ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯: বলুন কে জিতবে, কে হারবে?

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ, খেলাধূলার রিপোর্টার এবং কট্টর ক্রিকেট ভক্তদের নিয়ে একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করা হয়েছিল ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বিভিন্ন দলের সম্ভাবনা কেমন সে নিয়ে পূর্বাভাস দেবার জন্য।

এই প্যানেলে ছিলেন বিবিসি আফগান, বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ইংরেজি এবং দক্ষিণ আফ্রিকা বিভাগের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও রিপোর্টাররা। তারা একযোগে মতৈক্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন ম্যাচের ফলাফলের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

এবারে আপনার পালা। আপনাদের জন্য শুভকামনা।

2/5: SAF বনাম BGD


বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপের শুরুটা কঠিন হবে, কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাদের রেকর্ড খুবই দুর্বল। এই দুই দেশের মধ্যে শেষবার ওডিআই সিরিজ হয়েছে ২০১৭ সালে, এবং ঐ সিরিজেও বাংলাদেশ একেবারেই ভালো করেনি। এই বিশ্বকাপ মাশরাফি মোর্তাজার শেষ বিশ্বকাপ। সুতরাং এই টুর্নামেন্টে একটা সাফল্যের জন্য তিনি উদগ্রীব। কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচে সেই সাফল্য তিনি পাবেন, সে সম্ভাবনা কম। তবে চাপের মধ্যে পড়লে দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক সময় বেসামাল হয়ে পড়ে। সেটাই মাশরাফির একমাত্র ভরসা। দক্ষিণ আফ্রিকা জিতবে।

5/5: BGD বনাম NZL


বাংলাদেশের দ্বিতীয় এই ম্যাচটিও তাদের জন্য কঠিন লড়াই। নিউজিল্যান্ড গত বিশ্বকাপের রানার-আপ। দলে বড় কোনো তারকা না থাকলেও দল হিসাবে তারা খুবই শক্তিধর। দলে টিম-স্পিরিট অসামান্য । অন্যদিকে বাংলাদেশ একটি অভিজ্ঞ দল। দলে সাতজন খেলোয়াড় রয়েছেন যারা গত বিশ্বকাপেও খেলেছেন। কিন্তু আফগানিস্তান বাদে দলগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডের মাটিতে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সবচেয়ে কম। সেটা তাদের জন্য একটি দুর্বলতা। তবে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন ট্রফির এক ম্যাচে কার্ডিফের মাঠে যেভাবে সাকিব এবং মাহমুদউল্লাহ'র ব্যাটিংয়ে তারা কুপোকাত হয়েছিল, সে ইতিহাস হয়তো নিউজিল্যান্ডকে কিছুটা চাপে রাখবে। পাল্লা ভারি নিউজিল্যান্ডের পক্ষে।

8/5: ENG বনাম BGD


আগের দুই ম্যাচের মতো তৃতীয় এই ম্যাচেও বাংলাদেশকে পাহাড় ডিঙাতে হবে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে মাথা নিচু করে ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল। গত চার বছরে সেই দল এখন অনেক শক্তিধর। তবে দেশের মাটিতে খেলার কারণে দর্শকদের প্রত্যাশার চাপ থাকবে ইংল্যান্ডের ওপর। সমর্থকদের প্রত্যাশা ও সমর্থন যদি তাদের চাপে না ফেলে উজ্জীবিত করে, তাহলে নিজেদের মাটিতে ইংল্যান্ডের মোকাবেলা করা শক্ত হবে বাংলাদেশের জন্য।এই লড়াইতে ইংল্যান্ড জিতবে।

11/5: BGD বনাম SRL


বিশ্বকাপে এটাই প্রথম কোনো ম্যাচ যেটাতে বাংলাদেশের জেতার সম্ভাবনা প্রবল। শ্রীলংকা দলটি এখন একটি পুনর্গঠনের ভেতর দিয়ে এগোচ্ছে। দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় বয়সে ও অভিজ্ঞতায় তরুণ। কিন্তু বিশ্বকাপের মত দীর্ঘ একটি টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন অনস্বীকার্য, এবং সেদিক থেকে বাংলাদেশ এখন শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে। বাংলাদেশ এ ম্যাচে জিতবে।

17/5: WIN বনাম BGD


আগেরটির মতো এই ম্যাচেও কি বাংলাদেশ জিততে পারে? একেবারই কি তা অসম্ভব? হয়তো নয়, কারণ গত বছর এই দুই দেশের মধ্যে ছয়টি একদিনের ম্যাচের চারটিতেই বাংলাদেশে জিতেছে। কিন্তু গত কয়মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন চোখে পড়ছে। ব্যাটিং এবং বোলিং – দুটোতেই ধার বেড়েছে। এ বছরেই ইংল্যান্ডের সাথে সিরিজে তারা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করেছে। এছাড়া, ক্রিস গেইল যদি ১০/১৫ ওভার ক্রিজে টিকে থাকতে পারেন, তাহলে একাই তিনি ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই ম্যাচে জিতবে।

