ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯: বিতর্ক পাশ কাটিয়ে মাশরাফীর আস্থা রাখতে পারবেন সাব্বির?

ক্রিকেট, সাব্বির, বিশ্বকাপ, বাংলাদেশ ছবির কপিরাইট Dianne Manson
Image caption নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতক হাকাঁনোর পর সাব্বির রহমান

সাব্বির রহমান- তার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার চার-পাচঁ মাস আগেও নিশ্চিত ছিলেন না আর জাতীয় দলে খেলা হবে কি না।

মাঠের ক্রিকেট নয়, মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন সাব্বির রহমান।

কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে প্রমাণও করেছেন সাব্বির।

২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, শহীদ আফ্রিদিদের মাঝে সাব্বির হন টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটার।

২০১৯ সালে তুমুল বিতর্কের মাঝে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা সাব্বির রহমানকে ওয়ানডে দলে নেয়ার সুপারিশ করেন টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে একমাত্র সেঞ্চুরিটি তিনি করেন।

সাব্বির রহমানকে অনেকে বাংলাদেশের এক নম্বর টি-২০ খেলোয়াড় হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন।

সাব্বির রহমানকে নিয়ে যত সংবাদ:

সাব্বিরের শাস্তিতে কী শিখবে অন্য ক্রিকেটাররা?

সাব্বির-নায়লার বিজ্ঞাপন বন্ধ হলো যে কারণে

আমি এসব করতে পারি? ক্রিকেটার সাব্বিরের প্রশ্ন

সাব্বির রহমানের যত বিতর্ক

২০১৭ সালের শেষদিকে ও ২০১৮ সালের শুরুর দিকে দর্শক পিটিয়ে সাব্বির রহমান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছিলেন।

২০ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়, সাথে ছয় মাসের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি।

নায়লা নাঈমের সাথে বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের ক্রিকেটার সাব্বির রহমান এবং মডেল নায়লা নাঈমের করা একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ক্রিকেট বোর্ডের আপত্তির মুখে প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ২০১৬ সালে।

কোমল পানীয়ের এই বিজ্ঞাপনটিতে ক্রিকেটার সাব্বির রহমান মডেল তারকা নায়লা নাঈমের সঙ্গে অভিনয় করেছেন।

ক্রিকেট বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে সেসময় জানান, বিজ্ঞাপনটি নিয়ে ফেসবুকে যেভাবে সমালোচনা হচ্ছে সেটি তাদের নজরে এসেছে।

ক্রিকেট বোর্ডের সেই কর্মকর্তা আরো বলেছিলেন, ক্রিকেটারদের বিজ্ঞাপনে মডেল হতে বাঁধা নেই। কিন্তু সাব্বির রহমান এবং নায়লা নাঈমের বিজ্ঞাপনটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ছবির কপিরাইট Tom Shaw-IDI
Image caption আইসিসি ইভেন্টে সাব্বির রহমান বেশ অভিজ্ঞ বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেছেন তিনি

ভিডিও পোস্ট করে আচরণের জন্য ব্যাখ্যা

২০১৬ সালের শেষদিকে ব্যক্তিগত কিছু বিষয়ে ভক্তদের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্যে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ক্রিকেটার সাব্বির রহমান।

তবে ব্যক্তিগত বিষয় বললেও ঠিক কোন বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটি স্পষ্ট করেন নি তখন।

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল তখন, যে সাব্বির রহমান যা করেছেন তার জন্যে ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ বা বিসিবি সেটিকে 'গুরুতর শৃঙ্খলাবহির্ভূত' কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হয়।

সাব্বির রহমানের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ ছিল সেবিষয়ে বিসিবির কোন কর্মকর্তা কিছু বলতে চাননি।

তবে জাতীয় দলের এই ব্যাটসম্যান তার ভিডিওতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তার ভক্তদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেছেন: "আমি কি এসব করতে পারি?"

তবে তার এই কাজের জন্যে তখন সাব্বিরের বিপিএল চুক্তির ৩০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছিল।

ছবির কপিরাইট Matt King
Image caption ২০১৫ বিশ্বকাপে সাব্বির রহমান

দলে সাব্বির রহমানের গুরুত্ব কেমন?

সাব্বির রহমানের জন্য এই বিশ্বকাপ একটা বড় সুযোগ বলে মানছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন অভিজ্ঞ কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

"সাব্বির অনেক সুযোগ পেয়েছেন, মাঝেমধ্যে প্রতিদান দিয়েছেন, কিন্তু ওর যতটা দেয়ার ছিল ততটা পারেননি।"

"নি:সন্দেহে সাব্বির রহমান দারুণ খেলোয়াড়, এই বিশ্বকাপের পরেও নির্বাচকরা মূল্যায়ণ করবেন তাকে, তার ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত হোক এটাই আমি চাই, কারণ তার সামর্থ্য আছে।"

সাব্বির রহমান- দলে ঢোকা নিয়ে বিতর্ক কেন?

সাব্বির রহমান তার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৬১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন।

যেখানে তার গড় ২৫.৯৩।

ওদিকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও ৪১ ম্যাচে তার গড় ২৫.৮৮। ১২২.৫৯ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন তিনি।

ওয়ানডে ক্রিকেটে তার স্ট্রাইক রেট ৯১.৫১।

ওয়ানডেতে ৬১ ম্যাচে ৫টি অর্ধশতক ও ১টি শতক হাকিঁয়েছেন তিনি।

ছবির কপিরাইট ISHARA S. KODIKARA
Image caption এই ধরণের শট খেলায় সাব্বির রহমান পারদর্শী

ম্যাচ জেতানো বা বিপর্যয় এড়ানো বেশ কয়েকটি টি-টোয়েন্টি ইনিংস আছে সাব্বির রহমানের, কিন্তু ওয়ানডেতে আসলে পরিচিত রুপে সাব্বির রহমানকে পাওয়া গেছে খুব কম।

সাব্বির রহমানকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে জাতীয় দলে ডাকা হয় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

মূলত অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে সাব্বির রহমানের ব্যাপারে সুপারিশ করেন।

যদিও সাব্বির রহমানকে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে যে শাস্তি দেয়া হয়েছিল তার মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত কিন্তু দলের প্রয়োজনে শাস্তি শিথিল করে জানুয়ারি মাসে ঘোষিত দলে তাকে দলে ফেরানো হয়েছে বলে জানায় বিসিবি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু সাব্বির রহমানকে ফেরানোর ব্যাপারে বলেছিলেন, "অধিনায়ক মাশরাফীর পছন্দ ছিল। নিষেধাজ্ঞা কমানোর ব্যাপারটা ক্রিকেট টিম ম্যানেজমেন্টকে জানানো হয়েছে। তারা সে অনুযায়ী কাজ করেছে। পুরোপুরি ফর্মে নেই সাব্বির তবে অভিজ্ঞতা তাকে এগিয়ে রেখেছে।"

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

মধ্যপ্রাচ্যে আরো সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

হিমালয়ের চূড়ায় পর্বতারোহীর এত ভিড় যে কারণে

জেএমবিকে নিষিদ্ধ সংগঠন বলে ঘোষণা করলো ভারত

গান্ধী-নেহরু পরিবারের রাজনীতি কি এখানেই শেষ?