এডিটার'স মেইলবক্স: রমজান ও মূল্য বৃদ্ধি; শামীমা বেগম নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের বাকুলিয়া বাজার (ফাইল চিত্র) ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে রয়েছে মানুষের অভিযোগ।

এ সপ্তাহের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি ছিল রমজানের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি।

সে প্রসঙ্গে যাবার আগে জানিয়ে রাখি - সপ্তাহ দুয়েক আগে রাজশাহীতে বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটার খবর দিয়েছিলেন একাধিক শ্রোতা। এব্যাপারে বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলীর অফিস আমাদের জানিয়েছে বিদ্যুত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার কারণে অনুষ্ঠান সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটেছিল। আশা করি এখন অনুষ্ঠান শুনতে আপনাদের আর অসুবিধা হচ্ছে না।

রমজানের সময় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে মন্তব্য করেছেন কাউনিয়া, রংপুর থেকে মিস বিলকিছ আক্তার:

''আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা নাকি তারা করছেন। স্বভাবতই খবরটিতে আমার চোখ আটকে গেল, কারণ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আমার নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪-এর একজন জনপ্রতিনিধিও। প্রতি বছর রমজানের আগে এসব শুনি; কিন্তু কোনোই কাজ হয়না। শুধুই শুভংকরের ফাঁকি বলে মনেহয় আমার কাছে।

''পবিত্র রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের বাজার, বিক্রেতা বা ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে আমি মনেকরি। মাননীয় মন্ত্রী- আপনাকে বিবিসি বাংলা'র মাধ্যমে আরেকটি অনুযোগ জানাতে চাই- আর তা হলো...একমাত্র আমাদের দেশেই রমজান মাস আসলে দ্রব্যমূল্য বাড়ে কেন? যা খুবই অমানবিক মনে হয় আমার কাছে।''

মিস আক্তার। আপনার এই আবেদন বিবিসি বাংলার মাধ্যমে সরকারের কাছে পৌঁছবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে নিশ্চয়ই আশা করব সরকার রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সর্বোতভাবে চেষ্টা করবেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রতিবছর রমজানের সময় মাছ, মাংস, ভোজ্য তেল, চিনি, পেঁয়াজ, খেজুর ইত্যাদির মূল্য বৃদ্ধি একটি নিয়মিত ঘটনা।

তবে মিস আক্তারের মতই সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না গেণ্ডারিয়া, ঢাকার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''প্রতিবছর রমজানের সময় মাছ, মাংস, ভোজ্য তেল, চিনি, পেঁয়াজ, খেজুর ইত্যাদির মূল্য বৃদ্ধি একটি নিয়মিত ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাঁক-ডাক, মোবাইল কোর্ট, ভেজাল বিরোধী অভিযান ইত্যাদি পদক্ষেপ দেখলে মনে হয়, সবকিছু নিমেষেই সমাধান হয়ে যাবে। আসলে মূল্য বৃদ্ধি কোনভাবেই ঠেকানো যায় না। সবকিছু দেখে মনে হয়, আসলে সবই লোক দেখানো নাটক। ভোক্তারা সেই তিমিরেই থেকে যায়।''

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কাজেই সিন্ডিকেট করে বা অন্য কোনো উপায়ে দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ এবার নেই। সরকার এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় কঠোর হবে বলে মন্ত্রী বলেছেন। সরকার এই প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা সফল হন সেটাই এখন দেখার। আপনাদের দুজনকেই লেখার জন্য ধন্যবাদ।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর সংবাদ প্রচার নিয়ে একটি প্রশ্ন করেছেন মালদাহ কলোনি, রাজশাহী থেকে শফিকুল ইসলাম:

''উড়িষ্যায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব নিয়ে ভুবনেশ্বরের সাংবাদিক সন্দীপ সাহুর সাক্ষাৎকার শুনিয়েছিলেন। আপনারা তাকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেন অথচ তিনি বিবিসি হিন্দি সার্ভিসের উড়িষ্যা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত। এমনকী যেদিন তার সাক্ষাৎকার নেন তার পরের দিন হিন্দি বিভাগের সকালের অনুষ্ঠানে সন্দীপ সাহু প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপনারা কি তার পরিচয় সম্পর্কে বলতে পারতেন না যে তিনি বিবিসি হিন্দির ভুবনেশ্বর অথবা উড়িষ্যা প্রতিনিধি?''

