এডিটার'স মেইলবক্স: বিশ্বকাপ ক্রিকেট, মাসিক ও নারী স্বাস্থ্য

ওভাল স্টেডিয়ামের বাইরে বাংলাদেশি সমর্থকরা
Image caption ওভাল স্টেডিয়ামের বাইরে বাংলাদেশি সমর্থকরা

ইংল্যাণ্ড ও ওয়েলসে বসেছে দ্বাদশ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর। এ সপ্তাহের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল এটি।

এ নিয়ে সুন্দরদিঘী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড় থেকে লিখেছেন দিপক চক্রবর্তী:

''ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হলো, কিন্তু এইবার আমরা মাঠ থেকে বিশ্বকাপ ক্রিকেট সরাসরি শুনতে পারবো কি? এইবার খেলার আলোচনা কে করবেন?''

মি: চক্রবর্তী-খেলার মাঠ থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের খবর বা ধারাভাষ্য দেবার অনুমতি বিবিসি বাংলার নেই। বিশ্বকাপের আয়োজক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের স্বত্ত্বাধিকার আইনের শর্ত অনুযায়ী খেলা চলাকালীন মাঠের ভেতর থেকে খবর প্রচার করতে আমরা পারি না। তাই বিশ্লেষকরা মাঠের বাইরে এসে আমাদের জন্য খেলার খবর বা বিশ্লেষণ দেন।

আর আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হল এবার বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কভার করতে ঢাকা থেকে এসেছেন আমাদের দুজন রিপোর্টার ফয়সাল তিতুমীর এবং রায়হান মাসুদ। এছাড়াও বিভিন্ন খেলার বিশ্লেষণ করবেন বাংলাদেশের সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ যারা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেখতে ইংল্যাণ্ড ও ওয়েলস ঘুরবেন। লেখার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

খুলনার দাকোপ থেকে লিখেছেন নিয়মিত পত্রলেখক মুকুল সরদার:

''শুরু হয়ে গেল বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জমকালো আসর। বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে ঘিরে বিবিসি বাংলা এরই মধ্যে নানা স্বাদের প্রতিবেদন প্রচার করতে শুরু করেছে, ধন্যবাদ রইল বিবিসি বাংলার জন্য। বিবিসি বাংলায় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের তরতাজা সব খবরের পাশাপাশি বোরিয়া মজুমদারের মতো ক্রিকেট বিশ্লেষকদের বিশ্লেষণ প্রত্যাশা করবো। এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হয়েছে লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসের সামনে দ্যা মলে। স্টেডিয়ামের বাইরে এ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিশেষ কি কোনো কারণ ছিল?''

মি: সরদার- হয়ত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ম্যাচ নিয়ে বোরিয়া মজুমদারের বিশ্লেষণ শুনেছেন। এছাড়াও যেমনটা এর আগে আরেকজন পত্রলেখকের চিঠির উত্তর থেকে জেনেছেন ইংল্যাণ্ডে খেলা দেখতে আসা বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ শোনানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব হল বাকিংহাম রাজপ্রাসাদের সামনের রাস্তা দ্য ম্যল ব্রিটিশদের জন্য একটি গর্বের স্থান- বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। তাই ইংল্যাণ্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য লণ্ডনের ল্যাণ্ডমার্ক এই প্রাসাদকে পটভূমি হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন আয়োজকরা। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বিশ্বকাপ ট্রফি

২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোতে কে জিতবে, কে হারবে শ্রোতাদের এ ব্যাপারে তাদের পূর্বাভাস দেবার জন্য বিবিসি বাংলা ডট কমে আমরা যে আয়োজন করেছি সে সম্পর্কে রঙপুর থেকে লিখেছেন শিহাব মাহমুদ:

''বিশ্ব কাপে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে যে আয়োজন বিবিসি উপস্থাপন করেছে তা আমার খুব ভাল লেগেছে। সত্যি বিবিসি আলাদা ধাঁচের সংবাদ প্রচার করে থাকে। আমরা তো জানি,ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা আর কে জিতবে, কে জিতবে না এটা নিয়ে আগাম কিছু বলা সত্যি খুব টাফ। কেউ কি জানত? ক্রোয়েশিয়া ফাইনালে উঠবে? সত্যি বলতে, এখানে একটা জিনিস পরিষ্কার। সেটা হলো এটা বুদ্ধির জুয়া। এই নেশাটা এমন যে, এখানে এখন দেখা কার ভবিষ্যতবাণী সঠিক হয়?''

