খারাপ বোধ না করেও যেভাবে কাউকে না বলা যায়

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের কাছে পরিষ্কার হতে হবে যে এর পরিণতি কী হতে পারে। ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের কাছে পরিষ্কার হতে হবে যে এর পরিণতি কী হতে পারে।

আপনি কি জানেন কখন না বলতে হয়?

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা খুব সহজে না বলতে পারেন না। কারণ তারা অন্যকে কষ্ট দিতে চান না কিম্বা চান না হতাশ করতে। এমনকি চান না যে কেউ ভাবুক যে তারা অসহযোগী।

কিন্তু তারপরেও তো আমাদেরকে না বলতে হয়। এই না বলা নিয়ে অনেককে পড়তে হয় মানসিক চাপেও। তারা হয়তো কোন একটা কাজ করতে চাচ্ছেন না আবার সেটা না-ও করতে পারছেন না। তখন দুদিক থেকেই তাকে একটা চাপের মধ্যে পড়ে যেতে হয়।

কিন্তু এতো কিছু সত্ত্বেও বাস্তবতা বিবেচনা করতে হবে। ভেবে দেখতে হবে যে আমার পক্ষে আসলে কতোটুকু কী করা সম্ভব।

তার ভিত্তিতেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমি কখন ও কেমন করে না বলবো, কোনটা সবচেয়ে ভালো উপায় হবে।

এই না বলে দিতে পারলে আপনার কাজের চাপ অনেকখানি কমে যাবে, স্বাস্থ্য ভাল থাকবে এবং হ্রাস পাবে মানসিক অশান্তিও।

তো, আমরা তাহলে নিজেকে অপরাধী না ভেবেও ঠিক কীভাবে না বলতে পারি?

ব্রিটেনে এডুকেশন সাপোর্ট পার্টনারশিপ নামের একটি দাতব্য সংস্থা এবিষয়ের উপর একটি জরিপ চালিয়েছে। গত এক বছর ধরে চালানো এই সমীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ।

এই গবেষণার ভিত্তিতে না বলার ব্যাপারে এই সংস্থাটির কিছু টিপস এখানে তুলে ধরা হলো:

আপনার অগ্রাধিকার জেনে নিন

একটা তালিকা তৈরি করুন। তাতে ঠিক করে নিন যে আপনার দায়িত্ব কী। আরো গুরুত্বপূর্ণ যেসব বিষয় আছে সেগুলো নিয়েও চিন্তা করুন। যেমন আপনি কখন পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটাবেন। নিজের ভালো থাকার কথাও একটু বিবেচনা করুন।

চিন্তা করে দেখুন আপনার এসব অগ্রাধিকার পূরণ করার পেছনে আপনি কতোটুকু সময় ব্যয় করবেন এবং এরচেয়ে বেশি কিছু করার জন্যে আপনার কতোটা ক্ষমতা আছে।

চিন্তা করে দেখুন আপনি যদি হ্যাঁ বলেন তাহলে তার পরিণতি কি হতে পারে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রত্যাশা যেন অবাস্তব না হয় সেটা মাথায় রাখতে হবে।

আরো পড়তে পারেন:

মানসিক উদ্বিগ্নতা সারিয়ে তুলতে পারে দাদা দাদী

যে পাঁচটি বিষয় নিয়ে পুরুষরা কথা বলে না

'মানসিক চাপ' সামলাতে ঢাকায় কী ব্যবস্থা আছে?

চিন্তা করার সময় কিছু কৌশল ব্যবহার করুন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে সময় নিন। তারপর ভেবে দেখুন আপনার এই সিদ্ধান্তের ফলে কী হতে পারে।

অনেক সময় এটা করা কঠিন হতে পারে। তারপরেও ভেবে দেখুন এরকমটা করলে ঠিক কতোটা লাভ হবে, সেটা কি আপনাকে সাহায্য করবে, আপনার সময় বাঁচাবে, শেষ পর্যন্ত আপনার কেরিয়ারে সহায়ক হবে?

যদি সেরকম কিছু হয় তাহলে আপনার অগ্রাধিকারের তালিকা নতুন করে সাজিয়ে নিন। স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী ফলাফলের কথা চিন্তা করুন।

তার ভিত্তিতে অনেক কাজ বাদ দিয়ে দিতে পারেন। এবং নতুন অগ্রাধিকারকে তালিকায় জায়গা করে দিন।

বাস্তবতা অনুসারে প্রত্যাশা নির্ধারণ করুন

কেউ সকলের কাছে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পেতে চান না যিনি সবসময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন কিন্তু সেসব পূরণ করতে পারেন না।