মি: ইসলাম- সন্দীপ সাহু বিবিসি হিন্দির জন্য উড়িষ্যা থেকে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠান ঠিকই, কিন্তু তিনি বিবিসির নিয়মিত কর্মী নন। তিনি উড়িষ্যার স্থানীয় সাংবাদিক। আর সে কারণেই তাকে আমরা ভুবনেশ্বরের সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলাম। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Alamy
Image caption অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে আইএস জঙ্গিরা

বড়গ্রাম, ঠাকুরগাঁও থেকে লিখেছেন মোঃ ফিরোজুল ইসলাম:

''গত মঙ্গলবার রাতের অনুষ্ঠানে এক প্রতিবেদনে শুনলাম বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এক ব্যক্তির সিরিয়ায় আইএসে যোগ দেওয়া ও পরে বাংলাদেশে ফিরে তার জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার কাহিনি। কিন্তু অনুষ্ঠানের শেষের দিকে শিরোনামে বলা হলো 'আইসিসি'র যুদ্ধে সিরিয়ায় যোগ দেয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত অমুক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে বিশেষ পুলিশ। আমার জানার বিষয় আইএস কিভাবে আইসিসি হয়? নাকি আমার শোনার ভুল!''

আপনার শোনারই ভুল মি: ইসলাম। কারণ অনুষ্ঠান শেষের শিরোনামে উপস্থাপক সেদিন বলেছিলেন ''সৌদি আরবে বড় হওয়া এক যুবক বাংলাদেশে আটক- পুলিশ বলছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এই যুবক সিরিয়ায় আইসিস-এর হয়ে যুদ্ধ করেছিল।''

অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন উপস্থাপক আইসিসি বলেন নি- বলেছিলেন আইসিস। আইএস ও আইসিস একই গোষ্ঠির নাম। ইসলামিক স্টেট জিহাদি গোষ্ঠির মূল নামটি ছিল ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যাণ্ড সিরিয়া- আই.এস.আই.এস. অর্থাৎ সংক্ষেপে আইসিস। খেলাফত প্রতিষ্ঠার পর গোষ্ঠিটি নিজেদের নাম সংক্ষিপ্ত করে মূলত আইএস ব্যবহার শুরু করে। আপনাকে ধন্যবাদ।

(সিরিয়া-ইরাক থেকে কি আইএস জঙ্গিরা বাংলাদেশে ফেরত আসছে? বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন পড়তে চাইলে ক্লিক করুন।)

৫ই মে প্রচারিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে লিখেছেন তানাকা রহমান:

''বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলছেন, তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের জিহাদি বধূ শামীমা বেগম যদি বাংলাদেশে হাজির হয়, তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড হবে। প্রত্যেকটি দেশের নিজস্ব কিছু আইন কানুন আছে এবং সে আইনানুসারে মারাত্মক আসামীর ক্ষেত্রেও আদালত একটি আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রক্রিয়া শেষ করে নির্ধারণ করে, কাকে ফাঁসি দেওয়া হবে আর কাকে দণ্ডিত করা হবে। কিন্তু তার আগে এমন মন্তব্য মূলত বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি এক ধরণের আস্থাহীনতা এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস না করারই নামান্তর বলে আমি মনে করি। মাননীয় মন্ত্রী শামীমা বেগম বাংলাদেশে আসলে আইনানুসারে কী ধরণের শাস্তি হতে পারে তা স্মরণ করিয়ে দিতে পারতেন।''

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন সন্ত্রাসের প্রশ্নে বাংলাদেশ 'জিরো টলারেন্স' অবস্থান নিয়েছে। আর বাংলাদেশে সন্ত্রাসের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তিনি বলার চেষ্টা করেছেন শামীমা বেগমকে বাংলাদেশ কখনই সেদেশে ঢুকতে দেবে না। এবং এরপরও সে যদি বাংলাদেশে গিয়ে হাজির হয়, সরকার তাকে, মন্ত্রীর ভাষায়, জেলে নিয়ে যাবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি দেবে। তবে অবশ্যই সরকারকে একটা আইনী প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্ভবত যেটা বলার চেষ্টা করেছেন যে তাকে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। আপনার দীর্ঘ চিঠিতে ওই সাক্ষাৎকারে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের উল্লেখও আপনি করেছেন। লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের জিহাদি বধূ শামীমা বেগম যদি বাংলাদেশে হাজির হয়, তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড হবে।

ঢাকা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পূর্ণ কর্মঘন্টা কাজ করার ব্যাপারে যে নির্দেশ দিয়েছে সে প্রসঙ্গে দাকোপ, খুলনা থেকে লিখেছেন মুকুল সরদার:

''প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘ দিন ধরে তাদের বেতন ও পদমর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করে আসলেও সরকার যে বিষয়টিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে তেমনটা নয়। তাই বলে শিক্ষকরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘুরে বেড়াবেন সেটিও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমার মনে হয়, শিক্ষকদের দাবিদাওয়াগুলিকে গুরুত্ব দেবার পাশাপাশি মনিটরিং ব্যবস্থাকে জোরদার করা হলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করা নিশ্চয়ই সম্ভব হবে। বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিবিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরবার জন্য।''

সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষাখাত নিয়ে গবেষকরা। তবে তারা একথাও বলেছেন যে বিষয়টি মনিটারিং-এর আওতায় না আনতে পারলে এ উদ্যোগ সফল হবে না। লেখার জন্য ধন্যবাদ।

মিয়ানমার সরকার সাত বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে মুক্তি দিয়েছে ৭ই মে। লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা থেকে লিখেছেন জহিন মুমতাহিনাহ:

''রোহিঙ্গা নির্যাতনের বহু আগ থেকেই মিয়ানমারের সাংবাদিকরা খুবই ভয় ও উৎকন্ঠার মধ্যে কাজ করছেন। সেই প্রেক্ষাপটে এই মুক্তিদান স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার জন্য খুবই আনন্দের এবং অন্যান্য সাংবাদিকদের জন্য বেশ অনুপ্রেরণার। তবে মিয়ানমার সরকার এখনও রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আশা করি, তাদের মতো সাহসী সাংবাদিকদের অনুসন্ধানমূলক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।''

তাদের মুক্তির পর রয়র্টাসের ওই দুই সাংবাদিককে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার 'প্রতীক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রয়টার্স সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক। ২০১৭ সালে একটি সেনা অভিযানে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ১০ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করেছিল - এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং সাত বছরের জেল দেওয়া হয়েছিল। প্রেসিডেন্টের ক্ষমায় তারা মুক্তি পাবার পরও মিয়ানমারে সাংবাদিকরা ভবিষ্যতে কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন সেটা দেখার। তবে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনের বিষয়টি বহুলাংশেই নির্ভর করবে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফলভাবে এগোয় তার ওপর। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption টাইমস হাইয়ার এডুকেশন নামে লন্ডন ভিত্তিক প্রকাশনা ২০১৯ সালের যে তালিকা দিয়েছে সেখানে এশিয়ার ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকায় বাংলাদেশের অনুমোদিত ৪২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটিরও নাম নেই।

পরের চিঠি লিখেছেন পার্বতীপুর, দিনাজপুর মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''৬ই মে বিবিসি বাংলা'র সান্ধ্য অধিবেশনে শুনলাম এবং ওয়েবসাইটেও পড়লাম এশিয়ার সেরা ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থাকলেও বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই। বিষয়টি অবশ্যই আমাদের সাধারণ মানুষের জন্য লজ্জাজনক। আমরা দেখি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক নিয়োগ হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। ঐ সকল শিক্ষকরা রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত থাকে সারাক্ষণ আর নিজেদের আখের গোছায়! বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির চর্চা করলে তো এমনই হবে। আমি প্রীতিভাজনেষুর মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে দেশের সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।''

এই তালিকায় স্থান পাওয়ার যোগ্যতা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সনাতন শিক্ষাদান পদ্ধতি ও মৌলিক গবেষণার অভাব। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন না করতে পারলে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান করে নেওয়ার জন্য যোগ্যতার মাপকাঠিতে বাংলাদেশকে পিছিয়ে পড়তে হবে। লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

বিবিসির বাংলার ওয়েবপেজে ভিডিও নিয়ে অভিযোগ করে লিখেছেন জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ থেকে শাহিদা খাতুন:

