আমেরিকার সাথে যুদ্ধ হলে ইরান ধ্বংস হবে - ডোনাল্ড ট্রাম্প

রুহানি; ট্রাম্প ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকার সাথে যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে।

রোববার এক টুইট বার্তায় মি: ট্রাম্প বলেন, "ইরান যদি যুদ্ধ চায়, তাহলে সেটি হবে ইরানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।"

তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা যেন আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি না দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করেছে।

কয়েকদিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে যুদ্ধ চায়না। কিন্তু এখন মি: ট্রাম্পের বক্তব্যে সেখান থেকে সরে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছিলেন যে তিনি আশা করেন ইরানের সাথে কোন যুদ্ধ হবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফও বলেন, যুদ্ধের কোন সম্ভাবনা নেই।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাতঙ্ক, মক্কায় হবে জরুরী বৈঠক

ইরানকে ঘিরে মার্কিন যুদ্ধ প্রস্তুতি- উদ্দেশ্য কী

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধ লেগে যাওয়ার সম্ভাবনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সৌদি বাদশাহ সালমান ৩০শে মে মক্কায় এক জরুরী বৈঠকে বসার জন্য আরব লীগ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট জিসিসি সদস্যদের আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন।

সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, "সংযুক্ত আরব আমিরাতে সমুদ্র সীমায় (সৌদি) বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবের মধ্যে দুটো তেল ক্ষেত্রে হুতি সন্ত্রাসীদের হামলার" পরিপ্রেক্ষিতে এই জরুরী বৈঠক ডাকা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দু'দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেও, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স এখনও ইরানের সাথে করা চুক্তি বজায় রেখেছে।

বিবিসির প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশ্লেষক জনাথন মার্কাস বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন চান ইরানের সাথে করা এই পরমাণু চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যাক।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তার ফলে ইরানের অর্থনীতি দিনে দিনে সঙ্কটে নিমজ্জিত হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য যেন ইরান তাদের তেল অন্য দেশের কাছে বিক্রি করতে না পারে।

এছাড়া গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সবচেয়ে সুসজ্জিত বাহিনী রেভলিউশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ইরানের বিরুদ্ধে কেন রণতরী পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

ট্যাংকারে হামলার 'পেছনে ইরান', মার্কিনীদের ধারণা

কাতারে কেন নেমেছে চারটি মার্কিন বি-৫২ বিমান?

সম্পর্কিত বিষয়