'চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনার নানা খবর তদন্তে প্রভাব ফেলে'

ছবির কপিরাইট পরিবার থেকে সংগৃহীত

বাংলাদেশে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহানকে হত্যার ঘটনা নিয়ে পুলিশের তদন্তকারিদের উদ্ধৃত করে তদন্তের নানা রকম খবর যে প্রকাশ হচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

তারা বলেছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ঘটনাকে ঘিরে তদন্তকারিদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন খবর প্রকাশ হতে থাকলে মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।

আইনজীবীদের অনেকে বলেছেন, চাঞ্চল্যকর কোনো অপরাধের ঘটনা নিয়ে নানা রকম খবর প্রকাশ হতে থাকলে মুল ঘটনা ভিন্ন দিকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ফৌজাদারি অপরাধ বিষয়ে আইনজীবীদের অনেকে বলেছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই নুসরাত জাহান হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সব বিষয় বিষয় প্রকাশ হয়েছে, এমন একটা ধারণা সবার মাঝে জন্মেছে বলে তারা মনে করেন। ফলে তদন্তকারিদের একটা চাপের ভিতরে থেকে তাদের তদন্ত করতে হবে।

আইনজীবী জান্নাতুল মরিয়ম বলছিলেন, "বড় কোনো অপরাধ হলে অনেক সময় তার আবেগ প্রবণ বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়। এটি কখনও কখনও আইনকে বা আইনের চলার পথকে ব্যাহত করে।এবং তদন্ত কাজও ব্যাহত হয়।"

"আমরা অনেক সময় দেখি যে, অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিরা এমনও বলেছেন যে,আমার বিচার আর কি হবে, অনেকে আগেই মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে গেছে।"

'আমাদের সঙ্গে দাসীর মতো ব্যবহার করা হতো'

যিশু: ইতিহাসের চোখে তাঁর আসল চেহারাটি কেমন

শব-ই-বরাতে হালুয়া-রুটির প্রচলন হয়েছিল কিভাবে?

বাংলাদেশ থেকেই বেশি পর্যটক যায় ভারতে

মানবাধিকার কর্মীদের অনেকে বলেছেন, কোনো ঘটনায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিভিন্নভাবে তদন্তের বিবরণ প্রকাশ হলে মানুষের মাঝে একটা ধারণা জন্মায়। তার সাথে তদন্ত শেষে ফারাক দেখা দিলে তখন তা বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটে পড়ে। এটি তদন্তের ওপর প্রভাব ফেলে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নীনা গোস্বামী মনে করেন, আস্থার অভাব বা সন্দেহ থাকলে অপরাধীরাই সেই পরিস্থিতির সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে।

"আমরা দেখি যে, কোনো ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত করার আগে সে সম্পর্কে নানা রকম খবর প্রকাশ হয়েছে। এরপর তদন্তে একেবারে বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে।এরকম ফারাক বা পার্থক্য যদি হয়, তখন অপরাধীরা এটাকে একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেয়। বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হয়।"

একইসাথে তিনি বলেছেন,কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বা সমাজে একটা চাপ তৈরি হলে সেটা ইতিবাচক হতে পারে।

ছবির কপিরাইট পিবিআই
Image caption বনজ কুমার মজুমদার, পিবিআই প্রধান

নুসরাত জাহানকে হত্যার ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশের কেন্দ্রীয় সংস্থা পিবিআই। এই সংস্থাটির প্রধান বনজ কুমার মজুমদারও মনে করেন, কোনো ঘটনায় আগেই একটি ধারণা তৈরি হলে তদন্ত চাপের মধ্যে পড়ে যায়।

"কোনো ঘটনা যখন তদন্ত করি, তখন তদন্তের সাথে সর্ম্পকিত নয়,বাইরে এমন খবর এলে মানুষ তা বিশ্বাস করে।তখন আমাদের তদন্ত সঠিক লাইনে রাখাটা কঠিন হয়ে যায়।কারণ তখন আমাদের তদন্ত কর্মকর্তারাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন অথবা সঠিক তদন্ত করলে মানুষ বিশ্বাস করবে কিনা,এ রকম একটি পরিস্থিতি হয়। এটা সত্য।"

কিন্তু পিবিআইয়ের তদন্তকারিদেরই অনেকে নুসরাত জাহান হত্যার তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরছেন।তদন্তকারিরা তদন্তের বিবরণ তুলে ধরতে পারেন কিনা, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

এ ব্যাপারে বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, "তদন্তকারি কর্মকর্তারা আসলে কথা বলেন না। কারণ কিছু হলে তারাই বিপদে পড়েন।আবার অনেক কর্মকর্তা আছেন, তারা বেশি বলে ফেলেন। এটা সঠিক নয়।"

আইনজীবীরা বলেছেন, যে অপরাধের বিরুদ্ধে তদন্তের ওপরই সঠিক বিচার পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে।ফলে তদন্ত যাতে কোনো রকম চাপ ছাড়া সঠিকভাবে হয়, সেজন্য পুলিশ বা তদন্তকারি সংস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়