নিষিদ্ধ পণ্য এখনও বাজারে, ক্রেতা-দোকানি অন্ধকারে

ঢাকার একটি দোকান।
Image caption ঢাকার একটি দোকান।

বাংলাদেশে মানহীন হিসেবে প্রমাণিত ৫২টি ভোগ্যপণ্য বাজার থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যাহারের জন্য আদালতের নির্দেশনা সত্বেও তার অনেকগুলোই এখনও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

বিবিসির সংবাদদাতা রোববার নিজেই ঢাকার একটি বাজারে গিয়ে এক প্যাকেট লবণ কিনেছেন যেটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা। মহাখালী কাঁচাবাজারে মানহীন হিসেবে চিহ্নিত ভোগ্যপণ্যের তালিকায় থাকা বেশ কয়েকটি পণ্য বিক্রি হতে দেখেছেন তিনি।

বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, কোন্ পণ্যগুলো মানহীন হিসেবে চিহ্নিত, সে সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা তাদের নেই।

অনেকেই জানেন না যে ঠিক কোন্ ৫২টি পণ্য মানহীন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কয়েকজন বিক্রেতা জানান, ঐ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলোর প্রস্তুতকারীদের কেউ কেউ নিজেদের উদ্যোগে তাদের পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নিলেও, অনেকেই এখনও আসেনি।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর মতে, কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতার কারণেই বাজার থেকে পণ্যগুলো সরানো সম্ভব হচ্ছে না।

নির্দিষ্ট সময়ের পরও ঐ পণ্যগুলোর কয়েকটি যে বাজারে এখনও পাওয়া যাচ্ছে তাতে খুব একটা অবাক নন ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান।

বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা অত্যন্ত কম থাকার কারণেই এ ধরণের কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় না বলে মন্তব্য করেন মি. রহমান।

"লোকবলের দিক থেকে তো বটেই, অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বিএসটিআই বা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা খুবই কম। তাই তারা এ ধরণের কার্যক্রম প্রশাসনের সহায়তা ছাড়া বাস্তবায়ন করতে পারে না।"

Image caption ঢাকার একটি বাজার। মানের কারণে নিষিদ্ধ অনেক পণ্য এখনও বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

কী বলছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

মানহীন ঘোষিত ৫২টি ভোগ্যপণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে আদালত যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্ব দিয়েছিল, তাদের একটি - বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুব কবির অবশ্য দাবি করেন, মানহীন হিসেবে চিহ্নিত ৯০ ভাগের বেশি পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং এখনও পণ্য সরিয়ে নেয়ার জন্য অভিযান চলছে।

"মানহীন ঘোষিত পণ্যগুলোর মধ্যে বাজার থেকে ৯০ ভাগ বা তারও বেশি পণ্য এরই মধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্য প্রত্যাহার করে চিঠি দিয়েছে এবং তার প্রমাণও রয়েছে আমাদের কাছে," বলেন মি. কবির।

তিনি জানান, পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বা এমনকি বিক্রেতার অসচতেনতার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেবেন তারা।

১২ই মে মানহীন হিসেবে প্রমাণিত ৫২টি ভোগ্যপণ্য ১০ দিনের মধ্যে বাজার থেকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।