রানি থেকে রক্ষা করতে। সে'কারণেই অনেক নারী মনে করেন এ'ধরণের ঢালাও প্রচারণা দিয়ে হলেও পুরুষদের বোঝাতে হবে সুযোগ পেলেই, ইচ্ছা করলেই নারীর শরীর স্পর্শ করা যায় না। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট স্টার জলসা
Image caption ভারতীয় টেলিভিশন নাটক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গ। টেলিভিশনে নাটক দেখে মোটেও সন্তুষ্ট নন রংপুরের মোহাম্মদ রুবেল মিয়ান:

''নাটক/সিনেমা আসলে কী দেখাতে চায়? আমার তো মনে হয় একটি দেশের সমস্ত কৃষ্টি কালচার নাটক বা সিনেমায় প্রকাশ পায়। নাটক/সিনেমা যদি দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরে, তবে ভারতীয় সংস্কৃতি কি এরকম যে, গায়ে ভারী গয়না পরে তীব্র আলোয় সবাই মিলে বিশেষ চরিত্রের উপর বিশেষ কায়দায় কূটকৌশল প্রয়োগ করবে? এই নাটকগুলোর দৃশ্যে দৃশ্যে কথায় কথায় ব্যক্তি অধিকার খর্ব করার যে তীব্র প্রয়াস, তা ভারতীয় সমাজে কি আদৌ আছে? অবিলম্বে বাংলাদেশে এইসব গাঁজাখুরি গল্পে নির্মিত নাটক ও চ্যানেল বন্ধ করা হোক।''

কোন নাটক বা সিনেমা যদি আপনার কাছে গাঁজাখুরি মনে হয় রুবেল মিয়ান, তাহলে সেগুলো না দেখে উন্নত মানের নাটক দেখলেই আপনার সময়টা ভাল কাটবে। কিন্তু নাটক বা গোটা চ্যানেল নিষিদ্ধ করার দাবি কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। বাংলাদেশে প্রচুর দর্শক এসব নাটক দেখেন এবং উপভোগ করেন। তাদের কেন বঞ্চিত করবেন? আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption সুন্নি এবং আহমদীয়া চিন্তাবিদ আলোচনা শেষে করমর্দন করছেন।

পরের চিঠি আমাদের সাম্প্রতিক একটি ভিডিও নিয়ে, লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''গত ৪ঠা এপ্রিল, বিভেদ পেরিয়ে: সুন্নি-আহমদীয়া ইসলাম ধর্মবিশ্বাস এবং মুসলিম-অমুসলিম বিতর্ক শিরোনামে ভিডিও ক্লিপটি আপনাদের ওয়েবসাইটে চোখে পড়লো। মনে হচ্ছে বিবিসি বাংলা শ্রোতা-পাঠকদের সচেতনতার নামে অতি বিতর্কিত বিষয়গুলো বেছে নিচ্ছে। এসব বিতর্কিত অতি সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা কতটা জরুরি? আমার প্রশ্ন, তাহলে বিবিসি বাংলা কী কোন বিশেষ এ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে?''

আমার মতে, মি. রহমান, কোন বিষয়ে বিতর্ক থাকলে বা কোন বিষয় সংঘাত সৃষ্টি করলে মিডিয়ার উচিত সে বিষয়ের সব দিকে আলোকপাত করা, যাতে শ্রোতা-দর্শক-পাঠক, অর্থাৎ আপনারা, পুরো বিষয়ে জানতে পারেন এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এটা মিডিয়ার দায়িত্ব এবং বিবিসি সে দায়িত্ব পালন করছে। এখানে কোন বিশেষ এ্যাজেন্ডা নেই। তাছাড়া, কোন বিষয়কে স্পর্শকাতর বলে সেটাকে ধামাচাপা দেয়া আমাদের নীতির মধ্যে পড়ে না।

আমরা সামাজিক-রাজনৈতিক সব বিষয়ই বস্তুনিষ্ঠভাবে অনুষ্ঠানে নিয়ে আসতে চাই। সুন্নি-আহমাদীয়া আলোচনাটি সে আলোকেই করা হয়েছে এবং আলোচক দুজন অত্যন্ত মার্জিত ভাষায় একে অপরকে শ্রদ্ধা দেখিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। আমার মতে এটা ছিল সভ্য আলোচনার একটি উদাহরণ। আপনাকে ধন্যবাদ। (এই অনুষ্ঠান দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন )

পরীক্ষার রুটিন না টি-শার্টের ভাইরাল ভিডিও? কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? প্রশ্ন করেছেন মাগুরার শ্রীপুর থেকে রিপন বিশ্বাস:

''বর্তমানে সারাদেশে এইচ এস সি পরীক্ষা চলমান। এই প্রেক্ষিতে পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তন হওয়া এখনকার জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। দুঃখজনক হলেও সত্য, ১২ঘন্টার ব্যবধানে দুটি অধিবেশন শেষ করলেও উক্ত বিষয়ে কোন প্রতিবেদন করলেন না কেন? অনলাইনে ভাইরাল হওয়া টি-শার্টের চেয়েও কি এটার গুরুত্ব কম ছিল?''

