একরামুল হক হত্যার এক বছরে বিচার কতটা এগিয়েছে

পরিবারের সাথে মো. একরামুল হক। ছবির কপিরাইট একরামুল হক
Image caption পরিবারের সাথে মো. একরামুল হক।

"কষ্ট লাগে, বাচ্চারা প্রতিটা মুহূর্ত তাদের বাবার কথা মনে করে। প্রতিটা সময় কান্না করে, আর বলে বাংলাদেশে কোন বিচার নাই"

আয়েশা বেগম, টেকনাফের নিহত একরামুল হকের স্ত্রী বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলতে যেয়ে নিজেও কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।

তিনি বলছিলেন, তার স্বামী হত্যাকাণ্ডের এক বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষে কোন অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি।

আয়েশা বেগম বলছিলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা বা অভিযোগ করতে গেলে তাকে নিষেধ করা হয়।

"কোন মামলা হয়নি। মন্ত্রীরা নিষেধ করেছিল কোন কিছু না করার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করিয়ে দেবেন বলেছিলেন তারা। বলেছিলেন যা বলার প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন। এখন পর্যন্ত তো কোন টেলিফোন পেলাম না।"

Image caption সংবাদ সম্মেলনে একরামুল হকের খুনের বিচার চাইছেন তার পরিবার।

আরও পড়তে পারেন:

'ডাকি নিই যাই আমার স্বামীরে তারা মারি ফেলিসে'

একরাম হত্যা: বাংলাদেশের পুলিশ কি চাপের মুখে?

একরাম 'হত্যার' অডিও: সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

একরামুল হক টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর এবং টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

২০১৮ সালে ২৬ শে মে মাদক বিরোধী অভিযানে র‍্যাবের সাথে কথিত এক 'বন্দুকযুদ্ধে' তিনি নিহত হন।

কিন্তু পরে একরামুলের মোবাইল ফোনে নিহত হওয়ার আগ মুহূর্তের তার স্ত্রী এবং মেয়ের সাথে কথোপকথন ফাঁস হয়ে গেলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠে এটা তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? এই ঘটনার টেকনাফ থানায় র‍্যাব একটা মামলা করে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস বলছিলেন র‍্যাবের করা মামলার ভিত্তিতে তদন্তের কাজ চলছে তবে পরিবারের কাছ থেকে কোন অভিযোগ পাননি তারা।

প্রদীপ কুমার দাস বলছিলেন, "তদন্ত চলছে, তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাবে না। তবে যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ চার্জশিট দেয়া হবে।"

তিনি বলেন, "একটি মামলা থাকা অবস্থায় আরেকটি মামলা হয় না। তারপরেও এই মামলাটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।"

Image caption নতুন করে ক্রসফায়ারে কোন মাদক-কারবারির মৃত্যুর খবর শোনা যায়নি।

একরামুল হক নিহত হওয়ার পর টেকনাফে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

তিনি তখন সেখানে বলেছিলেন, এটা বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ড এবং এর তদন্ত কাজ তারা পর্যবেক্ষণ করবেন। মি. হক বিবিসি'কে জানান, এমন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার এক বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও যখন তদন্ত কাজ শেষ হয় না তখন মানবাধিকার কমিশনের এক্ষেত্রে কোন কিছু করার আছে কিনা?

মি. হক বলছিলেন " আমরা চাপ সৃষ্টি করছি। তারা তদন্তের জন্য যে সময় পায় সেই সময়টা পারমিশন নিয়ে নিয়ে বাড়িয়ে নিচ্ছে। এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত বেশি সময় নেয়া হচ্ছে। আমার বক্তব্য হচ্ছে চার্জশিটটা খুব দ্রুত দিতে হবে এবং বাস্তবসম্মত হতে হবে"।

এদিকে নিহত একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম বলছিলেন পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে, এই এক বছরে স্থানীয় ভাবে একরামুল হকের মৃত্যুর প্রতিবাদের একটা মানব-বন্ধন করতেও মানুষ ভয় পায়।