ছাত্রদের হাতে মারের ভয়ে থাকেন ব্রিটেনের শিক্ষকরা

২৪ শতাংশ শিক্ষক সপ্তাহে অন্তত একবার সহিংসতার শিকার হন।
Image caption ২৪ শতাংশ শিক্ষক সপ্তাহে অন্তত একবার সহিংসতার শিকার হন।

ব্রিটেনে প্রকাশিত এক জরিপ বলছে, দেশটিতে বহু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দ্বারা সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হন।

দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষকদের একটি ইউনিয়নের পাঁচ হাজারের মতো সদস্যদের উপর এই জরিপটি চালানো হয়েছে।

অন্তত ২৪ শতাংশ শিক্ষক বলছেন যে তাঁরা সপ্তাহে অন্তত একবার সহিংসতার শিকার হন।

প্রতি ১০ জনের মধ্যে চারজন শিক্ষক বলছেন, তাঁরা মৌখিকভাবে হুমকি পেয়েছেন।

শিক্ষকরা কী বলছেন?

শিক্ষার্থীদের কাছে মৌখিক দুর্ব্যবহার তাদের জীবনে দৈনন্দিন ব্যাপার বলে জানাচ্ছেন একজন শিক্ষক।

আরো পড়ুন:

শিশুশিক্ষায় বইয়ের বোঝা কেন?

ব্রিটেনে শিশু শরণার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে

ব্রিটেনে ৩০টি গীর্জার স্কুলে পড়ুয়া অধিকাংশই মুসলিম

পারিবারিক সান্নিধ্যে থাকা তরুণদের যৌনতার হার কমছে

ওই শিক্ষক বলেন, "আমি ৪০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। আমি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে চরম অধঃপতন দেখছি।"

তিনি আরও বলেন, "তাছাড়া, এখন শিক্ষকদের কাছে আশাও করা হয় যে তাঁরা মৌখিক দুর্ব্যবহার সহ্য করবেন। এমন আচরণ ঠেকাতে কোন ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে কারোরই যেন কোন আগ্রহ নেই।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সহিংসতা ছাড়াও মৌখিক দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় অনেককে।

আরেকজন শিক্ষক বলেন, "আমার স্কুল তো গত কয়েক বছরে রীতিমতো একটা ভীতিকর জায়গায় পরিণত হয়েছে। আমি করিডোরে বের হই এমন সময়ে, যখন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে রয়েছে।"

"তা না হলে আমার মনে হয় যে আমি বোধহয় ওদের পায়ের নিচেই চাপা পড়ে যাবো, নতুবা ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাবো। তা না হলে কোন ধরনের গালি খেতে হবে আমাকে।"

পরিসংখ্যানে আরও যা দেখা যাচ্ছে

ব্রিটেনের শিক্ষা অধিদপ্তরের এক তথ্যমতে এ ধরণের ঘটনা বাড়ছে।

সংস্থাটির হিসেবে, ২০১৬/১৭ সালে ৭৪৫ জন শিক্ষার্থীকে স্কুলের কোন প্রাপ্তবয়স্ক কর্মকর্তা, কর্মচারী অথবা শিক্ষককে শারীরিক হেনস্থার জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

প্রায় ২৭,০০০ শিক্ষার্থীকে একই অপরাধে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

আর ৬৫৫ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো মৌখিক দুর্ব্যবহারের জন্য।

এর এক বছর আগে এই সংখ্যা কম ছিল।

অন্যান্য খবর:

যৌন নির্যাতন: শিশুদের কীভাবে সচেতন করবেন

সাপের ভয়ে অফিস যাচ্ছেন না লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট

শরীর-মন-ঘুম: কেন দিনের আলো এত গুরুত্বপূর্ণ

সম্পর্কিত বিষয়