চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগ স্বীকার করলেন সিআইএ-র সাবেক এজেন্ট

লাল টাই পড়া পেছনের ব্যক্তিকে জেরি চুন শিং লি বলে সনাক্ত করেছে হংকংয়ের গণমাধ্যম ছবির কপিরাইট AFP
Image caption লাল টাই পড়া পেছনের ব্যক্তিকে জেরি চুন শিং লি বলে সনাক্ত করেছে হংকংয়ের গণমাধ্যম

চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন সিআইএ-র একজন সাবেক এজেন্ট। সিআইএ থেকে তিনি অনেক তথ্য চুরি করেছেন বলে মনে করা হয়।

৫৪ বছরের জেরি চুন শিঙ লি ২০০৭ সালে সিআইএ ছেড়ে হংকংয়ে বসবাস করতে শুরু করেন, যখন তিনি চীনের এজেন্টদের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

আইনজীবীরা বলছেন, এরপরে তিনি চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানের বিষয়ে অনেক তথ্য তুলে দিয়েছেন।

এর ফলে ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তথ্যদাতাদের একটি নেটওয়ার্ক সনাক্ত করে ভেঙ্গে দেয় চীন।

ওই সময়ের মধ্যে অন্তত ২০জন তথ্যদাতাকে হত্যা করা হয়েছে অথবা কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, যাকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় বলে বর্ণনা করা হয়।

মি. লি কি করেছেন?

সিআইএ এজেন্ট হিসাবে ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন লি।

২০১০ সালে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে চীনা গুপ্তচর সংস্থার লোকজন। তারা তাকে প্রস্তাব করে যে, তাকে অনেক অর্থ দেয়া হবে এবং বাকি জীবন 'দেখভাল' করা হবে - যদি তিনি কিছু গোপন তথ্য সরবরাহ করেন।

তার হংকং ব্যাংক হিসাবে লাখ লাখ ডলার জমা করা হয়।

আরো পড়ুন:

চীনে বিদেশি গুপ্তচর ধরিয়ে দিলেই পুরস্কার

বিশ্বযুদ্ধের গোপন খবর বয়ে বেড়াচ্ছেন যে নারী গুপ্তচর

একজন কূটনীতিক যখন গুপ্তচর হয়ে ওঠেন

এরপর মি. লি এমন একটি নথি তৈরি করেন, যেখানে সিআইএ কর্মকাণ্ড এবং মার্কিন এজেন্টদের দায়িত্ব সম্পর্কিত তথ্য ছিল।

২০১২ সালে হাওয়াইতে তার হোটেল কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একটি পেন ড্রাইভ পায় এফবিআই, যেখানে গোপন তথ্য ছিল বলে মনে করা হয়। সেখানে এমন একটি নোট পাওয়া যায়, যেখানে সিআইএ এজেন্টদের তথ্য, তাদের সত্যিকারের পরিচয়, অপারেশন মিটিংয়ের স্থান ও ফোন নম্বর ছিল।

তবে গোপন নথি তৈরির কথা স্বীকার করলেও চীনকে সেগুলো সরবরাহ করা হয়নি বলে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে দাবী করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালে নিউইয়র্ক জেএফকে বিমানবন্দরে মি. লীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চীনে সিআইয়ের অপারেশন বিপর্যয়

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে পাহারা দিচ্ছে চীনের পুলিশ

২০১০: চীনের সরকারের আমলাদের ভেতর থেকে সিআইএ-র তথ্য আসা কমে যেতে শুরু করে

২০১১: তথ্য দাতা ব্যক্তিরা নিখোঁজ হয়ে যেতে শুরু করেন।

২০১২: এফবিআই তদন্ত শুরু করে

মে ২০১৪: ব্যবসায়িক তথ্য চুরি আর মার্কিন কোম্পানির তথ্য চুরির অভিযোগে পাঁচজন চীনা আর্মি অফিসারকে অভিযুক্ত করা হয়। এরপরে চীন অভিযোগ করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।

২০১৫: বেইজিং দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করে সিআইএ, কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে, সরকারি কম্পিউটার থেকে চুরি যাওয়া তথ্যের কারণে এজেন্টদের পরিচয় বের হয়ে যেতে পারে।

এপ্রিল ২০১৭: বিদেশী গুপ্তচরদের তথ্য দেয়ার জন্য বিপুল অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করে চীন সরকার।

মে ২০১৭: চারজন সাবেক সিআইএ এজেন্ট নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন যে, ২০১০ থেকে ২০১২ অন্তত ২০জন তথ্যদাতাকে হত্যা করা হয়েছে অথবা কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জুন ২০১৭: চীনের গোয়েন্দাদের কাছে অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য দেয়ার অভিযোগে মার্কিন সাবেক কূটনৈতিক কর্মকর্তা কেভিস মেলোরিকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়।

জানুয়ারি ২০১৮: সাবেক সিআইএ এজেন্ট জেরি চুন শিং লিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

ঘূর্ণিঝড়ের ফণী নামটি কোথা থেকে এলো?

ঘূর্ণিঝড়ের কোন সতর্ক সংকেতের কী মানে?

দেহরক্ষীকে বিয়ে করে রানি বানালেন থাই রাজা

মার্গারেট থ্যাচার: যেভাবে রাজনৈতিক জীবনের ইতি