স্ত্রীকে কেন খুন করেছিলেন ইরানি নেতা

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ছবির কপিরাইট IRIB News
Image caption হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র

দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী নাজাফি। কিন্তু স্বাধীনচেতা এই নারী সেটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

পুলিশ বলছে এরপর পরপর পাঁচটি গুলি করেন তিনি, আঘাত করে দুবার এবং এর মধ্যে একবার হার্টে।

এরপর পালিয়ে আত্মহত্যার চিন্তাও করেছিলেন।

মিস্টার নাজাফি পুলিশ স্টেশনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং পুরো ঘটনাটি ইরানি রাষ্ট্রীয় টিভিতেই প্রচার হয়েছিলো ব্রেকিং নিউজ হিসেবে।

এরপর তিনি সেখানে বসে কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করেন এবং পানীয় পান করেন।

কিন্তু নাজাফিকে দেখানো হচ্ছিলো ব্যাপক সৌজন্যতা যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্কের জন্ম দেয়।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ইরান বিপ্লবের পর কী হয়েছিল খোমেনির সহযোগীদের

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান কি টিকে থাকতে পারবে?

কেন ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের শত্রু?

রোজা না করা বা প্রকাশ্যে হিজাব না পড়লে সাধারণ নাগরিকদের সাথে ভিন্ন আচরণ করা হয় সেখানে।

সেখানে একজন সন্দেহভাজন খুনির সাথে তারা কথা বলছিলো বেশ সম্মানের সঙ্গেই।

আর তিনি তখন তার স্ত্রীকে খুনের স্বীকারোক্তি দিচ্ছিলেন।

এমনকি নাজাফি যে শান্ত ভঙ্গিতে খুনের বিবরণ দেন তা নিয়েও টুইটারে নানা প্রতিক্রিয়া এসেছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো পুলিশ স্টেশনে কেনো নাজাফিকে ক্যামেরাবন্দী করা হচ্ছিলো। এ অনুমতি এলো কিভাবে?

এর উত্তর হলো রাজনৈতিক।

সংস্কারপন্থী এই রাজনীতিক পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ঘনিষ্ঠ ছিলেন ।

তবে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলো কট্টরপন্থীদের সমালোচনার মুখে।

অভিযোগ ছিল, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে মেয়েদের সাথে নেচেছিলেন। কিন্তু সেই নাচ ছিলো কট্টরপন্থীদের দৃষ্টিতে 'অনৈসলামিক কার্যকলাপ'।

সংস্কারপন্থী হিসেবে মিস্টার নাজাফি বহুকাল ধরেই কট্টরপন্থীদের লক্ষ্য ছিলেন।

কিন্তু স্ত্রীকে খুন করলেন কেনো?

"আমি তাকে ভয় দেখাতে চেয়েছিলাম। আমি তার কাছে ডিভোর্স চেয়েছিলাম কিন্তু সে প্রত্যাখ্যান করে। আমি একটি ভুল করেছি," মিস্টার নাজাফি বলেছেন বিচারিক কর্মকর্তাদের।

৩৫ বছর বয়সী মিত্রা ওসতাদ ছিলেন ৬৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিকে দ্বিতীয় স্ত্রী।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

ইরানে বহুবিবাহ বৈধ কিন্তু তার দ্বিতীয় স্ত্রী সংস্কারপন্থী শিবিরে কিছু স্ক্যান্ডালের জন্ম দিয়েছিলো।

রাজনীতির পাশাপাশি মিস্টার নাজাফি ছিলেন একজন স্বীকৃত শিক্ষাবিদ।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এমআইটিতে পড়াশোনা করেছেন।

কিন্তু তার সহকর্মীদের অনেকে তার দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেননি।

এ সমালোচনার জের ধরেই তেহরানের মেয়রের পদ থেকে সাত মাস আগে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি।

দ্বিতীয় স্ত্রী ওসতাদের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিলো তেহরানের উত্তরে একটি আবাসিক এলাকার উঁচু ভবনের সতের তলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে।

তার আগের স্বামীর ঘরের তের বছর বয়সী সন্তানই খুঁজে পেয়েছিলেন মৃতদেহটি।

এর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুঞ্জন শুরু হয় যে নাজাফিই হয়তো স্ত্রীকে গুলি করেছেন।

নাজাফি বলেছেন, ওসতাদ তাকে ত্যাগ করলে বা আগের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক রাখলে সব ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলো।

পুলিশ স্টেশনে নাজাফির ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত একটি স্বীকারোক্তিকে পরিণত হয় যেখানে তিনি স্বীকার করেন যে তিনিই তার স্ত্রীকে খুন করেছেন।

"আমি ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি অস্ত্র হাতে নেই ও সে বাথরুমে যায়। আমি তাকে অনুসরণ করে বাথরুমে যাই। এটা ছিলো তাকে ভয় দেখানোর জন্য। এ সময় ধস্তাধস্তি হলে সে আমার ওপর পড়ে ও অস্ত্রটি ছিলো তখন সম্পূর্ণ রেডি অবস্থায়"।

পুলিশ স্টেশনে যেই রিপোর্টার তার সাথে কথা বলেন ও ভিডিও করেন তিনি বলেছেন ওই অস্ত্রে তেরটি বুলেট ছিলো যার মধ্যে পাঁচটি ভিকটিমের শরীরে আর তিনটি দেয়ালে লাগে।