এডিটার'স মেইলবক্স: ভারতের মুসলমানদের নিয়ে উদ্বেগ

বিজেপির জয়ে সমর্থকদের উল্লাস। ছবির কপিরাইট Hindustan Times
Image caption বিজেপির জয়ে সমর্থকদের উল্লাস।

ভারতের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিপুল ভোটে বিজয়ের খবরটিতে আপনারা নানা রকম মতামত দিচ্ছেন। ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে লিখেছেন মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি:

ভারতীয় জনতা পার্টি হিন্দুত্ববাদী হুজুগের উপর ভরসা করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এক কথায়, ঘিয়ে কৈ ভাজার মতো সাফল্য। ফলাফল প্রকাশের পর বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া ছিল খুবই চমৎকার এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের বিজয় এখানেই। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সত্যিই অতুলনীয়। সুষ্ঠু নির্বাচন কিভাবে আয়োজন করতে হয় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে শিখতে পারে। বিজেপির বিজয় নিশ্চয়ই অনেককে শঙ্কিত করবে। গোরক্ষার আন্দোলন হয়তো আরও গতি পাবে এবং আরও অনেক নিরীহ মানুষকে জীবন দিতে হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতবাসীর মতো অন্যান্য রাজ্যে বাঙ্গালী তাড়াও আন্দোলন বৃদ্ধি পাবে। ধনী ব্যবসায়ীরা আরও সুযোগ সুবিধা নিয়ে আরও ধনী হবে এবং দরিদ্র কৃষকের অবস্থার আরও অবনতি হবে এবং তাদের আত্মহত্যার হার আরও বাড়বে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুখে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কথা যাই বলুন না কেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে তাদের হিসাব নিকাশ বেশ জটিল ও রহস্যময়। যেমন রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তারা বেশ জটিল কূটনীতি করছে। তবে বিজেপির ভবিষ্যৎ কূটনীতির জন্য আমাদের আরও কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে।

আপনার বিশ্লেষণের জন্য ধন্যবাদ। আপনি যেসব প্রশ্ন তুলেছেন আমাদের বহু শ্রোতাই এখন এগুলো নিয়েই চিন্তাভাবনা করছেন, আমি নিশ্চিত। কিন্তু আগামী পাঁচ বছরে বিজেপি সরকার কী করবে, তা এখনও ঠিক পরিষ্কার নয়। তাদের সামনে বেশ কিছু অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে। ভোটের পর পরই মি. মোদি যা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে সরকারের মনোযোগ সেদিকেই থাকবে।

ছবির কপিরাইট Hindustan Times
Image caption মি. মোদির প্রতিকৃতিকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন ভক্তরা।

সম্পর্কে আরও দেখুন:

ভারতে গান্ধী-নেহরু পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি কি এখানেই শেষ?

পঞ্চগড়ের বড়শশী অমরখানা থেকে লিখেছেন মোঃ উজ্জ্বল ইসলাম:

ভারতের লোকসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলা শ্রোতাদের জন্য যেভাবে ওয়েবসাইটে লাইভ পেজ, এবং রেডিওতে সংবাদ পরিবেশন করেছে।তার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি বিবিসি বাংলাকে। বিশেষ করে গত ২৩ই মে বৃহস্পতিবার দিল্লির স্টুডিও থেকে প্রবাহ সম্প্রচার এবং শুক্রবার দিল্লি থেকে সংবাদপত্র পর্যালোচনা আমাকে ভীষণ ভালো লেগেছে।

আপনাকে ধন্যবাদ, মি. ইসলাম। আমাদের আয়োজন আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমরা খুশি হয়েছি। নির্বাচন-পরবর্তী ভারতের মুসলমানদের অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফয়সাল আহমেদ সিপন, গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে:

আগামী পাঁচ বছর নরেন্দ্র মোদির শাসনেই থাকছে ভারত। আগের চেয়ে আরো আতংকিত ভারতের মুসলমানেরা। আশা করি কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি জোট সংখ্যালঘু মুসলমানদের মাঝে যে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে তা লাঘবে সদিচ্ছা দেখাবে।

আমার ধারণা এই শঙ্কা সম্পর্কে মোদি সরকারও অবগত। বিজেপি যেহেতু এই নির্বাচনে যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, সেটা তাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে আস্থা জোগাবে বলে মনে হয়। একই বিষয় নিয়ে মতামত পাঠিয়েছেন নিয়মিত পত্রলেখক মুকুল সরদার, খুলনার দাকোপ থেকে:

ছবির কপিরাইট Hindustan Times
Image caption কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ জানাই বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের সাধারণ নির্বাচনের শুরু থেকে এ নির্বাচনের নানা খবর এবং বিশ্লেষণ নিয়ে শ্রোতাদের সাথে থাকবার জন্য। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে মোদী সরকার এর সামনে চ্যালেঞ্জ গুলি আসলে কি হতে পারে? হিন্দুত্ববাদ কি অশান্তির কারণ হয়ে দাড়াতে পারে? পশ্চিম বাংলায় যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকছেন তাই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা নেই একথা বলা যেতেই পারে। তারপরও ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবার কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি?