''আমি বিবিসি বাংলা অনেক দিন থেকে শুনতাম কিন্তু এখন আর রেডিওতে শুনতে পাই না,তাই এখন নিয়মিত ওয়েব সাইটের পাতায় চোখ রাখি। এখানে আপনারা যে ভিডিওগুলো দেন তার সাথে যে টেক্সট থাকে সেটা অনেক সময় পড়তে পারা যায় না। কালারের কারণে ছবির সাথে অমিল থাকার জন্য। আমার অনুরোধ আপনারা যদি ভিডিওগুলোর সাথে টেক্সট না দিয়ে সেগুলো মুখে বলেন তাহলে আমরা সেটা অনেক ভালো জানতে পারব।''

মিস খাতুন-অনেক ডিজিটাল ভিডিও একটা শব্দচিত্র। সেখানে ছবির সঙ্গে মেশানো অন্যান্য শব্দের ওপর দিয়ে টেক্সট লিখে গল্পটা বলা হয়। কেউ কথা বললে সেটা অডিও হিসাবেই থাকে। অনেক সময় তাদের বক্তব্যের সার সংক্ষেপও টেক্সট হিসাবে দেয়া হয়। দেখা গেছে যারা ডিজিটাল ভিডিও দেখেন, তারা ভিডিওটি শোনার থেকে চোখে দেখতে বেশি পছন্দ করেন। আর সে কারণেই ছবি ও বক্তব্য টেক্সট আকারে দেয়া হয়। তবে টেক্সট যাতে সহজে পড়া যায়, সেটা নিয়ে ডিজাইনরা ভাবনাচিন্তা সবসময়েই করছেন এবং আপনাদের পড়ার বা দেখার অভিজ্ঞতা যাতে আরও ভাল হয় সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
মাসিকের 'লজ্জা' ভাঙ্গাতে ভ্রমণকন্যাদের চেষ্টা

সবশেষে একটি অভিযোগের চিঠি। লিখেছেন দাউদকান্দি, কুমিল্লা থেকে মো: শামিমুল হক মামুন:

''সেই ১৯৮৭ সাল থেকে বিবিসি বাংলা শুনে আসছি, তার ধারাবাহিকতায় আজ ৫ইমে সকালের অধিবেশন শুনছিলাম। দুই ভ্রমণ কন্যার বাংলাদেশ ভ্রমণের প্রতিবেদন প্রচার করতে গিয়ে, সংবাদের শিরোনাম, সাক্ষাৎকারের সময় এবং অনুষ্ঠান শেষে আবার সংবাদ শিরোনামে ৬৮ টি জেলা ভ্রমণের কথা বললেন উপস্থাপক অথচ ভ্রমণকারী শিক্ষার্থী বলেছেন ৬৪ জেলা ভ্রমণের কথা। কেন এমন উপস্থাপনা জানাবেন।''

বুঝতেই পারছেন উপস্থাপক ভুল করেছেন। এধরনের ভুল কখনই কাম্য নয়। পেশায় চিকিৎসক সাকিয়া হক আর মানসী সাহা মোটর বাইকে করে সারাদেশের সবকটি জেলা অর্থাৎ ৬৪ জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরেছেন। যে ভ্রমণ অভিযানের নাম তারা দিয়েছিলেন নারীর চোখে বাংলাদেশ। এই ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন আরও কয়েকজন শ্রোতা। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা খুবই দু:খিত। আপনাদের ধন্যবাদ লেখার জন্য।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড় গোপালগঞ্জ।

আলি হুসেন, আজমান, সংযুক্ত আরব আমীরাত।

মো: শেহরাজ হুসেন, মেরিল্যাণ্ড, আমেরিকা।

মো: শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি খুলনা।

মোঃ আব্দুল হক, বড়কমলাবাড়ী, লালমনিরহাট।

পলাশ চন্দ্র রায়, জায়গীর পাড়া, মাড়েয়া, পঞ্চগড়।

তপন মজুমদার, বাগেরহাট।

শামীম উদ্দিন শ্যামল, ধানমন্ডি, ঢাকা।

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, পদ্মা আবাশিক এলাকা, রাজশাহী।

আশরাফুল আশেক, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

চিঠি লেখার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

আমাদের কাছে লেখার ঠিকানা bengali@bbc.co.uk। চিঠি লেখার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/