ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতার সেরা ছবিগুলো

ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো ২০১৯ প্রতিযোগিতার বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে, প্রায় ৭৮ হাজার ছবির মধ্যে থেকে বেছে নেয়া হয়েছে সেরা ৪৭৩৮টি ছবি। সতর্কতা: কয়েকটি ছবি কারো কারো জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

জুন মুরের এই ছবি

ছবির উৎস, JOHN MOORE / GETTY IMAGES

ছবির ক্যাপশান,

জুন মুরের এই ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে যে হন্ডুরাসের একটি শিশু ইয়েনেলা সানচেজ কাঁদছে, কারণ তাকে এবং তার মা স্যান্ড্রা সানচেজকে হেফাজতে নিয়েছে মার্কিন সীমান্তের কর্মকর্তারা। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ম্যাকএলেনে ছবিটি তোলা হয়। শিরোনাম দেয়া হয় “ক্রাইং গার্ল অন দ্য বর্ডার” । জন মুর গেটি ইমেজের জ্যেষ্ঠ আলোকচিত্রী। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এই ছবিটি আমার মতো আরও অনেককেই আহত করেছে। কারণ এই একটি ছবি অনেক বড় একটা গল্প বলছে।”

ছবির উৎস, MOHAMMED BADRA / EUROPEAN PRESSPHOTO AGENCY

ছবির ক্যাপশান,

সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায় গ্যাস আক্রমণের শিকার আহতরা চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। মোহাম্মদ বাদ্রা এই ছবিটি ধারণ করেন। পূর্ব ঘৌটার আল-শিফুনিয়ে শহরে সন্দেহভাজন গ্যাস আক্রমণের পর ইউরোপীয় প্রেস ফটো এজেন্সির মোহাম্মদ বাদ্রা ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই ছবিটি ধারণ করেছিলেন। পূর্ব ঘৌটা পাঁচ বছর ধরে সরকারি বাহিনীর দখলে রয়েছে।

ছবির উৎস, CATALINA MARTIN-CHICO / PANOS

ছবির ক্যাপশান,

আলোকচিত্রী কাতালিনা মার্টিন-চিকো এখানে ইয়োরলাদিস নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর ছবি তুলেছেন। যিনি এ নিয়ে ছয়বারের মতো সন্তান সম্ভবা হলেন। কলম্বিয়া এর বৃহত্তম বিদ্রোহী গোষ্ঠী কলম্বিয়ার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনীর গেরিলা থাকায় বিগত বছরগুলিতে ইয়োরলাদিস তার পূর্ববর্তী গর্ভধারণের অবসান ঘটান। গেরিলা জীবনে গর্ভাবস্থাকে অসঙ্গত বলে মনে করা হয় এবং নারীরা আত্মীয়ের সাথে বাচ্চাদের ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য ছিল, আবার অনেককে গর্ভপাতকে বাধ্য করা হতো বলেও জানা গেছে। যদিও ফার্ক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০১৬ সালে কলম্বিয়ার সরকার ও ফার্ক বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর, সাবেক এই নারী গেরিলারা সন্তান জন্ম দিতে শুরু করেন।

ছবির উৎস, MARCO GUALAZZINI / CONTRASTO

ছবির ক্যাপশান,

আফ্রিকার দেশ শাডের বোল শহরে এই এতিম শিশুটির ছবি তোলেন আলোকচিত্রী মার্কো গুয়ালাজ্জিনি। শিশুটি একটি দেয়ালের পাশ ধরে হেঁটে যাচ্ছে যেখানে রকেট চালিত গ্রেনেড লঞ্চারের ছবি আঁকা। ছবিটি দেশটির রাজনৈতিক সংঘাত এবং পরিবেশগত বিষয়গুলির সমন্বয়ে মানবিক সংকটের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির এবং সেচের কারণে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় হ্রদ এবং ৪০ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মাধ্যম শাড লেক দিন দিন মরুভূমিতে রূপ নিচ্ছে।

ছবির উৎস, PIETER TEN HOOPEN, AGENCE VU/CIVILIAN ACT

ছবির ক্যাপশান,

আরেকটি বিভাগে, পিটার টেন হুপেনের ‘দ্য মাইগ্রান্ট ক্যারাভেন” শিরোনামের ছবিটি ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো স্টোরি অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার পান।

ছবির উৎস, PIETER TEN HOOPEN, AGENCE VU/CIVILIAN ACT

ছবির ক্যাপশান,

অক্টোবর এবং নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, এল সালভাদর এবং গুয়াতেমালা থেকে মার্কিন সীমান্তে ভিড় করা অভিবাসীদের একটি দলের ছবি তুলেছেন হুপেন। এই অভিবাসীরা নিজ দেশের রাজনৈতিক দমন, সহিংসতা ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিতে চাইছে। এই ছবিতে পিতা ও পুত্র দীর্ঘ পথ পায়ে হাঁটার পর জুচিটানে বিশ্রাম নিচ্ছে।

ছবির উৎস, PIETER TEN HOOPEN, AGENCE VU/CIVILIAN ACT

ছবির ক্যাপশান,

তাপানাতেপেক থেকে নিলতেপেক যাওয়ার পথে একটি মেয়ে ফুল তুলছে। এই দুই স্থানের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার।