অনেকেই অতিরিক্ত কাজ করতে রাজি হয়ে যান কিন্তু পরে সেটা করতে গিয়ে হিমশিম খান। কারণ দেখা যায় যে আসলে ওই কাজটা করার ক্ষমতাই তার নেই। এর ফলে অন্যরা আপনার ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়তে পারেন।

আপনি যদি খুব সৌভাগ্য হন যে আপনি এমন একটা অফিসে কাজ করছেন যেখানে সততা ও মুক্ত আলোচনাকে উৎসাহিত করা হয়, তাহলে তো সেটা আপনার জন্যে খুবই ভালো।

দীর্ঘ মেয়াদে আপনার বসের সাথে একটা ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা খুবই প্রয়োজন। তাহলে আপনি আমার মতামত আত্মবিশ্বাসের সাথে তুলে ধরতে পারবেন।

তখন অফিস ও ম্যানেজারও আপনার মতামতকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করবে।

সেকারণে যখন তখন হ্যাঁ বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং না বলুন এবং সেটা বলুন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই।

আপনাকে যদি কারণ বলতে হয় তাহলে সেটাও ব্যাখ্যা করুন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption কাউকে না বলতে পারা অনেকের জন্যে মানসিক চাপের বিষয়।

এটা করা যদি এতোটা সহজ না হয়, তাহলে নিজের ও সবার কাছে পরিষ্কার থাকুন যে আপনি কেন এই কাজটা করতে পারবেন না।

বাস্তবতা অনুযায়ী আপনার প্রত্যাশা নির্ধারণ করুন। পরিস্থিতি অনুসারে ভেবে দেখুন আপনি কোন কাজটা করতে পারবেন এবং কোনটা পারবেন না।

এই ভেবে দেখার প্রক্রিয়ায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের প্রতি সৎ থাকুন।

হয়তো এমন হতে পারে যিনি আপনাকে কিছু করতে বলছেন, তার হয়তো সেসময়কার পরিস্থিতি ও বাস্তবতা সম্পর্কে ভাল ধারণা নেই। তিনি ঠিক জানেন না যে ওই কাজটা করতে হলে এর সাথে আরো কী কী জড়িত।

আপনি যদি তাকে ব্যাখ্যা করে বলতে পারেন তখন হয়তো তিনি বুঝবেন এবং বিকল্প উপায় খুঁজে বের করবেন।

বিকল্প নিয়ে ভাবুন

বিশ্বস্ত সম্পর্ক গড়ে তোলা খুব জরুরী। থাকা দরকার মানসিক সাহসও।

এই দুটো জিনিস থাকলে প্রচলিত অনেক ধারণা ভেঙে দিয়ে নতুন নতুন ঝুঁকি নেওয়া সহজ এবং তাতে সাফল্যও আসে সহজে।

তাই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখুন। বিষয়টিকে এমনভাবে ভেবে দেখুন যা আগে বিবেচনা করা হয়নি।

Image caption নিজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।

ভেবে দেখুন আর কীভাবে ও কার সাথে করলে কাজটা ভালো হবে নাকি আরো বেশি সময় করলে ভালো হবে?

আর এসব প্রশ্নের উত্তর যদি পেয়ে যান, ঠিক তখনই আপনার পক্ষে না বলা অতোটা কঠিন হবে না।

চাপ অনুভব করবেন না

এমনও হতে পারে আপনি হয়তো কোন একটা অনুরোধের ব্যাপারে আগ্রহী, কিন্তু আপনি ঠিক জানেন না যে আপনার হ্যাঁ বলা উচিত কিনা, তখন কিছুটা সময় নিন এবং এনিয়ে ভেবে দেখুন। আপনাকে তড়িঘড়ি করে এখনই কোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।

এর মধ্যে আপনি বলতে পারেন: "এই কাজের জন্যে আমাকে বিবেচনা করায় আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে আমাকে একটু ডায়েরিটা দেখতে দিন। দেখি যে আমার আর কোন কাজ আছে কিনা। তবে আমি যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনাকে জানাবো।"

আপনি যদি সিদ্ধান্ত নেন যে আপনি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করবেন, তাহলে সেটা বলার আগে পরিষ্কার হয়ে নিন যে আপনি ঠিক কাজটাই করছেন।

আপনি এরকম বলতে পারেন: "এখন আমার হাতে সময় নেই। তবে যদি সময় করতে পারি তাহলে সেটা আপনাকে জানাবো।"

আপনি তাকে একটা বিকল্প সমাধানের কথাও জানাতে পারেন। অথবা সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করতে পারেন। তারাও হয়তো আপনাকে খুব দ্রুতই একটা সমাধান বের করে দিতে পারে।

আরো পড়তে পারেন:

ভারতে 'হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া ঠেকাও' আন্দোলন

ফাইনালের সময় মাঠে ঢুকে পড়া কে এই নারী

বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা: কার কী কৌশল?