শ্রীলংকা হামলা: 'গির্জায় ঢোকার আগে শিশুর মাথা স্পর্শ করেছিলো সন্দেহভাজন হামলাকারী'

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption নিহত স্বজনের কফিনের সামনে কান্না, প্রার্থনা

ইস্টার সানডে'তে কয়েকটি গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে একের পর এক বিস্ফোরণের পর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে শ্রীলংকায় এবং এখনো কেউ এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।

যদিও সন্দেহ করা হচ্ছে একটি ইসলামপন্থী সংগঠনকে এবং মনে করা হচ্ছে তারা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সহায়তায় এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে হামলার ধরণ থেকে তারা কথিত ইসলামিক স্টেটের একটা প্রবণতা লক্ষ্য করছে।

দেশটিতে আজ শোক দিবস পালিত হচ্ছে এবং একই সাথে নিহতদের শেষকৃত্যও শুরু হয়েছে।

তবে কেনো আগে থেকে সতর্ক বার্তা পাওয়ার পরেও সরকার হামলা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি তা নিয়েও দেশটির সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

শ্রীলংকায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে খ্রিস্টান, মুসলিম ও হিন্দুরা সংখ্যালঘু।

যদিও দেশটির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ইতিহাসে খ্রিস্টানদের জড়িত হবার উদাহরণ কমই।

শোকের দিনে গণ শেষকৃত্য, প্রাণ হারালো যারা

আগাম সতর্কবার্তা নিয়ে তালগোল শ্রীলংকায়?

কতটা উদ্বেগে পড়েছেন শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা

ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption নিহতদের সারি সারি কফিন

তদন্ত সহযোগিতায় আসছে এফবিআই

রয়টার্স বলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহের সাথে এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী এফবিআই এজেন্ট পাঠানো হচ্ছে শ্রীলংকায়।

তারা ল্যাবরেটরি টেস্টের জন্য বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেয়ারও প্রস্তাব করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো এ ঘটনার সাথে ইসলামিক স্টেটের হামলার ধরণের মিল পাচ্ছে।

যদিও ইসলামিক স্টেট সাধারণত তাদের হামলাগুলোর বিষয়ে দ্রুতই দায় স্বীকার করে।

পুলিশ বলছে তারা একজন সিরিয়ান সহ ৪০ জনকে আটক করেছে।

সিএনএন-এ প্রচারিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে হামলাকারীদের একজন ভারী ব্যাগ বহন করছে পিঠে।

সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায় প্রবেশের আগে সে একটি শিশুর মাথা স্পর্শ করছে।

ওই গির্জায় অনেকেই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে।

কফিনের সামনে স্বজনের কান্না ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption কফিনের সামনে স্বজনের কান্না

সরকারে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

হামলার ঘটনায় কিংবা আগেই হামলাকারীদের থামানো যেতো কি-না, তা নিয়ে সরকারের মধ্যকার কোন্দলের বিষয়টি উঠে আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেকেই।

সরকার আগেই এনটিজের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে খবর পেয়েছিলো ভারতীয়দের কাছ থেকে।

যদিও সরকারেরই একজন মন্ত্রী বলছেন প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহকে এটি জানানো হয়নি। আবার প্রেসিডেন্টে মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সাথে দ্বন্দ্বের কারণে নিরাপত্তা বিষয়ক সভাগুলোতেও যোগ দেননি তিনি।