নুসরাত হত্যা: জবানবন্দি ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে 'ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ওসি'

নুসরাত জাহান ছবির কপিরাইট পারিবারিক সংগ্রহ
Image caption নুসরাত জাহান

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানের জবানবন্দি রেকর্ড করে সেটা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামালায় তারা এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে জানান পিবিআই সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা।

তদন্ত শেষে সব তথ্য প্রমাণ আজ প্রতিবেদন আকারে সাইবার ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হয়। প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দেন এএসপি রিমা সুলতানা।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "তদন্তের সব তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই শেষে ওই ওসির বিরুদ্ধে থানায় বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়াসহ প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।"

এদিকে মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, আইনানুযায়ী মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

আরও পড়তে পারেন:

নুসরাত হত্যা: পুলিশের গাফিলতির তদন্ত শুরু

কীভাবে নুসরাতকে মারা হয়েছিল - পুলিশের ভাষ্য

নুসরাত হত্যার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে

Image caption সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

গত ১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন নুসরাত।

এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন 'নিয়ম ভেঙে নুসরাতের মৌখিক অভিযোগ ভিডিও করেন'। পরে সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান।

ছবির কপিরাইট NURPHOTO
Image caption নুসরাত হত্যার বিচারের দাবীতে ঢাকায় বিক্ষোভ ।

সেখানে মুখ ঢাকা কয়েকজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়।

নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

পরে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।