উন্নয়ন অর্থ বরাদ্দে গোপালগঞ্জ কেন এত এগিয়ে?

উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ হওয়ার কথা এলাকার দারিদ্র ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে। ছবির কপিরাইট Majority World
Image caption উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ হওয়ার কথা এলাকার দারিদ্র ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে।

বাংলাদেশের জেলাগুলোয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বা এডিপি'র অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অতি উচ্চমাত্রায় বৈষম্য করা হচ্ছে বলে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স নামে প্রতিষ্ঠানটি বলছে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে গোপালগঞ্জ, ঢাকা ও চট্টগ্রামে।

উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ হওয়ার কথা এলাকার দারিদ্র্য ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে। কিন্তু সংস্থাটির গবেষণা বলছে বাংলাদেশের হাওর, উত্তরের দারিদ্র্য পীড়িত অঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে বরাদ্দ রয়েছে অনেক কম।

বার্ষিক এই অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে এটিকে বৈষম্য বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে

২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দ গবেষণা করে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স বলছে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পর যে জেলাটি রয়েছে সেটা হল গোপালগঞ্জ।

ঢাকা জেলার এডিপি বরাদ্দের ২১ দশমিক ২১ শতাংশ, চট্টগ্রাম ১০ দশমিক ৮ শতাংশ ও গোপালগঞ্জ ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ পেয়েছে।

বরাদ্দ কম দেয়া হয়েছে রংপুর বিভাগে। এছাড়া হাওর এবং উপকূলীয় অঞ্চল এবং অন্যান্য বড় বড় জেলাগুলো রয়েছে অর্থ বরাদ্দের নীচের দিকে।

ছবির কপিরাইট Barcroft Media
Image caption হাওর, উত্তরের দারিদ্রপীড়িত অঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে বরাদ্দ রয়েছে অনেক কম।

গোপালগঞ্জ কিভাবে বেশি অর্থ বরাদ্দ পেল?

রাজধানী ঢাকা এবং প্রধান বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পর অন্যান্য বিভাগীয় শহরকে পেছনে ফেলে গোপালগঞ্জ জেলায় বেশি অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি অনেককেই অবাক করেছে।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স এর একজন গবেষক মামুননাহ জুবায়েদ বলছিলেন গবেষণা করার সময় তারা দেখেছেন এক্ষেত্রে পরিকল্পনা এবং সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।

মামুননাহ জুবায়েদ বলছিলেন "প্ল্যানিং এবং কোঅর্ডিনেশন এ সমস্যা রয়েছে। কারণ আমাদের দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য বেশি প্রকল্প নেয়া হয়। কিন্তু আমরা যদি নির্দিষ্ট করতে পারি কোন জেলাগুলোতে দারিদ্রের হার বেশি সেই জেলাগুলোতে যদি আমরা বাজেট বরাদ্দ করতে পারি সেটা ফলপ্রসূ হবে। আমাদের মনে হয়েছে ভালো পরিকল্পনা করে এই প্রকল্পগুলো করা হয় না"।

গবেষক মামুননাহ জুবায়েদ বলছিলেন গোপালগঞ্জে বিশেষ কোন বড় প্রকল্প হচ্ছে না তবে সব ধরণের উন্নয়ন প্রকল্প সেখানে আছে।

আরো পড়ুন:

বাংলাদেশ কেন পাকিস্তানের উন্নয়নের মডেল

প্রতিবেশীদের তুলনায় বাংলাদেশের সামরিক ব্যয়ের চিত্র

সমালোচনা সত্ত্বেও শেখ হাসিনায় আস্থা কেন পশ্চিমাদের?

উন্নয়ন অর্থ বরাদ্দ কিভাবে হয়?

এডিপি বরাদ্দের বড়ই অংশই পায় মধ্যাঞ্চল, অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো পায় সবচেয়ে কম।

বরাদ্দের ক্ষেত্রে এমন বৈষম্য দেশের সুষম উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করেন অনেকে।

ছবির কপিরাইট Nayeem Kalam
Image caption বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য দেশের সুষম উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলছিলেন, যদি আসলেই উন্নয়ন করতে হয় তাহলে উচিত হবে সেসব অঞ্চল পিছিয়ে আছে সেসব এলাকার বরাদ্দ বাড়িয়ে সমান করে তোলা।

তিনি বলছেন, "এখন যেসব অঞ্চল পিছিয়ে আমারা যদি একটা সুষম উন্নয়ন করতে চায়, উদ্দেশ্য হবে যারা পিছিয়ে আছে তাদের টেনে তুলে যারা এগিয়ে আছে তাদের সমান করা। যাতে তারা সমান তালে চলতে পারে। এখন যদি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হয় এমন যেসব অঞ্চল ইতিমধ্যে পিছিয়ে আছে তাদেরকে যদি বরাদ্দ সঠিকভাবে না করা হয় তাহলে সে অঞ্চলের যে উন্নয়ন সেটা তো সম্ভব হবে না। এবং বৈষম্যটা বাড়তে থাকবে"

অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কেন এই বৈষম্য?

বাজেট বরাদ্দ নিয়ে গবেষণা করেন ড.আদিল মোহাম্মদ খান বলছিলেন বাংলাদেশে যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই সরকার প্রধান বা মন্ত্রীদের নিজেদের এলাকায় বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ বেশি হয় এমন একটা ট্রেন্ড তারা লক্ষ্য করেছেন দীর্ঘদিন ধরে।

ছবির কপিরাইট Suhaimi Abdullah
Image caption ক্ষমতায় থাকা সরকার প্রধান বা মন্ত্রীরা নিজেদের এলাকায় বাজেট বেশি বরাদ্দ দেয় বলে অভিযোগ।

তিনি বলছেন, "কোন একটা সরকার বা সরকার প্রধান যে এলাকাতে থাকেন বা মন্ত্রী থাকেন সে এলাকাকে প্রাধান্য দেন এটা একটা বাস্তবতা। তবে সেই প্রাধান্য দেয়ার পরিমাণটা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন আছে। প্রাধান্য থাকতে পারে কিন্তু সেটা যেন চোখে পড়ার মত না হয় কারণ তারা সারা দেশের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করেন, সারা দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করা উচিত। তবে বিগত বছরগুলো পর্যালোচনা করে এটা একটা ট্রেন্ড হিসেবে দেখা গেছে।"

অসম এই বাজেট বরাদ্দের ব্যাপারে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর দিকে বিশেষ সংবেদনশীল থাকেন। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করে না।

আরো পড়ুন:

সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে নিয়ে পুলিশ যা বললো

তামিম যেভাবে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার হয়ে উঠলেন

বাংলাদেশে প্রতিদিন কত মানুষ প্রার্থনা করেন?

সম্পর্কিত বিষয়