আমাদের এই আয়োজনে আপনার ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগছে। এটাকে বুদ্ধির জুয়া বলব না, তবে ক্রিকেট যারা ফলো করেন, দলগুলোর খেলা যারা নিয়মিত দেখেন তাদের নিজস্ব বিশ্লেষণ দিয়ে তারা একটা ধারণা তৈরি করতে পারেন যে কোন্ দলের এবার জেতার সম্ভাবনা কতটুকু। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিভিন্ন বিভাগ থেকে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ এবং রিপোর্টারদের নিয়ে একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করেছিল, ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বিভিন্ন দলের সম্ভাবনা কেমন সে নিয়ে পূর্বাভাস দেবার জন্য। তারাই একযোগে মতৈক্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন ম্যাচের ফলাফলের পূর্বাভাস দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সব পূর্বাভাসই যে সঠিক হবে এমন দাবি আমরা করব না। এটাও একধরনের খেলা। আর আপনি যেমনটা বলেছেন ক্রিকেট একটা অনিশ্চয়তার খেলা। আশাকরি আপনারা যারা অংশ নিয়েছেন তারা এটা উপভোগ করেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

আর যারা এখনও এই খেলায় অংশ নেন নি- একবার অংশ নিয়েই দেখুন না এই খেলাতে মজা পান কিনা।

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯: বলুন কে জিতবে, কে হারবে?

এখানে জানিয়ে রাখি বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় দেখতে পাবেন ফেসবুক লাইভ, বিবিসি বাংলার ইউ টিউব চ্যানলে থাকছে বিশ্বকাপ নিয়ে বিভিন্ন স্বাদের ভিডিও। এছাড়া বিবিসি বাংলা ডটকমে অবশ্যই থাকছে বিশ্বকাপের নানা খবরাখবর।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
মাসিকের 'লজ্জা' ভাঙ্গাতে ভ্রমণকন্যাদের চেষ্টা

মেয়েদের মাসিকের সময় স্যানিটারি প্যাডের ব্যবহার নিয়ে গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে লিখেছেন তানাকা রহমান:

''২৮শে মে ''পিরিয়ডের সময় স্যানিটারি প্যাডের বিকল্প কী আছে বাজারে?'' প্রতিবেদনটি পড়লাম এবং শুনলাম প্রবাহ অনুষ্ঠানে। স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রতিবেদনটি আমার খুব ভাল লেগেছে। শুধু অল্প বয়সী কিশোরীদের মধ্যে নয়, বয়ষ্ক নারীদের মধ্যেও পিরিয়ডের সময় স্যানিটারি নাপকিনের ব্যবহার নিয়ে এক ধরণের জড়তা ও অজ্ঞতা কাজ করে। গ্রামের নারীরা স্যানিটারি নাপকিনের স্বল্পতার কারণে পুরাতন জীর্ণ কাপড় ব্যবহার করে থাকে, যা একদিকে যেমন অস্বাস্থ্যকর, অন্যদিকে তেমনি শরীরের জন্যও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। আমি মনে করি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কিশোরী মেয়েদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক প্রোগাম আয়োজন করলে অনেকে স্বাস্থ্য সচেতন হতে পারবে।''

এটি অবশ্যই বাংলাদেশে সববয়সী নারীদের জন্য বড় একটি সমস্যা। পুরনো কাপড়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সব সময়ই চিকিৎসক ও গবেষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করে এসেছেন আর এই পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতার অভাবের কারণে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কার কথাও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন। আপনি যেমনটা লিখেছেন সচেতনতা বাড়ানোই এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। বাজারে স্যানিটারি প্যাডের বিকল্প কী আছে তা নিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনটি পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন। আপনাকে লেখার জন্য ধন্যবাদ।

এবারে ছোট একটি প্রশ্ন করেছেন অমরখানা পঞ্চগড় থেকে মোঃ উজ্জ্বল ইসলাম:

''চিঠিপত্রের আসর প্রীতিভাজনেষুতে একসময় শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতেন বাংলা বিভাগের সম্পাদক সাবির মুস্তাফা। কিন্তু প্রীতিভাজনেষুতে তার কন্ঠ গত ২মাস থেকে শুনতে পাচ্ছি না? তিনি কি অবসরে গেছেন?''

মি: ইসলাম- সাবির মুস্তাফা বড় একটি দায়িত্ব নিয়ে কয়েক মাসের জন্য কাজ করছেন বিবিসিরই অন্য একটি বিভাগে। তাই তার কণ্ঠ শোনা থেকে আপনি এবং অবশ্যই আরও অনেক শ্রোতা বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে তার এই দায়িত্বগ্রহণ সাময়িক। তিনি শিগগিরি আবার ফিরে আসবেন বিবিসি বাংলায় এবং আবার আপনাদের চিঠিপত্রের উত্তর দেবেন। লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

খুলনার পাইকগাছা থেকে ব্রেক্সিট নিয়ে প্রশ্ন করেছেন আরিফুল ইসলাম:

''ব্রেক্সিট নিয়ে নানা সমস্যার পর অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ট্যুরিজা মে। লন্ডনে যখন সরকারি বাসভবনের সামনে তিনি আবেগপূর্ণ ভাবে পদত্যাগের বক্তব্য দেন, তখন তার চোখে জল এসে যায় ও কন্ঠ ভেঙে আসে এবং সেটা দেখে মনে হয় প্রচুর কষ্ট ছিলো তার মনের ভিতরে। তিনি চেয়েছিলেন ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে বিভিন্ন সমস্যার অবসান ঘটাবেন- কিন্তু শেষমেশ হেরে গেলেন। তবে এবার যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে চুক্তি অনুসারে ব্রিটেনকে ইইউ থেকে বের করে আনতে পারবেন?''

মি: আরিফুল ইসলাম- আপনার এই কঠিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সারা ব্রিটেনের মানুষ - সেইসঙ্গে ইইউর দেশগুলোও। গোটা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া এমন একটা জটিল অবস্থায় রয়েছে যে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কোন পথে হাঁটবেন- ব্রেক্সিট আদৌ হবে কিনা - হলে তা কোন্ শর্ত মেনে কীভাবে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী, তা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন রয়ে গেছে। আপনাকে ধন্যবাদ লেখার জন্য।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ইইউ ছাড়ার ব্যপারে কোন মতৈক্য হয়নি ব্রিটেনের নেতাদের মধ্যে

আমাদের একটি অনুষ্ঠান সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন বরিশা থেকে সুমন সরকার:

''সোমবার প্রত্যুষার খবরে নরওয়েতে বিদ্যুৎ চালিত যানবাহনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি আমার খুবই ভালো লেগেছে। আরও শুনলাম, সে দেশের সরকার ২০২৫ সালের পর সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র নিষিদ্ধ করবে। এ ধরনের ব্যবস্থা প্রতিটা দেশে নিলে আমাদের পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন অনেকটাই শঙ্কামুক্ত করা সম্ভব। এবং সুন্দর পরিবেশও সৃষ্টি করা সম্ভব। এধরণের সংবাদ প্রচারের জন্য বিবিসিকে আন্তরিক ধন্যবাদ। সেই সাথে আশা রাখছি যাতে করে জনগনের চাহিদা বাড়ার মাধ্যমে সরকারগুলো এধরনের ব্যবস্থা নেয় বা নিতে বাধ্য হয়।

পরিবেশ দূষণ মোকাবেলায় পশ্চিমের অনেক দেশই এখন বিদ্যুতচালিত যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে। আশা করব এশিয়ার দেশগুলোও এধরনের ব্যবস্থায় আগ্রহী হবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

অনুষ্ঠান প্রসঙ্গেই আরও লিখেছেন ধানমণ্ডি, ঢাকা থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েব-সাইটে উবার, পাঠাও-এর মতো রাইড শেয়ারিং নিয়ে খুব সুন্দর একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে মূলত যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে এসব রাইডারে যাত্রীরা রাস্তাপথে কতটা নিরাপত্তা পাচ্ছেন? বিষয়টা সংবাদ হিসেবে আনার জন্য বিবিসি নিউজ বাংলাকে ধন্যবাদ। তবে এসব রাইডে নিরাপত্তার আরো একটা বিষয় থেকে যায়। যেমন: ছিনতাই, কিডন্যাপ। যাত্রীদের জন্য এ বিষয়টা কতটা উদ্বেগজনক কিংবা এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন তা উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনে। বিষয়টার উল্লেখ কি প্রয়োজন ছিল না?''

অনুষ্ঠানটি আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমরাও খুশি হলাম। বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ যারা ব্যবহার করছেন তারা মূলত অভিযোগ করছেন চালকের ব্যবহার নিয়ে, বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে এবং অনেক সময় চালকদের বেপরোয়া যান চালানোর কারণে সড়কপথে যাতায়াতের সময় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে। এগুলোই এসব অ্যাপ ব্যবহারকারী যাত্রীদের মূল অভিযোগ। আপনি যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ ছিনতাই বা কিডন্যাপ -এধরনের অভিযোগ রাইডিং অ্যাপ যারা ব্যবহার করেন তাদের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত শোনা যায়নি। এমন খবর গণমাধ্যমেও আসেনি। আপনাকে লেখার জন্য ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption চালকরা বেপরোয়াভাবে হয়ে উঠছে বলে অনেক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দ নিয়ে দেশটির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আনা বৈষম্যের অভিযোগ সম্পর্কে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন নিয়ে ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ থেকে লিখেছেন ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''উন্নয়ন অর্থ বরাদ্দে গোপালগঞ্জ-এর এগিয়ে থাকা নিয়ে রিপোর্টটি পড়লাম। গবেষণায় এটাও উল্লেখ করা উচিৎ ছিল যে অনেক বছর পর্যন্ত গোপালগঞ্জে এডিপি বরাদ্দ সবচেয়ে কম ছিল; এই এলাকার মানুষ দারিদ্রতার মাপকাঠিতেও অনেক পিছিয়ে ছিল। এবং অবকাঠামো উন্নয়নের অবস্থা এত বাজে ছিল যা স্থানীয় মানুষ ছাড়া কেউ জানত না।''

