ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা ২৪শে জুন পর্যন্ত আটকে দিল হাইকোর্ট

বাংলাদেশ ব্যাংক
Image caption বাংলাদেশ ব্যাংক

ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারে স্থিতাবস্থা দিয়েছে হাইকোর্ট।

গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে 'ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা' জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছিলো।

এ নীতিমালা অনুযায়ী খেলাপি ঋণের অনারোপিত সুদ মওকুফ সুবিধার পাশাপাশি খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের দায়ের করা মামলাও স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

একই সাথে ওই দিনই আরেকটি সার্কুলারে যারা নিয়মিত ঋণ শোধ করেন, তাদের সুদে দশ শতাংশ রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কেউ ঋণ খেলাপি হলে তা পুনঃতফসিল সুবিধা পেতে দশ শতাংশ অর্থ এককালীন শোধ করার কথা।

বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে সার্কুলার জারির পরই তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

যদিও বিশেষ এই সুবিধা কোন ঋণ খেলাপিরা পাবে এবং কতদিনের মধ্যে আবেদন করলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় স্পষ্ট করেই বলে দেয়া হয়েছিলো।

নীতিমালায় কোন ধরণের সুবিধা দেওয়া হয়েছে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করার সার্কুলার অনুযায়ী, মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দশ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল বা সম্পূর্ণরূপে পরিশোধের বিশেষ সুবিধা পাবেন ঋণ নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী শোধ করতে ব্যর্থ হওয়া খেলাপিরা।

এক্ষেত্রে তাদের ঋণের সুদ হার হবে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ, যদিও তা কোনোভাবেই নয় শতাংশের বেশি হবেনা।

'ঋণ নিতে যায় যেন ফেরত না দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই'

‘খেলাপি ঋণ আদায় হয়না রাজনৈতিক কারণে’

'মুসলিম নারী হলেও সমকামী হওয়া যায়'

Image caption বাংলাদেশে খেলাপি ঋনের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকারও বেশি

রিটের পর আদালতের আদেশ

আজ একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ঋণ খেলাপিদের সুবিধা দিয়ে জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার আগামী ২৪ শে জুন পর্যন্ত স্থগিত করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ রোববার এ রিট আবেদনটি করেছিলেন।

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর মিস্টার মোরশেদ আদালত চত্বরে গণমাধ্যমকে বলেন, "আদালত স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছেন। তাই ওই সার্কুলারের ভিত্তিতে কোনো ধরণের ঋণ বিতরণ বা মওকুফের সুযোগ থাকলো না।"

পরে তিনি বিবিসি বাংলার সাথেও কথা বলেন।

তিনি বলেন, "আদালত বলেছেন ব্যাংকিং কার্যক্রমে যে দূরবস্থা চলছে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে আদালত বলেছে যে এখানে যারা দুষ্ট লোক অর্থাৎ যারা লোন নিয়ে দিচ্ছেনা এদেরকেই সবসময় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তাদের যাতে ক্ষতি না হয় সেই সুরক্ষাই ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে সবসময়।"

মনজিল মোরশেদ জানান, আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিষয়ে বলেছে যে এটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান।

"কিভাবে তারা ঋণ খেলাপি বা রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে যারা লোন নিচ্ছেন তাদেরকে বাংলাদেশ ব্যাংক কিভাবে সহযোগিতা করে। এ প্রশ্ন আদালত তুলেছে।"

মিস্টার মোরশেদ জানান, যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে তাদের তালিকাও চাওয়া হয়েছিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। কিন্তু সেই তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে তাদের কাছে নাই।

"সেটি তাদের ইন্টেলিজেন্স অথরিটির [কর্তৃপক্ষ] কাছে আছে। আজ তাদের পক্ষ করার আবেদন আদালত মঞ্জুর করেছে। ওই তালিকা এখন তাদের দিতে হবে।"