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ মি. বিশ্বাস। সত্যি কথা বলতে, পরীক্ষার রুটিন বদলের বিষয়টি আমরা জানতাম না। আর জানলেও, ঘটনাটি বিশ্ব সংবাদের প্রেক্ষিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে হতো না। আর টি-শার্ট নিয়ে ঘটনাটি ব্যতিক্রমী, যেটা বাংলাদেশে নারীদের নিরাপত্তাহীনতাকে তুলে ধরে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

Image caption ফেনীর সোনাগাজীর যে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিয়ে বিতর্ক এবং অভিযোগ।

আবার ফিরে যাচ্ছি ফেনীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহানকে আগুনে পুড়িয়ে মারার বিষয়ে। এবারে লিখেছেন খুলনার মুকুল সরদার:

''নুসরাত জাহান হত্যা কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ঐ মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি, আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ জাল সনদপত্র দেখিয়ে চাকুরি গ্রহণের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। একজন অধ্যক্ষ দিনের পর দিন এ ধরণের অপকর্ম চালিয়ে গেল ঠিক কি ভাবে? ঐ মাদ্রাসা কমিটি কি এতদিন ঘুমিয়ে ছিল? মাদ্রাসা কমিটির কি কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না? মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে যারা এ ধরণের অপকর্ম চালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে অধ্যক্ষের পাশাপাশি তাদেরও শাস্তি নিশ্চিত করা উচিৎ বলেই আমি মনে করি।''

সেটাই বড় প্রশ্ন মি. সরদার, যদিও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ'ধরনের অভিযোগ নতুন ঘটনা নয়। ফেনীর ঘটনার গুরুত্ব ছিল যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মেয়েটির এগিয়ে আসা এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া। তবে আশা করা যায়, পুলিশের তদন্তে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে।

ছবির কপিরাইট AHMAD AL-RUBAYE
Image caption ইরাকের রাজধানী বাগদাদ: ইমাম মুসা আল-খাদিম মসজিদে পুলিশ পাহারা।

এবারে ইন্টারনেটে আমাদের রেডিও শোনার বিষয় নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন ইরাকের বাগদাদ থেকে আবু সালেহ ইমরান:

''এই প্রবাস জীবনে ইন্টারনেটের যুগে সময় বের করে রেডিও শোনা সত্যিই কঠিন। ফেসবুক পেজে প্রবাহ লাইভ স্ট্রিমিং শেষ হবার পর সময়মত এক ফাঁকে শুনে নেওয়া আমার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে উঠেছিল। লাইভ স্ট্রিমিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি অনেকটা হতাশ। বিবিসি বাংলা থেকে বর্তমানে আমি বিচ্ছিন্ন। লাইভ স্ট্রিমিং পুনরায় চালু করার অনুরোধ করছি। একই সাথে রেকর্ডেড অংশ শোনার সবচেয়ে ভালো উপায় কি পরামর্শ চাচ্ছি।''

ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না মি. ইমরান। তবে আমাদের ওয়েবসাইটে সন্ধ্যার অধিবেশন প্রবাহ এবং সকালের প্রত্যুষা আপনি লাইভ শুনতে পাবেন, এবং তার রেকর্ডিং ২৪ ঘণ্টা ওয়েবসাইটে রয়ে যাবে। আমাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা www.bbcbangla.com । আপনাকে ধন্যবাদ।

পরের চিঠি লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে শামীম সরকার:

''আপনাদের মোবাইল ওয়েব সাইটে খবরের সঙ্গে যে ছবিগুলো আপলোড করা হয়, সে গুলি অত্যন্ত লো কোয়ালিটির অর্থাৎ পরিষ্কার দেখা যায় না। বর্তমানে হাই ডেফিনিশনের যুগে কেন লো কোয়ালিটির ছবি? নাকি ছবি গুলিই লো কোয়ালিটি হিসেবে তোলা হয়?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. সরকার। আপনার পর্যবেক্ষণের সাথে আমি একমত যে, অনেক ছবির রেজুলেশন লো হয়। অনেক সময় অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও খবরের স্বার্থে লো রেজুলেশন ছবি ব্যবহার করতে হয়। তবে আমাদের চেষ্টা সব সময় থাকে হাই কোয়ালিটি ছবি ব্যবহার করা।

ছবির কপিরাইট AFP Contributor
Image caption সশস্ত্র প্রহরা: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি সামরিক হেলিকপ্টারের কাছে পাহারা দিচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য।

পরের চিঠি লিখেছেন পঞ্চগড়র অমরখানা থেকে মোহাম্মদ উজ্জ্বল ইসলাম:

''গত ৯ই এপ্রিল মঙ্গলবার সান্ধ্য অধিবেশনে শুনলাম গত মাসে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার হামলায় কমপক্ষে ৩০জন রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর একের পর এক হামলার যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও জাতিসংঘ এর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না। কেননা, নিরাপত্তা পরিষদে সব প্রস্তাব চীনও রাশিয়া ভিটো দিচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, চীন ও রাশিয়া এর বিরোধিতা করার মূল কারণ কি?''

এর কারণ, মি. ইসলাম, চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারকে তাদের মিত্র দেশ বলে গণ্য করে। বহু বছর ধরেই মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সাথে চীন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, এবং তারা চায়না যে মিয়ানমার সরকার কোন ধরণের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ুক। মিয়ানমারের ব্যাপারে রাশিয়া চীনকে সমর্থন দিয়ে আসছে, কারণ তারাও চায়না সেখানে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। চীন চাইছে, রোহিঙ্গা সমস্যাটা যেন বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক ভাবে সমাধান করে। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক।

এস,এম,এ হান্নান, চাটমোহর,পাবনা।

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

এস.এম.মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, পার্বতীপুর দোলাপাড়া, রংপুর।

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

মোহাম্মদ জুয়েল রানা, দশমাইল, পঞ্চগড়।

আতাউর রহমান, নোয়াখালী।

জাহিদুল ইসলাম রিপন, কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট।

মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ, হামিদপুর, মালদা।

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন মাষ্টার, ভাকুর্তা, সাভার।

মোহাম্মদ আজিনুর রহমান লিমন, ডিমলা, নীলফামারী।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/