শ্রীলংকা হামলা: বিশ্বের কোন কোন দেশে নিকাব নিষিদ্ধ?

নিকাব পরিহিত এক মুসলিম নারী ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বিশ্বের বেশ কটি দেশে জনসমক্ষে মুখ ঢাকা বোরকা এবং নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে

ইস্টার সানডের দিনে আত্মঘাতী হামলায় ২৫০ জনেরও বেশি লোকের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর শ্রীলংকা সোমবার পুরো মুখ ঢেকে বাইরে বেরুনোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার অফিস থেকে এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে - 'জাতীয় নিরাপত্তার' স্বার্থে যে কোনো মুখ ঢাকা কাপড় যা চেহারা সনাক্ত করায় বাধা তৈরি করে তা এখন থেকে নিষিদ্ধ ।

এই নিষেধাজ্ঞার সমর্থকরা বলছেন, জন-নিরাপত্তার জন্য এটা জরুরী ছিল এবং এর পরে দেশের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে মেলামেশা বাড়বে।

কিন্তু মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা মুসলিম নারীদের প্রতি বৈষম্য, কারণ অনেক মুসলিম নিকাব ব্যবহারকে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা মনে করে।

নিকাব এবং বোরকা নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশেই বিতর্ক রয়েছে। বেশ কটি দেশ নিকাব নিষিদ্ধ করেছে। কোন কোন দেশে নিকাব নিষিদ্ধ?

ইউরোপ

ফ্রান্স প্রথম কোনো ইউরোপীয় দেশ যেখানে ২০১১ সালে জনসমক্ষে নিকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়।

এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়। মামলা গড়ায় ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত পর্যন্ত। কিন্তু ২০১৪ সালের জুলাই মানে ইউরোপীয় ঐ আদালতও নিকাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে।

২১০৮ সালের অগাস্টে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ডেনমার্ক। এ ব্যাপারে জারী করা এক আইনে বলা হয় - জনসমক্ষে এমন কোনো পোশাক যদি কেউ পরে যাতে তার মুখ পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যায় তাহলে ১০০০ ক্রোনা (১৫৭ ডলার) জরিমানা করা হবে। দ্বিতীয়বার এই নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে ১০ গুণ বেশি জরিমানা গুনতে হবে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ইউরোপের বেশ কিছু দেশে নিকাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে যা নিয়ে মুসলিমরা ছাড়াও মানবাধিকার কর্মীরা প্রতিবাদ করেছে।

ডেনমার্কের দুমাস আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালের জুন মাসে নেদারল্যান্ডসের সেনেটে একটি আইন পাশ করে সরকারি স্থাপনাগুলোতে (স্কুল, হাসপাতাল, গণপরিবহন) নিকাব নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সেদেশে রাস্তায় নিকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়নি।

জার্মানিতে গাড়ি চালানোর সময় নিকাব পরা বেআইনি। জার্মানির সংসদে পাশ করা একটি আইনে বিচারক, সরকারি কর্মচারী এবং সেনাবাহিনীতে নিকাব নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া, পরিচয় সনাক্ত করার প্রয়োজন হলে নিকাব সরানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বেলজিয়ামে ২০১১ সালের জুন মাসে পর্দা দিয়ে মুখমণ্ডল পুরোপুরি ঢাকা নিষিদ্ধ করে আইন হয়েছে। পার্ক বা রাস্তায় যে কোনো পোশাক যাতে মানুষের চেহারা ঢাকা পড়তে পারে তা নিষিদ্ধ করা হয়।

অস্ট্রিয়ায় স্কুল এবং আদালত সহ অনেক জায়গায় নিকাব নিষিদ্ধ করে ২০১৭ সালের অক্টোবরে ইন করা হয়।

নরওয়েতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিকাব নিষিদ্ধ করে আইন হয়েছে।

বুলগেরিয়াতে ২০১৬ সালে এক আইনে নিকাব পরার জন্য জরিমানার পাশাপাশি সরকারি কল্যাণ ভাতা কমিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

লুক্সেমবুর্গে হাসপাতাল, আদালত এবং সরকারি অফিস-আদালত সহ কিছু কিছু জায়গায় পুরোপুরি মুখ ঢেকে রাখার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

ইউরোপের কয়েকটির দেশে আবার কিছু কিছু শহর এবং অঞ্চলে নিকাব নিষিদ্ধ। ইটালির কয়েকটি শহরে এই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যেমন নোভারায় অভিবাসন বিরোধী দল নর্দার্ন লীগ ক্ষমতা নেওয়ার পর ২০১০ সালে সেখানে নিকাব পরা নিষিদ্ধ করে।

স্পেনের বার্সিলোনা শহরে ২০১০ সাল থেকে কিছু কিছু জায়গায় (মিউনিসিপাল অফিসে, বাজারে, লাইব্রেরিতে) নিকাব পরা নিষিদ্ধ।

সুইজারল্যান্ডে কিছু অঞ্চলেও জনসমক্ষে নিকাব পরা নিষিদ্ধ।

ছবির কপিরাইট Anadolu Agency
Image caption ভিয়েনায় জনসমক্ষে বোরকা পরার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আফ্রিকা

শাদ, গ্যাবন, ণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র,ক্যামেরুনের উত্তরাঞ্চলে এবং নিজেরের ডিফা অঞ্চলে জনসমক্ষে নিকাব নিষিদ্ধ। ২০১৫ সালে আফ্রিকার ঐ অঞ্চলে নিকাব পরিহিত নারীরা পর পর কয়েকটি আত্মঘাতী হামলা চালানোর পর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

আলজেরিয়ায় ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস থেকে সরকারি কর্মচারীদের নিকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়।

চীন

চীনের উইগুর মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে জনসমক্ষে নিকাব এবং লম্বা দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ।