বাংলাদেশে তিনটি খাতে দুর্নীতির অভিযোগ বেড়েছে

ভূমি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অভিযোগ বেড়েছে বলে বলছে দুর্নীতি দমন কমিশন ছবির কপিরাইট BBC BNAGLA
Image caption ভূমি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অভিযোগ বেড়েছে বলে বলছে দুর্নীতি দমন কমিশন

বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অভিযোগ বেড়েছে।

সোমবার রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় গলদ থাকাই দুর্নীতি বাড়ার বড় কারণ ।

তবে দুর্নীতির অভিযোগ বাড়লেও দুদকের মামলার সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বিবিসিকে বলেছেন, তদন্তের মান এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে, সেটাই মামলা কমে যাবার কারণ।

কমে যাচ্ছে দুর্নীতি বিরোধী মামলা?

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক বিবেচনার প্রশ্ন আছে, এমন বড় বড় ইস্যু এড়িয়ে গিয়ে দুদক ছোটখাটো বিষয়ে মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকছে।

তবে দুদক তা অস্বীকার করেছে।

সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের জীবনে যে দুর্নীতি বা অনিয়মের মুখোমুখি হচ্ছে, তা প্রতিরোধের বিষয়কেই বেশি গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছে দুদক।

সংস্থাটি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, মাঠ পর্যায় থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ বেশি এসেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে দুর্নীতির হাজার হাজার অভিযোগ করেছে।

আরো পড়ুন:

দুর্নীতির সূচক: বাংলাদেশের 'বিব্রতকর' অবনতি

পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হলো যেভাবে

'দুর্নীতির ধারণা সূচক তৈরির পদ্ধতি সঠিক নয়'

Image caption দুর্নীতি পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বাংলাদেশে

কি বলছেন দুদক কর্মকর্তারা?

দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলছিলেন, ভূমি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাত—এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতির কারণে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

"বড় ধরণের অভিযোগও আসে, ছোট অভিযোগও আসে।তবে সবচেয়ে বেশি আসে ছোট অভিযোগ। ছোট অভিযোগ মানে মাঠ পর্যায়ের অভিযোগগুলো।

বিশেষ করে ল্যান্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য- এসব ক্ষেত্রে আসলে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

সরকারের ব্যবস্থাপনার যে পদ্ধতি, সেই সিস্টেমে গলদ রয়ে গেছে। আমরা এই সিস্টেমে সংস্কারের জন্য তিন বছর ধরে আমরা সরকারকে বলছি। প্লিজ ট্রাই টু রিফর্ম। মানুষ কিন্তু বেশি সাফার করছে মাঠ পর্যায়ে।"

ব্যাংক খাতে বড় অংকের ঋণ কেলেংকারিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় বড় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুদক কতটা শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে তা নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন রয়েছে।

তারা মনে করছেন, দুর্নীতির বড় বিষয়গুলো সাধারণ মানুষকে সরাসরি আঘাত করে না, এ বিষয়টি হয়তো বিবেচনায় নিয়ে দুদক ছোটখাটো বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক বিবেচনায় বড় অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার বিষয় থাকতে পারে বলেও আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন।

তবে ইকবাল মাহমুদ এসব অভিযোগ নাকচ করে দেন।

"চুনোপুঁটিরাই তো আমাদের গ্রামের জনসাধারণকে কাঙ্ক্ষিত সার্ভিস দিচ্ছে না। এটাই সমস্যা। এপর্যন্ত আমরা রাজনৈতিক কিছু বিবেচনা করি নাই।এখানে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোন মামলা করা হয় নাই, কোন মামলা করা হয় না। সেই সুযোগও নাই।"

তবে মাঠ পর্যায় থেকেই হাজার হাজার অভিযোগ এলেও মামলার সংখ্যা কমেছে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

রাজশাহীতে সর্দি-জ্বরের ঔষধে উল্টো অসুস্থ ১৪ শিশু

পরীক্ষার প্রস্তুতির ব্যাপারে স্নায়ুবিজ্ঞানীদের টিপস

সৌদি তেলবাহী জাহাজে 'গুপ্ত হামলা'

আফগান যে নারীকে হত্যার ঘটনায় তোলপাড় চলছে

Image caption সবচেয়ে কম দুর্নীতি হয় যেসব দেশে

তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে প্রায় সাড়ে নয়শো অভিযোগ অনুসন্ধান করে ২৭৩টি মামলা করা হয়েছিল। আর ২০১৮ সালে সাড়ে বারশো'র'বেশি অভিযোগ অনুসন্ধান করে ২১৬টি মামলা করা হয়েছে।

কিন্তু গত বছরে অভিযোগ এসেছিল সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি।

দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা টিআইবি'-র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন সুলতানা কামাল বলছিলেন, হাজার হাজার অভিযোগ থেকে কিছু বাছাই করে অনুসন্ধান করা হলে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

"অভিযোগ পেলে সেটা নিয়ে কাজ না করা একটা প্রতিষ্ঠানের সুনীতি হতে পারে না। এছাড়া কিসের ভিত্তি অভিযোগ বাছাই করে অনুসন্ধান করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন আসতে পারে। লোকবল বাড়িয়ে তাদের সব অভিযোগই খতিয়ে দেখা উচিত।"

তবে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মামলার সংখ্যা কমার পিছনে মানসম্মত তদন্তের বিষয়কে অন্যতম একটা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

"একটা পারসেপশন আছে যে, দুর্নীতি দমন কমিশন শুধু মামলাই করে।মামলা কখন হয়, একটা দুর্নীতি হওয়ার পরই মামলা হয়। কিন্তু আমরা দুর্নীতি ঘটার আগেই আমরা সেখানে হস্তক্ষেপ করতে চাইছি।যে কারণে মামলা এবং অনুসন্ধানের সংখ্যা কমেছে।"

"এর আরেকটা কারণ আমরা কোয়ালিটি অনুসন্ধান করতে চাই এবং কোয়ালিটি মামলা করতে চাই। যাতে শতভাগ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।"

দুদকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

দুদক এখন কোন কোন খাতে নজর দেবে, সেই পরিকল্পনাও তারা তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে।

ইকবাল মাহমুদ বলছিলেন, "আমরা এবছর কাউকে ছাড় দেব না, যারা সরকারি সম্পত্তি দখল করেছে। যেমন রেলের জমি, সড়কের জায়গা এবং খাসজমি।খাস জমি মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু এই জমি ছোট একটা কাগজের মাধ্যমে জোতদারের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে।এভাবে সাতশ আটশো একর জমি কোন কোন বিখ্যাত লোকের কাছে রয়ে গেছে। এদের এবার ছাড় দেয়া হবে না।"

"নিয়োগ, বদলি এবং পদায়নের ব্যাপারে আমরা সুপারিশ করছি। আমরাও এটা মনিটর করবো। পয়সা দিয়ে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন করতে দেয়া হবে না। স্কুলে ক্লাসে পড়ানো হয় কিনা, সেটাও আমরা মন্ত্রণালয়ের সাথে মিলে দেখবো।"

সম্পর্কিত বিষয়