ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯: সৌম্য সরকার কি ওপেনিংয়ে বাংলাদেশ দলের সমস্যার সমাধান?

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
ভক্তদের প্রত্যাশা কি সৌম্যর জন্য চাপ?

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে বহু বছর ধরে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায় - কে হবেন তামিম ইকবালের উদ্বোধনী সঙ্গী।

২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশ দলে তামিম ইকবালের সাথে কমপক্ষে ৬ জন ইনিংস ওপেন করেন, যারা ন্যুনতম ১০ ম্যাচ খেলেছেন।

তারা হলেন - ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয়, শাহরিয়ার নাফিস, জুনায়েদ সিদ্দিকি ও লিটন দাস।

তাদের মধ্যে এই সময়কালে ৬৪ ম্যাচ খেলা ইমরুল কায়েসের গড় ৩৫.১৫ আর ২৬ ম্যাচ খেলা সৌম্য সরকারের গড় ৩৫.১৩।

আরো পড়ুন:

ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচে লিটন দাসের তারতম্য কতটা?

ক্রিকেট বিশ্বকাপ: দলে মিরাজের প্রভাব কতটা?

হ্যাপী বিতর্কের পর যেভাবে বদলেছে রুবেলের ক্যারিয়ার

গড় এই দুজনের কাছাকাছি হলেও স্ট্রাইক রেটের পার্থক্য এমন, ইমরুল কায়েসের স্ট্রাইক রেট ৭১.৭২, সৌম্য সরকারের স্ট্রাইক রেট ৯৮.২২।

বাকিরা বয়স ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় পিছিয়ে থাকলেও মূল প্রতিযোগিতা হয় এই দুজনেই - ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার।

যেখানে পরিসংখ্যান, অর্থাৎ ক্যারিয়ার গড় ও স্ট্রাইক রেটে সৌম্য সরকার বেশ এগিয়ে।

সৌম্য সরকারের ওয়ানডে ক্যারিয়ার গড়: ৩৬.৬৭ আর ইমরুল কায়েসের ৩২.০২।

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস

বিশ্বকাপের আগে বিবিসি বাংলার সাথে সৌম্য সরকার

প্রত্যাশার চাপ কেমন প্রভাব ফেলে?

"মানুষের প্রত্যাশা সবসময় পূরণ করা কঠিন, পরের ম্যাচগুলো চেষ্টা করবো যাতে ভালো কিছু করা যায়।"

২০১৪ থেকে ২০১৯: দায়িত্ব কি বেড়েছে?

"দায়িত্ব বলতে আমি আমার দিক থেকে শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করবো।"

"যদি একাদশে সুযোগ পাই পুরোপুরি দায়িত্ব পূরণ করার চেষ্টা করবো, তিন বিভাগেই আমার যতটুকু দেয়ার সেটা দেয়ার চেষ্টা করবো।"

বোলার সৌম্য কতটা প্রস্তুত?

ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে সিম বোলারদের কাছে বাড়তি চাওয়া থাকবে অধিনায়কদের।

এর আগেও বিভিন্ন সময় সৌম্য সরকারের হাতে বল তুলে দিয়েছে বাংলাদেশের অধিনায়করা।

"অন্য তিনজন পেস বোলার খেলে তারা যেভাবে বল করে বা তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করি, আমি দলকে কতটুকু দিতে পারবো আর ভালো করলে পরের ম্যাচে বল করার সুযোগ বেশি থাকবে, এটা ভেবে বোলিং করি।"

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে সৌম্য সরকারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জেতান ভারতের দিনেশ কার্তিক।

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption নিদাহাস ট্রফিতে শেষ বলে দিনেশ কার্তিকের ছক্কার পর সৌম্য সরকার

সেই স্মৃতি কি মনে আছে সৌম্যর?

"ওটা টি-টোয়েন্টি ছিল, এটা ওয়ানডে। যদি এমন সিচুয়েশন যদি সামনে আসে আমি এই ভুল না করার চেষ্টা করবো।"

বিশ্লেষকরা সৌম্য সরকারকে নিয়ে কী বলছেন?

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ন্যাশনাল কোচ ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, "সৌম্য সরকারের মেধা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, আগেও ওর দুর্দান্ত ইনিংস দেখেছি যেটা প্রশ্ন সেটা হলো সৌম্য সরকারের ধারাবাহিকতা।"

"ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে যে একটি সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর সৌম্যর শারীরিক ভাষায় পরিবর্তন এসেছে।"

মি. ফাহিম বলেন, "অনেক ঠান্ডা মাথায় শট খেলছে। আগে একটা অস্বস্তি দেখা যেতো সেটা দেখা যাচ্ছে না, যেমন খেলছে এটা আমরা আগেও দেখেছি যে ওর শট মারতে পারার ক্ষমতা। এখন যেটা দেখা যাচ্ছে সেটা হলো ধারাবাহিকতা।"

ছবির কপিরাইট Sam Barnes
Image caption সৌম্য সরকারের ট্রেডমার্ক শট, যা পেরিস্কুপ নামে পরিচিত

সৌম্য সরকারের শেষ ১০টি ইনিংস

  • ১১৭, প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, ভেন্যু চট্টগ্রাম
  • ১৯, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভেন্যু ঢাকা
  • ৬, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভেন্যু ঢাকা
  • ৮০, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভেন্যু, সিলেট
  • ৩০ প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, ভেন্যু নেপিয়ার
  • ২২, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, ভেন্যু, ক্রাইস্টচার্চ,
  • ০, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, ভেন্যু ডানেডিন
  • ৭৩, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভেন্যু ডাবলিন
  • ৫৪, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভেন্যু ডাবলিন
  • ৬৬, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভেন্যু ডাবলিন
ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption ২০১৫ সালে সৌম্য সরকার ব্যাট হাতে দুর্দান্ত বছর কাটান।

সম্পর্কিত বিষয়