20/5: AUS বনাম BGD


বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া দলের ওপর দিয়ে সম্প্রতি বেশ ঝড় গেছে। বল ট্যাম্পারিং কেলেঙ্কারিতে পড়ে দলের নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। গত বছর ইংল্যান্ডে এসে রীতিমত নাজেহাল হতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। কিন্তু ধাক্কা অনেকটাই সামলে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় দলে ফিরেছেন স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নার। ফলে শিরোপা ধরে রাখার ক্ষমতা অনেকটাই ফিরে পেয়েছে তারা। তবে তাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়াকে সবচেয়ে বড় অপমান হজম করতে হয়েছিল যখন তারা ২০০৫ সালে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে কার্ডিফের মাঠে বাংলাদেশের হাতে হেরে যায়। তবে তারপর গত ১৪ বছরে কোনো ওডিআই ম্যাচেই বাংলাদেশ তাদের হারাতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়া ট্রেন্ট ব্রিজের ম্যাচে জিতবে।

24/5: BGD বনাম AFG


র‍্যাংকিংয়ে নিচুর দিকে থাকা এই দুই দল টুর্নামেন্টের মাঝপথে মুখোমুখি হচ্ছে। সুতরাং আগের ম্যাচগুলোতে তারা কে কী করেছে, তার প্রভাব পড়বে। সাদামটনের মাঠ ব্যাটিং উইকেট। সাধারণত অনেক রান হয়। সেদিক দিয়ে বাংলাদেশের সুবিধা হতে পারে, কারণ বাংলাদেশ মূলত ব্যাটিং নির্ভর একটি দল। তবে সাদামটনের মাঠে মাঝেমধ্যে ভালো স্পিন ধরে। সেক্ষেত্রে রশিদ খান এবং মুজিবর রহমান ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন। এই দুই দলের সাম্প্রতিক লড়াইগুলোতে কেউই একক প্রাধান্য বিস্তার করতে পারেনি। সাদামটনের ম্যাচে কে জিতবে সেই ধারণা করা কঠিন।

2/6: BGD বনাম IND


বিশ্বকাপ ওপেনিং রাউন্ডের একবারে শেষদিকে হচ্ছে দুই প্রতিবেশীর এই লড়াই। ভারত এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল। কিন্তু আইপিএলের কারণে তাদের অনেক খেলোয়াড়ই হয়তো ক্লান্ত। দলে ইনজুরির সমস্যা ছিল। তবে তারপরও বাংলাদেশ এবং ভারতের শক্তির মধ্যে অনেক ফারাক। তবে অতীতে একাধিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতকে কিছুটা নার্ভাস লেগেছে। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার দুঃস্বপ্ন হয়তো এখনো কাটেনি ভারতের। সেটাই বাংলাদেশের একমাত্র ভরসা। কিন্তু গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের পিচ ভারতের ব্যাটসম্যানদের দারুণ সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে বোলিংয়ে দারুণ উন্নতি করেছে ভারত। ফলে ভারতকে এই ম্যাচে টপকানো বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। এজবাস্টনে ভারত জিতবে।

5/6: PAK বনাম BGD


রাউন্ড রবিন লীগের শেষ ম্যাচ এটি। সেমি-ফাইনালে জায়গা পেতে হয়তো এই ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য মরা-বাঁচার লড়ই হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তাজার শেষ বিশ্বকাপ। একটি সাফল্য নিয়ে প্রস্থানের জন্য তিনি নিঃসন্দেহে উন্মুখ থাকবেন। তবে এই ম্যাচে সেই সাফল্য পাওয়া তার জন্য শক্ত হবে। লর্ডসের ম্যাচে পাকিস্তান জিতবে।

খেলা কোন বিজ্ঞান নয়। কাজেই আমাদের পূর্বাভাস যে একাধিক ক্ষেত্রে ভুল প্রমাণিত হতে পারে সে বিষয়ে আমরা পুরোপুরি সচেতন। তবে কোন্ দলের সম্ভাবনা কেমন তা নিয়ে পূর্বাভাস দেবার এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ প্রত্যেক প্যানেলিস্টের জন্য খুবই উপভোগ্য অভিজ্ঞতা ছিল বলে তারা বলেছেন।

হয়ত আপনাদের পূর্বাভাস আমাদের থেকেও বেশি ঠিক হতে পারে।

আশা করি আপনারাও এতে যোগ দেয়া উপভোগ করবেন।

সম্পর্কিত বিষয়