ছবির উৎস, PIETER TEN HOOPEN, AGENCE VU/CIVILIAN ACT

ছবির ক্যাপশান,

হুপেনের এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে, একটি অভিবাসী পরিবার রিও নোভিলেরো নদীর কাছে স্নান করছে এবং, কাপড় ধুচ্ছে। কেউবা পাশে বিশ্রাম করছে। তাদের ক্যারাভানটি মেক্সিকো এর তাপানাতেপেকের কাছাকাছি বিরতি নিয়েছে।

ছবির উৎস, ENAYAT ASADI

ছবির ক্যাপশান,

কনটেম্পোরারি ইস্যুতে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন এনায়েত আসাদি। ইরান সীমান্ত অতিক্রম করতে যাওয়া আফগান শরণার্থীর ছবি তুলে তিনি এই পুরস্কার পান। এখানে একজন আফগান শরণার্থী তার সহযোগীকে সাহায্য করছেন। গত বছরের ২৭ জুলাই ইরানের পূর্ব সীমান্তে ছবিটি ধারণ করা হয়। তারা দুজনই সীমান্ত অতিক্রমের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

ছবির উৎস, JASPER DOEST

ছবির ক্যাপশান,

পরিবেশ বিভাগের দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন জ্যাসপার দোয়েস্ত। তার ছবির শিরোনাম “মিট বব”। এখানে বব হলেন উদ্ধার হওয়া একটি ক্যারিবীয় ফ্লেমিঙ্গো পাখি। যে ডাচ আইল্যান্ড কুরাকাওতে মানুষের মধ্যেই থাকে। পাখিটিকে পুনর্বাসনের সময় দেখা যায় যে তারা মানুষের সঙ্গে থাকতে থাকতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে এখন তাদের অরণ্যে ছেড়ে দিলে তারা আর বাঁচতে পারবেনা।

ছবির উৎস, FINBARR O'REILLY

ছবির ক্যাপশান,

পোর্ট্রেইট বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ফিনবার ও রেইলির এই ডাকার ফ্যাশন শিরোনামের ছবিটি। আডামা প্যারিসের ডিজাইন করা পোশাকে ছবিতে পোজ দিয়েছেন তিনজন মডেল। তাদেরকে দেখছেন উৎসাহী মানুষজন। সেনেগালের রাজধানী ডাকারের মেদিনায় ছবিটি তোলা হয়।

ছবির উৎস, MARIO CRUZ

ছবির ক্যাপশান,

পরিবেশ ক্যাটাগরিতে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে ম্যারিও ক্রুজের এই ছবিটি যার শিরোনাম “লিভিং অ্যামাং হোয়াটস লেফট বিহাইন্ড”

ছবির উৎস, DANIELE VOLPE

ছবির ক্যাপশান,

জেনারেল নিউজ ক্যাটাগরিতে, দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে দানিয়েলে ভোলপের স্টিল লাইফ ভোলকেনো ছবিটি। গুয়াতেমালার সান মিগুয়েল লস লোটসের, একটি পরিত্যক্ত বাসার শোবার ঘরের ছবি এটি। ২০১৮ সালের জুনে ভলকান দে ফুয়েগোর অগ্ন্যুৎপাতের পরে পুরো ঘর ছাইয়ে তলিয়ে যায়।

ছবির উৎস, CHRIS MCGRATH, GETTY IMAGES

ছবির ক্যাপশান,

সৌদি শাসকের সমালোচক জামাল খাসোগজি ২০১৮ সালের ২রা অক্টোবর তুরস্কের ইস্তানবুলের সৌদি আরব কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন।কয়েক সপ্তাহের নানা মিথ্যা তথ্যের পর, সৌদি আরব ঘোষণা করে যে খাসোগজি হাতাহাতির এক পর্যায়ে দুর্ঘটনাক্রমে নিহত হন। তবে তুর্কি কর্তৃপক্ষ ও সিআইএ দাবি করেছে যে সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালনাকারীরা তাকে হত্যা করেছে। ১৫ অক্টোবর ইস্তান্বুলের সৌদি আরব কনস্যুলেটে সৌদি তদন্তকারীরা পৌঁছালে সেখানে ভিড় জমায় দেশি বিদেশি সাংবাদিকরা। ছবির এই ব্যক্তি একাই সাংবাদিকদের ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। ছবিটি তুলেছেন ক্রিস ম্যাকগ্রাথ।

ছবির উৎস, BRENT STIRTON, GETTY IMAGES

ছবির ক্যাপশান,

ব্রেন্ট স্টিরটনের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ৩০ বছর বয়সী নারী পেট্রোনেলা চিগুম্বুরা জিম্বাবুয়ের ফুনদুন্দু ওয়াইল্ড লাইফ পার্কে ছদ্মবেশের প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। তিনি ‘আকাশিঙ্গা’ নামের পশু শিকার বিরোধী একটি সংস্থার সদস্য। আকাশিঙ্গা মানে, সাহসী মানুষ। যারা মূলত একটি বিকল্প রেঞ্জার বাহিনী। যারা নিজ সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদী সুবিধার জন্য পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে যায়।