শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলা: সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

পুরো শ্রীলঙ্কা জুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে ছবির কপিরাইট AFP
Image caption পুরো শ্রীলঙ্কা জুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে

শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় ইস্টার সানডে চলার সময় কয়েক দফা বোমা হামলায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কারফিউ চলবে।

হামলায় ২৯০জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এদিকে ওই হামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবারের দুইজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

রবিবার রাতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহে জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য একটি হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কাছে সতর্কতামূলক তথ্য ছিল।

তবে হামলা হলেও, কারা এই হামলা চালিয়েছে, এখনো তা জানাতে পারেনি সরকার।

গুজব বা মিথ্যা খবর ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় সেবাগুলোয় অনেকে প্রবেশ করতে পারছেন না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

দেশটির প্রধান বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকা থেকে একটি হাতে বানানো বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption হামলার পর সেন্ট অ্যান্থনি গির্জায় নিরাপত্তাবাহিনীর সতর্ক অবস্থান

বাংলাদেশি আহত

শ্রীলঙ্কায় হামলার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে এক শিশুসহ দুই বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে তিনি কারো পরিচয় জানাননি।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম বাসস জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনেই সফরের সময় একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবার শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার শিকার হয়েছে।

তিনি বলেছেন,''সেলিমের মেয়ে-জামাই ও নাতি এ সময় একটি রেস্টুরেন্টে খাচ্ছিলেন। সেখান একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মেয়ে-জামাই আহত হন এবং (গতকাল) বিকেল পর্যন্ত নাতির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।''

শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ''আমরা জেনেছি একটি পরিবারের চারজনের মধ্যে দুজন 'রিপোর্টেড' (খোঁজ পাওয়া গেছে)। বাকি দুজনের একজন শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিখোঁজ। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো কিছুই জানা যায়নি। আমরা আশা করছি তাদের কোনো হোটেল বা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আমরা জানতে পারলেই জানিয়ে দেয়া হবে।"

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption হামলার পর আহত এবং নিহতদের বের করা হচ্ছে একটি গির্জা থেকে

যেভাবে হামলা হয়

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা যখন ইস্টার সানডে পালন করছিল তখন এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

প্রথম হামলা হয় স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টায়।

তিনটি গির্জায় অন্তত ছয়টি বিস্ফোরণ হয়েছে।

যে গির্জাগুলোতে বিস্ফোরণ হয়েছে সেগুলো কোচ্চিকাডে, নেগম্বো এবং বাট্টিকালোয়ায় অবস্থিত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেগম্বোর সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জার ছাদ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং রক্ত ছড়িয়ে আছে।

এছাড়া রাজধানী কলম্বোতে অবস্থিত তিনটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিস্ফোরণ হয়েছে।

কারা এই হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি, তবে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সরকারের ধারণা, কোন কোন স্থানে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী অংশ নিয়েছিল।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটাই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ভয়াবহ হামলা।

কলম্বোর গির্জার ভেতরের দৃশ্য

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption হামলার শিকার গির্জার ভেতরের দৃশ্য

শ্রীলংকায় বোমা হামলার পর কলম্বোর সেন্ট অ্যান্টনি গির্জার ভেতরে প্রথম ছবিগুলো প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। শহরের উপকণ্ঠে এটি খুবই জনপ্রিয় এক গির্জা।

বিবিসি সিনহালা বিভাগের সংবাদদাতা আযাম আমীন যখন ঐ গির্জা দেখতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি জানান যে সেখানে অন্তত ৩০ জন নিহত হন।

গির্জার আশেপাশে এখন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, এবং পুলিশের তদন্ত চলছে।

শ্রীলংকা সম্পর্কে কিছু তথ্য

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption শ্রীলংকার ধর্মীয় স্থানগুলো পর্যটকদের বড় আকর্ষণের জায়গা।

ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা গত কয়েকশ বছর ধরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধ্যমে।

কিন্তু দেশটিতে বহু বছর ধরে তুমুল গৃহযুদ্ধ চলেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিজ এবং সংখ্যালঘু তামিলদের মধ্যে এ যুদ্ধ চলেছে দেশটির উত্তর এবং পূর্বাঞ্চলে।

২৫ বছর ধরে চলা সে সংঘাতের অবসান হয় ২০০৯ সালে।

সরকারী বাহিনী যখন বিদ্রোহী তামিল টাইগারদের সর্বশেষ শক্ত ঘাটি দখল করে নেয় তখন গৃহযুদ্ধের অবসান হয়।

১৬ শতকের পর পর্তুগীজ এবং ডাচরা শ্রীলংকা নিয়ন্ত্রণ করেছে।

১৫০ বছর ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৮ সালে শ্রীলংকা স্বাধীনতা লাভ করে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption শ্রীলংকায় অনেক বিদেশী পর্যটক বেড়াতে যায়

শ্রীলংকার মোট আয়তন ৬৫৬০০ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা দুই কোটি বিশ লাখ। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ বৌদ্ধ।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হিন্দু জনগোষ্ঠি যারা মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ।

এছাড়া মুসলিম ১০ শতাংশ এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ৭ শতাংশ।

সম্পর্কিত বিষয়