মানহীন খাদ্য পণ্য এতদিন পর কেন আলোচনায়?

ডিপার্টমেন্টাল স্টোর
Image caption বাজার থেকে ৫২ টি পণ্য সরিয়ে নিতে বলেছে হাইকোর্ট।

বাংলাদেশের হাইকোর্ট সরকারি পরীক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের প্রমাণিত ৫২টি খাদ্য পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার পর এনিয়ে জনগণের মধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশনার পর ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত খাদ্য পণ্যের তালিকা নিয়ে লোকজন বাজারে যাচ্ছেন বলে বিবিসি সংবাদদাতা দেখতে পেয়েছেন।

বাজারে খাদ্য পণ্যের মধ্যে ভেজালের উপস্থিতি কিংবা ক্ষতিকর খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা নতুন নয়।

তাহলে এতদিন পর কেন মানহীন বলে প্রমাণিত কিছু পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার পর খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হলো?

কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান মনে করেন, নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি অতীতে খুব একটা গুরুত্ব পায়নি বলেই এনিয়ে এতদিন বেশি আলোচনা হয়নি।

"নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি অতীতে আমাদের দেশে বেশি গুরুত্ব পায়নি। কীভাবে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো যায়, সেটিই অধিক গুরুত্ব পেয়েছে সবসময়।"

মি. রহমান বলেন, চিরাচরিত আইনে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কিছু নির্দেশনা থাকলেও এবিষয়ে বিস্তারিত কোনো আইন ছিল না।

"২০১৩ সালে প্রথম 'নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩' গঠন করা হয় এবং ঐ আইন বাস্তবায়নে একটি কর্তৃপক্ষ করা হয় - নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।"

আরো পড়তে পারেন:

যে ৫২টি পণ্য সরিয়ে নিতে বলেছে হাইকোর্ট

বিএসটিআই-এর তালিকা নিয়ে বাজারে যাচ্ছেন ভোক্তারা

ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption ঢাকায় অনেকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় নির্ভর করেন সুপার শপগুলোর ওপর।

খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ১৮টি মন্ত্রণালয় এবং প্রায় ৪৮০টি বিভিন্ন ধরণের সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার সমন্বয় করা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে জানান মি. রহমান।

মানুষ এবং নীতি-নির্ধারকদের কাছে অগ্রাধিকার না পাওয়ার কারণেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য আইনের প্রয়োগ এবং বাস্তবায়নের বিষয়টি এতদিন আলোচনায় আসেনি বলে মনে করেন মি. রহমান।

"বাংলাদেশে জনগণ এবং নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে এতদিন প্রাধান্য পেয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ খাদ্য নয়।"

"গত দশবছরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি হলেও সেগুলো এখনো কিন্তু পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেনি।"

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া বেশ কিছু আন্দোলন যেমন গণ আন্দোলনে রুপ নিয়েছিল, নিরাপদ খাদ্যের দাবিতে তেমন গণ আন্দোলন গড়ে উঠতে দেখা যায়নি কেন?

মি. রহমান মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে পরিগণিত না হওয়ার কারণে এ ধরণের আন্দোলন গণ আন্দোলনে রুপ নেয়নি।

"একসময় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের ব্রেড অ্যান্ড বাটার ইস্যুতে কাজ করতো। খাদ্য নিরাপত্তা, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রধান ইস্যু না।"

"আর ভোক্তা অধিকার সংস্থাগুলোর সক্ষমতা অত্যন্ত কম। তাছাড়া ভোক্তারাও সংগঠিত নয়, তাই এবিষয়ে কোনে আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠেনি," বলেন মি. রহমান।