কলসিন্দুরের মেয়ে ফুটবলারদের মেডাল পুড়লো রহস্যজনক আগুনে

মেয়েদের ফুটবল দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক সাফল্য দেখিয়েছে ছবির কপিরাইট AFC
Image caption মেয়েদের ফুটবল দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক সাফল্য দেখিয়েছে

বাংলাদেশের ময়মনসিংহে নারী ফুটবলারদের কারণে বিখ্যাত কলসিন্দুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, সনদ এবং ফুটবল দলের পাওয়া মেডাল পুড়ে গেছে।

মঙ্গলবার স্কুলের স্টাফ রুমে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ বলছে, কে বা কারা এই আগুন দিয়েছে এবং কেন দিয়েছে - তা এখনও পরিষ্কার নয়।

কলসিন্দুর স্কুলের মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় তিন তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং জাতীয় দলেও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ১০ জন খেলোয়াড় রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই ওই কলেজে গিয়েছিলেন হালুয়াঘাটের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি বলেন, তারা এই ঘটনা তদন্ত করে দেখছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর বিবিসি বাংলাকে জানান, একজন স্কুল শিক্ষক যিনি সকালবেলা কিছু ছাত্রের জন্য বিশেষ ক্লাস নেন, তিনি তার একজন ছাত্রকে শ্রেণীকক্ষের চাবি আনার জন্য স্টাফ রুমে পাঠান।

ছাত্রটি সেই ঘরে ঢুকতে গিয়ে দেখে ভেতর থেকে ধোঁয়া বেরুচ্ছে, তখন সে ছুটে গিয়ে শিক্ষককে জানায়।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

'বাংলাদেশের মেয়েরাই আগে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলবে'

যে ৪টি কারণে সেরা নারী ফুটবলাররা গ্রাম থেকেই আসছে

মেয়ে ফুটবলারদের নিয়ে কলসিন্দুর স্কুলে কি ঘটেছিল

ছবির কপিরাইট BARCROFT MEDIA
Image caption ফুটবল খেলছে কলসিন্দুর ড়্রামের মেয়েরা

বিবিসি বাংলার মিজানুর রহমান খানকে মি. আলমগীর বলছিলেন , এর পর ওই শিক্ষক এবং অন্য ছাত্ররা মিলে ভেতরে ঢুকতে পায় যে ঘরের আলমারীগুলো খোলা, আর মাঝখানে শিক্ষকদের বড় টেবিলের ওপর জড়ো করা কিছু কাগজপত্রে আগুন জ্বলছে।

তারা ঘরে থাকা একটি কলসের পানি দিয়ে আগুন নেভান।

মি. আলমগীর বলেন, যে কাগজগুলোতে আগুন জ্বলছিল তার মধ্যে ছিল কয়েকজন শিক্ষকের স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্টিফিকেট, ছাত্রদের হাজিরা খাতাসহ কিছু দলিলপত্র, হাজার তিনেক নগদ টাকা এবং কলসিন্দুরের মেয়েদের ফুটবল দলের বেশ কিছু মেডাল।

মেয়েদের ফুটবল দলের আরো কিছু মেডাল ও শিল্ড অক্ষত রয়েছে।

এ ঘটনার জন্য বিশেষ কাউকে কি সন্দেহ করা হচ্ছে? জবাবে পুলিশ সুপার মি. আলমগীর বলেন, তারা বিশেষ কাউকে এ জন্য সন্দেহ করছেন না।

"তবে কিছৃ বিষয় তারা মাথায় নিয়েছি, অভিযোগ দেয়া হলে ওই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সামনে এগুবো।"

এখানকার মেয়েরা ফুটবল খেলছে এ ব্যাপারটার সাথে কি আগুন দেবার কোন সম্পর্ক আছে?

এ প্রশ্ন করা হলে মি. আলমগীর বলেন, তিনি তা মনে করেন না বা এলাকার লোকও মনে করছেন না।

সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, তিনি সেদিনও দেখেছেন, মেয়েদের দুটি দল ফুটবল খেলছে। এই মেয়েদের ফুটবল খেলার জন্য ধোবাউড়ার স্কুল এ্যান্ড কলেজ সরকারি হতে যাচ্ছে, এলাকায় বিদ্যুৎ এসেছে।

তার কথায়, স্থানীয় লোকদের মধ্যে মেয়েদের ফুটবল খেলা নিয়ে কোন আপত্তি তিনি দেখেন নি।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

বাংলাদেশ ও ভারতের নারী ক্রিকেটের তারতম্য কতটা?

'ইসরায়েলি' প্রযুক্তি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে নজরদারি

কৃত্রিম মাংসের বার্গার, যা থেকে 'রক্ত' ঝরে