জেএমবিকে নিষিদ্ধ সংগঠন বলে ঘোষণা করলো ভারত

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জেএমবির সংশ্লিষ্টতা পাওয় যায় ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জেএমবির সংশ্লিষ্টতা পাওয় যায়

উগ্র ইসলামপন্থী দল জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবিকে একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা করেছে ভারতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশে এই দলটি অনেক আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের দায়ে শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ এর একাধিক নেতার মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নোটিশকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা পিটিআই শুক্রবার বলেছে, এই সংগঠনটি সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটিত এবং উৎসাহিত করেছে, তা ছাড়া ভারতের যুবকদের উগ্রপন্থায় দীক্ষিত করা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে নিয়োগ করার কাজেও জড়িত ছিল।

এতে বলা হয়, এ কারণে জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ অথবা জামাতুল মুজাহিদীন ইন্ডিয়া বা জামাতুল মুজাহিদীন হিন্দুস্তান নামের সব রকম সংগঠনকে বেআইনী কার্যক্রম (প্রতিরোধ) আইন ১৯৬৭-তে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি জঙ্গী হামলার ঘটনার সাথে জেএমবি জড়িত বলে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে বর্ধমানের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সাথে জেএমবির সংশ্লিষ্টতা ছিল উল্লেখ করেছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

বর্ধমান বিস্ফোরণ: 'লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে সরকার উৎখাত'

বর্ধমান বিস্ফোরণের পেছনে মাদ্রাসার জঙ্গী

এক দশকে জেএমবির নাটকীয় পরিবর্তন: গ্রামীণ পটভূমি থেকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ

Image caption জেএমবির উত্থান হয় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয়

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ১৯৯৮ সালে 'জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ বা জেএমজেবি'র জন্ম হয়।

কিন্তু প্রথম কয়েক বছর এ সংগঠন সম্পর্কে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের তেমন কোনও ধারণা ছিলনা ।

পরিস্থিতি বদলাতে ২০০১ সালের পর থেকে। ২০০৪ সালের দিকে সংগঠনটির নাম বদলে হয় জামা'তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি। ২০০৫ সালে সারা বাংলাদেশে একযোগ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রথম সবার নজর কাড়ে জেএমবি।

২০০৫ সালের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের মুখে জেএমবি কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

দু বছর পর ২০০৭ সালে সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম এবং শায়খ আব্দুর রহমানের ফাঁসি হয়। তবে এর আরেক নেতা সালাহউদ্দিন এখনো পলাতক।

বাংলাদেশের জঙ্গি হামলাগুলোর সাথে ইসলামিক স্টেটের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারটি অস্বীকার করে থাকেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী । তারা বলেন, বাংলাদেশে আইএসের কোন অস্তিত্ব নেই এবং এগুলো স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনেরই কাজ।

কিন্তু ইসলামিক স্টেটের সাথে জেএমবির এক ধরণের সম্পর্কের একটা ধারণা পাওয়া যায় আইএস'র মুখপত্র 'দাবিক'-এর প্রকাশিত কিছু নিবন্ধ থেকে। এতে স্পষ্টই বলা হয়, জেএমবিকে বাংলাদেশে তাদের ঘনিষ্ঠ সংগঠন বলেই মনে করে আইএস।

দাবিকের দ্বাদশ সংখ্যায় এক নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে একমাত্র জামা'তুল মুজাহিদীনই 'যথার্থ জিহাদি সংগঠন'।