এবারের ঈদে 'নাম ছাড়া' পোশাকের জনপ্রিয়তা কতটা?

ঈদের পোশাক
Image caption ঈদের পোশাক

ঢাকার নিউ মার্কেট এবং বিশেষ করে গাউছিয়া মেয়েদের পোশাকের জন্য নামকরা। ঈদের এই সময়টাতে এই দুই মার্কেটে পা ফেলার জায়গা থাকে না।

এবারেও এর ব্যতিক্রম নয়। ঈদের আর বেশি দেরি নেই, তাই কেনাকাটার ধুম চলছে। এসব কিছু পরিচিত চেহারা।

কিন্তু একটি বিষয় ব্যতিক্রম সেটা হল মেয়েদের পোশাকের গায়ে কোন নাম লেখা নেই।

গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে ঈদের সময় বাংলাদেশের মেয়েদের পোশাক ভারতের বাংলা সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্রের নাম বা সিরিয়ালের নাম ধরেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এর আগের কয়েকটা ঈদে 'পাখি জামা', 'কিরণ বালা' এবং সিরিয়াল এমনকি সিনেমার নামে জামা দেখতে পাওয়া যেত। অনেক ক্রেতারা সেসব পোশাক কেনার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতেন।

কিন্তু এবারের ঈদে এখন পর্যন্ত যেসব পোশাক মার্কেটে দেখা যাচ্ছে, সেগুলোতে এমন কোন বাহারি নাম নেই।

নাম ছাড়া এসব পোশাক ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের কাছে কতটা জনপ্রিয় হচ্ছে?

হাবিবা খাতুন নামে একজন বিক্রেতা বলছিলেন, ক্রেতাদের মন-মানসিকতা আগের চেয়ে পরিবর্তন হয়েছে।

'নুসরাত হত্যা ছিল মিলিটারি প্লানের মত নিখুঁত'

পিরিয়ডের সময় স্যানিটারি প্যাডের বিকল্প কী আছে বাজারে?

আকর্ষণীয় হতে গিয়ে পুরুষত্বহীন হচ্ছেন পুরুষেরা?

Image caption দোকানে সাজানো ঈদের পোশাক

তিনি বলছিলেন, "মানুষ কি এখন আর আগের মত আছে, এখন মানুষ কাপড় দেখে জামা কেনে। গরম তাই কটনটা (সুতি) বেশি কিনছে মানুষ।"

কয়েকজন বিক্রেতা বলছিলেন, এইসব নামগুলো তারাই দিয়ে থাকেন। তবে এবারে কোন নামের প্রতি আকর্ষণ বোধ করেন নি বিক্রেতারাই।

একজন নারী বিক্রেতা বলছিলেন, "এবারে কোন নাম শুনি নাই। তাই নাম দেই নি। কিন্তু বেচা-বিক্রি ভালো হচ্ছে। নামের জন্য কমে গেছে তেমনটা না।"

নাম না থাকাতে কেনাকাটায় সুবিধা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

একজন নারী ক্রেতা বলছিলেন, "নাম না থাকাতে ভাল হয়েছে। নাম থাকলে একটা চাপ থাকে। অনেকে হাজব্যান্ডের উপর চাপ দেয়, অনেকে বাবা- মায়ের উপর চাপ থাকে।"

আরেকজন নারী বলছিলেন, "ফেসবুকে দেখি ঐ জামাটা না পেলে তারা জীবন রাখবে না। ফেসবুকে দেখেছি ঐ জামা না পেলে সুইসাইড করেছে। সেক্ষেত্রে ভাল হয়েছে নাম না থাকাতে।"

আরেকজন নারী বলছিলেন, "এর ফলে জামার কোয়ালিটিটা আমরা দেখছি। নাম থাকলে কোয়ালিটি খারাপ থাকলেও আমরা সেই জামা কিনতে বাধ্য হয়।"

তবে বাচ্চাদের খুশি করার জন্য কিছু মায়ের সাথে কথা বলে জানা গেল - একটা নাম থাকলে মন্দ হত না।

গুলশান আরা বলছিলেন, "বাচ্চাকে ভাল জামা কিনে দিচ্ছি, কিন্তু কোন নাম বলতে পারছি না। বাচ্চা নতুন জামা পেয়ে খুশি হচ্ছে, কিন্তু কোন নাম বলতে পারলে যেন আরেকটু বেশি খুশি হত।"

ঈদের বাকি আছে সপ্তাহ খানেকের কিছু বেশি সময়। তবে কেনাকাটার বেশিরভাগ জমজমাট সময়টা এবার পার হল কয়েক বছর ধরে চলা প্রচলিত নাম ছাড়াই পোশাক কিনে-বিক্রি করে।

এতে বিক্রেতাদের যেমন কোন আপত্তি নেই, তেমনি ক্রেতারা নাম দেখে পোশাক কেনার চেয়ে কোয়ালিটি পোশাক কেনার ক্ষেত্রেই বেশি আগ্রহ দেখা গেছে।

সম্পর্কিত বিষয়