মোদি সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কী হতে পারে এ নিয়ে আমরা রেডিও এবং অনলাইনে নানা ধরনের বিশ্লেষণ প্রকাশ করছি, এগুলো নিশ্চয়ই আপনি দেখছেন মি. সরদার। হিন্দুত্ববাদ কি অশান্তির কারণ হয়ে দাড়াতে পারে কি না, তার জবাব দেখতে পাবো ভবিষ্যতে। আর ভারত-বাংলাদেশ-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন এখনই হবে, এমন সম্ভাবনার কথা কেউ বলছেন না। তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না। আপনাকে ধন্যবাদ।

আরও পড়তে পারেন:

'ভারত আমাদের বন্ধু, অনিষ্ট করবে বলে মনে করি না': বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ সম্পর্কে ফেসবুকে এই মতামত পাঠিয়েছেন দীপক সরকার, গোপালগঞ্জের মোকসুদপুর থেকে:

'মোদী সরকারের আমলে মুসলমানরা কেন ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত?' আপনারা যখন এরকম রিপোর্ট করবেন তখন দয়া করে পাশাপাশি বাংলাদেশ, পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের চিত্র তুলে ধরবেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption শ্রমিক সংকটে কৃষকদের ফসলের পেছনে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ, মি. সরকার। তবে ভারতের মুসলমানদের নিয়ে রিপোর্ট করতে গেলে কেন অন্যান্য দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কথা টানতে হবে, তা ঠিক বুঝতে পারছি না। একইভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিগ্রহের ওপর খবর প্রচারের সময় কী ভারতের সংখ্যালঘুদের সাথে তার তুলনা করতে হবে? আসলে আমরা সব সংখ্যালঘুর সমস্যার বিষয়টিই গুরুত্বের সাথে তুলে আনতে চাই। আর সেটা করেও থাকি। ভারতের নির্বাচনের বাইরেও আপনার বেশ কিছু চিঠি পাঠিয়েছেন। রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকি আক্তার:

বিবিসি বাংলা'য় প্রায় প্রতি সপ্তাহে আমার চিঠি স্থান পায়, এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে বিগত কয়েক সপ্তাহ থেকে লক্ষ্য করছি প্রীতিভাজনেষু অনলাইনে অনুষ্ঠান প্রচার হয়ে যাওয়ার পর প্রকাশ করা হচ্ছে এবং শনিবারের ফোন-ইনের বিষয়টি সময়মত ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয় না কেন? বিষয়টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

ঠিকই বলেছেন, বিলকিছ আক্তার। রেডিওতে প্রীতিভাজনেষু প্রচারের পর পর তার অনলাইন পেজ প্রকাশ করা হয়। তবে কখনও কখনও লোকবলের অভাবে সময়মত অনলাইনের পেজটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেই একই কারণে কখনও কখনও শনিবারের ফোন-ইনের বিষয়টি সময়মত জানানো যায় না। এজন্য আমরা দু:খিত।

ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বাংলাদেশে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে এ সপ্তাহেও আমরা আপনাদের কাছ থেকে বেশি কিছু চিঠি পেয়েছি। সেখান থেকে কয়েকটা চিঠি তুলে ধরছি। নওগাঁ থেকে লিখেছেন রবিউল ইসলাম:

কৃষকদের উপর এই জুলুম কতদিন ধরে চলবে? চালের দাম বেশী, ধানের দাম কম কেন? সব কৃষক যদি মাঠে নামে তাহলেও কি ধানের দাম বাড়বে না?

পঞ্চগড়ের মাড়েয়া জায়গীরপাড়া থেকে লিখেছেন পলাশ চন্দ্র রায়:

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু বড় দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান সময়ে একটি বড় সমস্যা ধানের ন্যায্যমূল্য। এটা না পাওয়ায় অনেক কৃষক আর ধান চাষ করতে ইচ্ছা পোষণ করবে না। বিবিসির মাধ্যমে জানতে পারলাম সরকার ভবিষ্যতে আমদানির শুল্ক বৃদ্ধি করবে। কিন্তু বর্তমান সমস্যা সমাধান করতে কর্তৃপক্ষ কি পদক্ষেপ নেবে?

