শ্রীলঙ্কা হামলা: ছুরি, তলোয়ার থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ

হামলার পর সারাদেশে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ছবির কপিরাইট AFP
Image caption হামলার পর সারাদেশে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

শ্রীলঙ্কায় কর্তৃপক্ষ জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছে তাদের কাছে যেসব তলোয়ার ও বড় আকারের ছুরি আছে সেগুলো জমা দেওয়ার জন্য।

ইস্টার সানডেতে বেশ কয়েকটি গির্জা ও হোটেলে আত্মঘাতী হামলায় বহু মানুষ হতাহত হওয়ার পর সারা দেশে নিরাপত্তার জন্যে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তারই অংশ হিসেবে এই আহবান জানানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের জন্যে বৈধ যেসব ছুরি আছে সেগুলো এর আওতায় পড়বে না।

একুশে এপ্রিলের হামলার পর পুলিশ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যেই শত শত অস্ত্র উদ্ধার করে সেগুলো জব্দ করেছে।

ওই হামলায় আড়াইশো জনেরও বেশি নিহত এবং আরো প্রায় পাঁচশো জন আহত হয়েছে।

পুলিশ বলছে, লোকজনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে তাদের কাছে থাকা বড় আকারের ছুরি এই শনি রবিবারের মধ্যেই জমা দেওয়ার জন্যে। এগুলো স্থানীয় থানায় গিয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

পুলিশের একজন মুখপাত্র রোয়ান গুনাসেকারা বলেছেন, এছাড়াও লোকজনের কাছে যদি সামরিক বাহিনীর ইউনিফর্মের মতো দেখতে জামা-কাপড় থাকে সেগুলোও স্থানীয় থানায় গিয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

তবে এই দু'দিনে কেউ যদি তাদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র জমা দেয় তাহলে তাদেরকে ক্ষমা করা হবে কীনা সেবিষয়ে তিনি কিছু বলেন নি।

হামলার ঘটনায় তদন্তের মধ্যেই পুলিশের পক্ষ থেকে এই আত্মসমর্পণের আহবান জানানো হলো।

প্রেসিডেন্ট মৈথ্রিপালা সিরিসেনা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গতকাল শনিবার বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে হামলার সাথে জড়িত আরো ২৫ থেকে ৩০ জন এখনও পলাতক রয়েছে।

"যে গ্রুপটি আক্রমণ করেছে তাদের সক্রিয় সব সদস্যকে আমরা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছি। এখন শুধু তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা বাকি," বলেন তিনি।

তবে সন্দেহভাজন এসব ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলাকারী কিনা সেবিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে তথ্য পাওয়া যায়নি।"

মি. সিরিসেনা আরো বলেছেন, হামলার কৃতিত্ব দাবি করে ইসলামিক স্টেট যে বিবৃতিতে দিয়েছে সেটা তিনি বিশ্বাস করেন।

"এটা তো ক্রিস্টালের মতো স্বচ্ছ। কারণ বোমা হামলার পর আইএস এর দায়িত্ব স্বীকার করে একটি ঘোষণা দিয়েছে।"

অবশ্য শ্রীলঙ্কায় কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্যে স্বল্প পরিচিত দুটো ইসলামপন্থী গ্রুপকে দায়ী করেছে। এই গ্রুপগুলো হচ্ছে ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত বা এনটিজে এবং জামাতেই মিল্লাতু ইব্রাহিম।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈথ্রিপালা সিরিসেনা।

আরো পড়তে পারেন:

অধিকাংশ হামলাকারী 'উচ্চ-শিক্ষিত, ধনী ঘরের সন্তান'

শ্রীলঙ্কায় হামলা: বাংলাদেশ কতটা শঙ্কামুক্ত?

'আমরা ভাবিনি এই লোকটা আমাদের মারতে এসেছে'

তবে তারা মনে করে এই দুটো গ্রুপের পেছনে দেশের বাইরে থেকেও সমর্থন ছিল।

প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা জানিয়েছেন মোট আটটি দেশে গোয়েন্দা বাহিনী এই হামলার তদন্তে তাদেরকে সহযোগিতা করছে।

তিনি বলেন, তার দেশের নিরাপত্তা বাহিনী শ্রীলঙ্কা থেকে "সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল" করবে এবং আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

এবছরের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

"নির্বাচন স্থগিত করা যাবে না। আর একারণে নির্বাচনের আগেই সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করে দেশে স্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে," বলেন তিনি।

ইস্টার সানডের হামলার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যেই বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রায় এক দশক আগে গৃহযুদ্ধের অবসান হওয়ার পর আপাত শান্তি ফিরে আসা দেশটিতে চালানো এই হামলা বড়ো ধরনের উদ্বেগ ও অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে।

আরো পড়তে পারেন:

ঘূর্ণিঝড় ফণী: পূর্বাভাস প্রদানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ভূমিকা ছিল কি?

মোটর বাইকে দুই নারীর ৬৪ জেলায় দুঃসাহসিক সফর

ধ্বংস হওয়ার তিন দশক পর পুননির্মিত মসজিদ