বিশ্বকাপ ডায়েরি: লন্ডন যেন এক টুকরো পৃথিবী

ছবির কপিরাইট Mike Kemp
Image caption লন্ডনের রাস্তায় পৃথিবীর বহু দেশের মানুষ একসাথে দেখা যায়।

লন্ডনের আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারলেও, এখানে মানুষ চেনা দায়!

কে কোন দেশের নাগরিক তা বোঝার উপায় নেই !

অনায়াসেই তাই লন্ডনকে একটা ছোট্ট পৃথিবী বললে অত্যুক্তি হবে না মোটেও!

এশিয়ানরা যে রকম গিজগিজ করছে, তেমনি লাতিন, আফ্রিকানদের কমতি নেই।

ফুটপাতে আপনার পাশ দিয়ে সাত ফুট লম্বা কেউ হেঁটে যাবে তো পরক্ষণেই পাঁচ ফিট কেউ আপনাকে অতিক্রম করবে।

হোটেলের লিফটে যেমন ক্রোয়েশিয়ার কোন দম্পতির নিজেদের মধ্যে অপরিচিত ভাষার ব্যবহার কানে আসে, তেমনি আবার টিউবে সহজেই নজর কাড়ে ভারতীয় রমণীর মোবাইল ফোনে বলিউড মুভি দেখার দৃশ্য।

দেশটা এমনই বৈচিত্র্য ভরা। সারা পৃথিবীকে যেন দুহাত ভরে আলিঙ্গন করছে। তবে কেউ কোথাও হস্তক্ষেপ না করে!

অর্থাৎ যে যার মতো, অযথা ঘাটাতে যায়না কেউ কাউকেই!

তাইতো পাশাপাশি সিটে বসেই ভ্রমণ করছে বোরকা ও মিনি স্কার্ট পরা নারী। কে কালো কে সাদা ভ্রুক্ষেপ নেই কারো!

আর সেটার সময়ই বা কই? প্রতিটি মানুষ যেন চাবি দিয়ে ছেড়ে দেয়া পুতুল। ছুটছে আর ছুটছে।

বাসে, ট্রেনে, হেঁটে শুধুই অবিরাম ছুটে চলা। সপ্তাহে পাঁচদিন গাধার খাটুনি। ছুটির দুদিন পরিবারের সময় দেয়া, বাড়ির কাজ।

বাংলাদেশীরাও দেখলাম অদ্ভুতভাবে মানিয়ে নিয়েছে এমন বিলেত জীবনের সাথে। ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে।

দোকানে, রেস্টুরেন্টে শুরুর ইংরেজি আলাপ দ্রুতই বাংলা থেকে আঞ্চলিকতায় রূপ পায়।

ওভালে তো বাংলাদেশের অনুশীলনের সময় নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুজন ভদ্রলোকের পরিষ্কার বাংলা শুনে চমকে যেতেই হল।

মাত্রই সাকিব-তামিমদের নেটে বল করে এসেছেন আরেক কিশোর বাংলাদেশী।

একটা বড় প্রজন্মের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এখানে, হয়তো কখনো বাংলাদেশে যায়নি কিন্তু তবুও মনের ভেতরের এক কোণে কোথাও না কোথাও পূর্বপুরুষের ভিটেকে ঠিকই ধারণ করে রেখেছে।

ঠুনকো দেশপ্রেম হয়তো নেই, কিন্তু নিজের কাজে শতভাগ নিয়োজিত এখানে সবাই।

তাইতো লাখো বিদেশির ভিড়ে অপরিচিত শহরে হঠাৎ বাঙালি পেয়ে আপনার মনে আবেগ উথলে উঠলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করাই ভালো কারণ অন্য প্রান্তের প্রতিক্রিয়া বিপরীতও হতে পারে!

সম্পর্কিত বিষয়