মি. ইসলাম এবং মি. রায়, আপনাদের দুজনকেই ধন্যবাদ। আপনারা হয় তো জেনে গেছেন যে সরকার ইতিমধ্যেই চাল আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেও ধান কেনার ওপর সরকারি পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

ছবির কপিরাইট NurPhoto

পারিবারিক সহিংসতা: যৌন মিলনের জন্য কাপড় খুলতে দেরি করায় স্ত্রীকে ঘুষি

আমাদের ওয়েবসাইটে নানা ধরেনের খবর প্রসঙ্গে এই চিঠি পাঠিয়েছেন রাজশাহী থেকে সায়রা বানু:

যৌন মিলনের জন্য কাপড় খুলতে দেরি করায় স্ত্রীকে ঘুষি -- এটা কি কোন খবর?

আমরা কিন্তু একে একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর হিসেবেই বিবেচনা করেছি। কোন যৌন সুড়সুড়িমূলক খবর হিসেবে নয়। আমেরিকায় একজন এমপি মাতাল হয়ে তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করেছেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ খবর নয়? আপনি যদি লক্ষ্য করে থাকেন তাহলে দেখবেন ঐ রিপোর্টেই আমরা বলেছি, আমেরিকায় প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন তার সঙ্গীর কাছে কোন না কোনভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ২০১৪ সালে মিসিসিপি রাজ্যে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে সাতটি টেলিফোন এসেছে হট লাইনে। আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

নারীর প্রতি অবমাননা প্রসঙ্গে ঢাকার ধানমন্ডি থেকে লিখেছেন শামীম উদ্দিন শ্যামল:

বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েব সাইটে শেয়ার করা ছোট ছোট ভিডিওগুলো আমি খুব পছন্দ করি। ছোট একটা ভিডিওতে একটা বিষয়ের পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়। তেমনি একটা ভিডিও আজ দেয়া হয়েছে যার শিরোনাম: "প্রতিবার যৌন মিলনের জন্য ৫০ সেন্ট পেতাম।" ভিডিওটি দেখে খুব খারাপ লাগলো। এই ভিডিওর যৌন কর্মীর মতো সারা বিশ্বের যৌন কর্মীরা অসহায় এবং মানবেতর জীবন যাপন করছে। পরিবেশ এবং তাদের নারী হবার কারণে বাধ্য হয়ে যৌনকর্মীর পেশা বেছে নিতে হয়। যৌনকর্মী পেশা কখনো সুখকর বা মানবিক পেশা নয়। তবুও তারা সে পেশা বেছে নিতে বাধ্য। কারণ নারীদের যদি ছেলেদের মতো অধিকার এবং স্বাধীনতা থাকতো তাহলে তারা এতটা অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করতো না।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
সিয়েরা লিওনের যৌনকর্মী: প্রতিবার যৌনমিলনের জন্য মাত্র ৫০ সেন্ট পেতাম

আমার ধারণা আমাদের শ্রোতারা সবাই আপনার মতামতের সাথে একমত হবেন। আপনাকে ধন্যবাদ। রাজশাহীর রাণীবাজার থেকে হাসান মীর:

ভারতে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন ২৩শে মে বিবিসি বাংলার 'প্রবাহ ' অনুষ্ঠানের পুরোটা দিল্লি থেকে প্রচার করা হবে, এই মর্মে ১৯শে মে 'র প্রবাহ অনুষ্ঠানে একটি আগাম ঘোষণা ছিল । ওই ঘোষণায় মাসুদ হাসান খান শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন "আশা করি ( অনুষ্ঠানটি ) উপভোগ করবেন। " এখানে 'উপভোগ' শব্দটির ব্যবহার নিয়ে আমার কিঞ্চিৎ আপত্তি আছে। বাংলা একাডেমী প্রকাশিত অভিধানে উপভোগের অর্থ দেওয়া হয়েছে -- তৃপ্তি সহকারে ভোগ, আস্বাদন, ভক্ষণ বা ব্যবহার । বিবিসি বাংলার 'প্রবাহ' সঙ্গীত বা নাটকের মতো কোনো চিত্তবিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং এতে থাকে সংবাদ, সংবাদভাষ্য ও মতামত। ফলে এখানে "উপভোগ" করার কী আছে বুঝলাম না। বরং সহজ করে 'আশা করি আপনারা অনুষ্ঠানটি শুনবেন ' বললেই ভালো শোনাতো।

