মানুষের সৃজনশীলতা জীবনের কোন বয়সে সর্বোচ্চ থাকে

ক্লাস ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption জীবনের দুটি পর্যায়ে মস্তিষ্ক উদ্ভাবনী চিন্তার হটস্পটে পরিণত হয়।

আপনার বয়স যদি ২০ বছর বা তার আশেপাশে হয়, তাহলে ধরে নিন যে আপনার মগজ এখন নতুন সব ধারণার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। যারা ওই বয়স ফেলে এসেছেন, তারাও যদি পেছনে ফিরে তাকান তাহলে পার্থক্য ধরতে পারবেন।

এটা ভেবে ভেবে আপনি হয়তো অবাকও হবেন।

আসলে ওই বয়সে হয়তো আপনি আপনার সৃজনশীলতার যে দুটি শিখর রয়েছে তার প্রথমটি অতিক্রম করছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে ২০ এর আশেপাশের বয়সে অর্থাৎ ২০-২৬ বছর বয়সে আমাদের মস্তিষ্ক প্রথমবারের মতো উদ্ভাবনের জন্য উর্বর স্থল হয়ে ওঠে।

অর্থনীতিতে আগে যারা নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন তাদের ওপর আলোকপাত করেন গবেষকরা।

সেখানে দেখা যায় যে যারা তাদের ২০ এর আশেপাশের বয়সে জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ করতে পেরেছেন, পরবর্তীতে তারাই নতুন ধারণার উদ্ভাবক হয়ে ওঠেন।

বলা যেতে পারে যে সেটি তাদের জীবনে বাতি জ্বলে ওঠার মুহূর্ত ছিল এবং তারা সেই হিসেবেই কাজ করে গেছেন।

কিন্তু আপনি যদি কোন নতুন ধারণার উদ্ভাবন ছাড়াই ২০-এর মাঝামাঝি সেই বয়স ফেলে আসেন, তাহলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

আমাদের মধ্যে আবার এমন অনেকেই আছেন যাদের বয়স পঞ্চাশের কোটায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত কোন কিছুই অনুপ্রেরণায় আঘাত করে না।

আরও পড়তে পারেন:

আলাপচারিতায় পারদর্শী হওয়ার কয়েকটি উপায়

কম ঘুমে আয়ু কমে: রাতের ভালো ঘুম যেভাবে পাবেন

একাকীত্ব কাটিয়ে ওঠার ৯টি উপায়

Image caption ২৪ বছর বয়সী নানা জোন্স ডার্কো একটি ভ্রাম্যমাণ চুল কাটার ব্যবসা চালান।

'আমি সবচেয়েসৃজনশীল হয়েছি আমার ২০ এর দশকে'

২৪ বছর বয়সী নানা জোন্স ডার্কো একটি ভ্রাম্যমাণ চুল কাটার ব্যবসা চালান। অর্থাৎ তার এই চুলকাটার স্যালন চার চাকার ভ্যানের ভেতরে।

যেটা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে মানুষকে সেবা দিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, তার ব্যবসার জন্য এখন তার মাথায় সবসময় নতুন সব ধারণা আসে।

২০ দশকের মাঝামাঝি এই বয়সে এসে তিনি মনে করেন যে তার সৃজনশীল সবচেয়ে শিখরে রয়েছে।

"আমি প্রযুক্তি এবং নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে আরও শিখছি।"

"আমার মনে হয় যখন মানুষের বয়স বাড়ে তখন লোকজনও তাকে আরও গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে - এতে সব বাধাগুলো ভেঙ্গে যায় - যা আপনার সৃজনশীল মস্তিষ্কের প্রবাহকে গতিশীল রাখে এবং নতুন ধারণা আরও বেশি হারে জন্মায়।"

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

সংস্কারপন্থীদের নতুন দল নিয়ে কি চিন্তিত জামায়াত

'আমরা ভাবিনি এই লোকটা আমাদের মারতে এসেছে'

শ্রীলঙ্কায় সন্দেহজনক জঙ্গি আস্তানায় ১৫টি মৃতদেহ

এক লিটার সাগরের পানিতে লাখ লাখ জীবাণু!

ঠিক যেমন- নানা মনে করে যে, ২০-এর দশকে সফল হওয়ার ব্যাপারে বাবা মা এবং সহকর্মীদের থেকে আমাদের ওপর অনেক চাপ থাকে।

বিশেষ করে যদি আপনি "স্বাভাবিক" ক্যারিয়ারের পথ বেছে না নেন।

তিনি বলেন, এই চাপটা টিভি দেখা থেকেও আসতে পারে।

"যখন আপনি টিভিতে দেখেন যে ফুটবল খেলোয়াড়রা তাদের ২০ এর দশকে সপ্তাহে দুই লাখ পাউন্ড আয় করছে, তখন নিজের ওপরেও চাপ অনুভব হয়।"

"আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে ২০ এর দশকের মাঝামাঝি ব্যবসায়ে সফল হওয়ার জন্য একটি বড় চাপ থাকে।"

"কারণ আক্ষরিক অর্থে ওই বয়সটাতে পরিবেশ এমন থাকে যেটা আমাদের অর্থোপার্জনের জন্য এবং আর্থিকভাবে সফল হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। যেন আমরা ২৫ বছর বয়সের মধ্যে সব অর্জন করতে পারি।

"কিন্তু ২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিজেকে গড়ে তোলার সময় হলেও আমি মনে করিনা যে এই বয়সটাই আপনার সৃজনশীলতার শিখর হবে।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সৃজনশীলতার প্রথম শিখরে তেমন কোন অর্জন না থাকলেও, রয়েছে দ্বিতীয় শিখরে আহরণের সুযোগ।

"সৃজনশীল হওয়ার ক্ষেত্রে আপনি এখনও বুড়ো হয়ে যাননি"

আপনি জীবনের শুরুর দিতে যা চেয়েছিলেন তার যদি পুরোটা এই ২০ এর দশকে অর্জন করতে না পারেন তাহলে আপনি দ্বিতীয় সৃজনশীল শিখরের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। যেটা আসে ৫০ এর দশকে।

গবেষণাটির লেখক ওয়েইনবার্গ বলেছেন, " বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবক বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের জীবনের সেরা কাজটি করেছেন অনেক দেরীতে।"

"যদি এমন হয়ে থাকে যে আপনি আপনার ২০ এর দশকে তেমন কোন বৈপ্লবিক কাজ করতে পারেননি। তার মানে এই নয় যে আপনি পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে পারবেন না।"

প্রফেসর ওয়েইনবার্গ বলেছেন, "তরুণরা যদি মনে করে যে তাদের আরও অনেক কিছু অর্জন করার আছে তাহলে তাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।"

"যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং নিয়মিত কোন না কোন বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করে তাহলে তাদের কখনোই চেষ্টা ছেড়ে দেয়া উচিত না।"

"আমি বলতে চাচ্ছি যে তারা কতটা বিশিষ্ট হবে এবং তাদের অর্জন কীভাবে হবে তা অবশ্যই আমরা জানি না।

"তবে এই ধরণের মানুষগুলো তাদের জীবনের সেরা কাজটি - অন্তত তাদের সেরা উদ্ভাবনী কাজটি করে ক্যারিয়ারের শেষের দিকে- তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের অবশ্যই কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।"

নানা জানান, তার মা'ও ঠিক এমনই একজন। যিনি তার বয়সের ৫০ এর দশকে এসে ফ্যাশন স্কুল খুলে নিজের ব্যবসা শুরু করছেন।