আপনার এই তথ্য অবশ্যই সঠিক এবং এ নিয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করবে বলে মনে হয় না। এডিপির বরাদ্দও উন্নয়নের দিক থেকে পেছিয়ে পড়া এলাকাগুলোর জন্যই। কিন্তু বিবিসি বাংলার রিপোর্টটি ছিল বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দ নিয়ে গবেষণা করে বলছে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পর ওই বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে গোপালগঞ্জ। উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ হওয়ার কথা এলাকার দারিদ্র্য ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে। কিন্তু সংস্থাটির গবেষণা বলছে বাংলাদেশের হাওর, উত্তরের দারিদ্র্য পীড়িত অঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে বরাদ্দ রয়েছে অনেক কম। তাই বার্ষিক এই অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে এটিকে বৈষম্য বলে তারা উল্লেখ করেছে। আপনাকে ধন্যবাদ লেখার জন্য।

মালদাহ কলনী, রাজশাহী থেকে প্রশ্ন করেছেন মোঃ শফিকুল ইসলাম:

''বিবিসি বাংলার বেশ কয়জন সহযোগী সাংবাদিক আছেন। এমনকী জেলা পর্যায়ে বেশ কিছু সাংবাদিক বিবিসি বাংলাকে সহায়তা করেন। কিন্তু তারা কোন প্রতিবেদন তৈরি করেন না কেন? এমনটি নয় যে বিবিসি বাংলাতে এ ধরণের প্রতিবেদন হতো না। আগে খুলনা থেকে মানিক সাহা ও শিলিগুড়ি থেকে উদয় গোবিন্দ বর্মন রায় প্রতিবেদন তৈরি করতেন। এখন কেন তা হয় না?''

আপনি প্রতিবেদন বলতে কি বোঝাচ্ছেন সেটা পরিষ্কার নয়। তবে জেলা পর্যায়ে যেসব সাংবাদিক আমাদের সহায়তা করেন, সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে এখনও আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এবং প্রয়োজন হলে তাদের সাক্ষাৎকারও আমরা নিই। যেমন আমরা অতীতে মানিক সাহা এবং উদয়গোবিন্দ বর্মন রায়ের সাক্ষাৎকার নিতাম। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট পিবিআই
Image caption পিবিআই-এর উপ মহাপরিদর্শক বনোজ কুমার মজুমদার

গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে লিখেছেন মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি:

''২৮ তারিখে আপনাদের ফেইসবুক পাতা ও ওয়েবসাইটে প্রকাশিত "নুসরাত হত্যা ছিল মিলিটারি প্ল্যানের মতো নিখুঁত" শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়লাম এবং প্রবাহ অনুষ্ঠানে পিবিআই-এর উপ মহাপরিদর্শক বনোজ কুমার মজুমদারের সাক্ষাৎকারটিও শুনলাম। শুনে খুবই অবাক হলাম যে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত। হত্যাকাণ্ডটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার সব চেষ্টাই হত্যাকারীরা করেছিল, এমনকি স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকেও ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঘটনার আদ্যোপান্ত বেরিয়ে এসেছে এবং ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য পিবিআইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। এখন আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটি যেন হয় একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আদালতের কাছে সেই প্রত্যাশাই করি।''

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই তাদের তদন্ত শেষে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। এখন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অপরাধীদের সাজা কখন হয় সেটাই দেখার। লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে কিছু প্রাপ্তিস্বীকার।

পলাশ চন্দ্র রায়, জায়গীর পাড়া, মাড়েয়া, পঞ্চগড়।

শাইখ মতিয়ার রেহমান, পাণ্ডু, ভারত।

-- গেন্ডারিয়া,ঢাকা থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান

মো.রেদোয়ান হোসেন কাউখালী,পিরোজপুর থেকে

--আর কাউনিয়া, রংপুর থেকে বিলকিস আক্তার।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

রফিক সরকার, গুলশান, ঢাকা।

--শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

মুহাম্মদ আজিজুর রহমান, ঢাকা,

--আর চাটমোহর, পাবনা থেকে ডা,এস,এম,এ হান্নান।

লেখার জন্য আর অনুষ্ঠান শোনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

আমাদের কাছে লেখার ঠিকানা bengali@bbc.co.uk। চিঠি লেখার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/