আপনার সঙ্গে ঠিক একমত হতে পারছি না বলে দু:খিত মি. মীর। হ্যাঁ, শুধুই বলা যেত: আপনারা অনুষ্ঠানটি শুনবেন। কিন্তু বিবিসির অনুষ্ঠানগুলো যদি আপনি উপভোগই না করবেন, তাহলে আপনি কেন বিবিসি শুনবেন? বিবিসির একটা ভাল রিপোর্ট, একটা ভাল সাক্ষাৎকার অবশ্যই শ্রোতাদের ভাল লাগতে হবে। তথ্য জানার পাশাপাশি সেখানে একটা আস্বাদনের ব্যাপারও রয়েছে। তাই নয় কি? আপনি কি বলবেন, অনুষ্ঠানটি শুনেছি, কিন্তু ভাল লেগেছে কি না, তা বলতে পাচ্ছি না? আপনাকে ধন্যবাদ।

আরও দেখুন:

যে পাঁচ কারণে হুয়াওয়েকে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব উদ্বিগ্ন

ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে জহিন মুমতাহিনাহ:

বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় ২০শে প্রকাশিত "যে পাঁচটি কারণে হুয়াওয়েইকে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব উদ্বিগ্ন" শীর্ষক বিশদ প্রতিবেদনটি পড়লাম এবং প্রবাহ অনুষ্ঠানে শুনলাম। আমার প্রশ্ন, আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের যেসব দেশ অতিমাত্রায় চীনের হুয়াওয়ের প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য উক্ত প্রযুক্তি কতটা নিরাপদ?

হুয়াওয়েইকে নিয়ে মূল শঙ্কা কিন্তু প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের এবং তার মিত্র দেশগুলোর। হুয়াওয়েই নিজে এই অভিযোগ অস্বীকার করছে। ফাইভ-জি প্রযুক্তি নিয়ে জোর গবেষণা চলছে এবং এই দুই পক্ষের কোন একটাকে বিশাল এক শ্রেষ্ঠত্ব এনে দেবে। ফলে তৃতীয় বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে এই প্রযুক্তির লড়াইয়ে কে জেত বা হারে, তার জন্য। আর ফাইভ-জি প্রযুক্তি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগবে। ফলে এখন অপেক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় নেই।

চলতি মাসের একত্রিশ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। এ প্রসঙ্গে লিখেছেন মোঃ সাব্বির হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে:

ফুটবল বিশ্বকাপ,চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এমন কী অন্যান্য সালে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় বিবিসি বাংলা বিশেষ ভাবে খেলার সংবাদ, বিশ্লেষণ, দলগুলির শক্তিমত্তা কোথায়, কোন খেলোয়াড় ভাল করছে অথবা করবে,কোন দল কতটুকু অর্জন করতে পারবে বা পেরেছে ইত্যাদি বিষয়ে সংবাদ থাকে। অথচ এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে বিবিসি বাংলা'র কোন পরিকল্পনাই শুনছি না। নাকি বিবিসি বাংলা নিজেদেরকে শ্রোতা-দর্শক থেকে গুটিয়ে রাখছে?

মি. হোসেন ক্রিকেট-পাগল দেশে আমরা ক্রিকেটের খবর না দিয়ে পারি। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন ইতিমধ্যেই বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পাতায় ক্রিকেট বিশ্বকাপের নানা ধরনের খবরের প্রচার শুরু হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরু হলে আরও অনেক ধরনরে খবর প্রকাশের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য ঢাকা দু'জন রিপোর্টার আসছেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন ক্রিকেট বিশ্লেষকও আমাদের সাথে থাকবেন, প্রায় প্রতিদিন।

এবার কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার:

রুহুল আলী, ভারত থেকে। জায়গার নাম বলেননি।

আরিফুল ইসলাম, খুলনার পাইকগাছা থেকে।

রিপন পাল, খুলনা থেকে।

আব্দুল হক, লালমনিরহাটের বড়কমলাবাড়ী থেকে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর থেকে।

শাহিন তালুকদার, পটুয়াখালির মৌকরন থেকে।

মো: মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী থেকে।

মোঃ জুয়েল রানা, দশমাইল, পঞ্চগড় থেকে।

রফিক সরকার, নদ্দা সরকার বাড়ী, গুলশান, ঢাকা থেকে।

আমাদের কাছে লেখার ঠিকানা bengali@bbc.co.uk। চিঠি লেখার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/