ফেসবুক জাকারবার্গের ফেক ভিডিও ইন্সটাগ্রাম থেকে তুলে নিবে না

মার্ক জাকারবার্গের কম্পিউটার-জেনারেটেড সংস্করণ
Image caption মার্ক জাকারবার্গের কম্পিউটার-জেনারেটেড সংস্করণ

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা তাদের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে নিয়ে তৈরি একটি ফেক বা ভুয়া ভিডিও মুছে ফেলবে না।

ওই ভিডিওতে মার্ক জাকারবার্গককে দেখা যায় যে, তিনি তার সাফল্যের জন্যে একটি গোপন সংগঠনের তারিফ করছেন।

ভিডিও ক্লিপটি একটি 'ডিপফেক', যা এআই সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তির একটি ফটো ব্যবহার করে তা দিয়ে ভিডিও তৈরি করা হয়।

এটি এমন এক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, যা দিয়ে যে কারও নকল ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে ছেড়ে দেয়া যায়।

ভিডিওতে কাউকে এমন কিছু করতে বা বলতে দেখা যায়, যা হয়তো তিনি কখনোই করেননি বা বলেননি।

আরও পড়তে পারেন:

কোন কোন পাসওয়ার্ড হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়?

সরকারের নিয়ন্ত্রণ চেয়ে ফেসবুকের যত সুপারিশ

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিভ্রাটে ফেসবুক, যা জানা যাচ্ছে

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য কন্টেন্ট শেয়ার হয়। যার মধ্যে রয়েছে অনেক ফেক বা ভুয়া কন্টেন্ট।

এর আগেও মার্কিন হাউজের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে নিয়ে তৈরি একটি মিথ্যা ভিডিও মুছে না ফেলার জন্যে সমালোনার ঝড় উঠেছিল।

লন্ডনে ৫০০টি নতুন চাকরির ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্তের সাথে ফেসবুকের এই সিদ্ধান্তের যোগ খুঁজে পাওয়া যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই কোম্পানিটি বলছে যে সেসব চাকরির অন্তর্ভুক্ত কাজের মধ্যে আছে মেশিন-লার্নিং ভিত্তিক সফটওয়্যার নির্মাণ। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারাপ বিষয় শনাক্ত করতে পারবে এবং তা মুছে ফেলতে পারবে।

ক্ষতিকর কন্টেন্ট পর্যালোচনা করতে কর্মীদের জন্যে এডিটিং টুলসও তৈরি করবে।

এ বছরের শেষ নাগাদ আরও ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে তারা।

ফেসবুকের সিলিকন ভ্যালির সদর দপ্তরের অফিসে ২০১৭ সালে দেয়া একটি ভিডিও উপস্থাপনা থেকে মিস্টার জাকারবার্গের ভিডিওটি সংগ্রহ করা হয়।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ফেসবুক লগ ইন।

সেখানে তার শরীরের ফুটেজের সাথে ফেসবুক প্রধানের মুখের ছবি মিলিয়ে দেয়া হয়। একজন অভিনেতার অডিও রেকর্ড করে এটির সাথে সিঙ্ক করা হয়।

মি. জাকারবার্গের এই 'ডিপফেক' ভিডিওটি শেফিল্ডের শিল্প প্রদর্শনের জন্যে তৈরি করা হয়েছিল।

সেটি ডিজাইন করা হয় এই দেখানোর জন্যে যে, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার মতো অন্যান্য কেলেঙ্কারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কিভাবে প্রভাবিত করে বা সেগুলো কিভাবে মানুষের মনোযোগকে বিভ্রান্ত করে।

১৬ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটি লুপ করে শনিবার ইন্সটাগ্রামে আপলোড করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার ভিডিওটির খবর জানানোর পরই এটি বিশেষত্ব পায়।

"এর ফলাফল বাস্তবসম্মত- অবশ্য যদি আপনি এটি নিঃশব্দে ছেড়ে রাখেন," বলছে একটি সংবাদ মাধ্যম।

কেননা এর কণ্ঠটি যে মার্ক জাকারবার্গের নয় তা স্পষ্ট বোঝা যায়।

ভিডিওটি ডিপফেক হ্যাশট্যাগ দিয়ে লেবেল করা হয়।

ইন্সটাগ্রামের পোস্টটি ২৫ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে সেটি শেয়ারও হয়েছে বহুবার।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মানুষ যোগাযোগের জন্য অনেকাটাই ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল।

ইন্সটাগ্রাম অ্যাপের প্যারেন্ট কোম্পানি ফেসবুকের এক মুখপাত্র বলেন, "আমরা এই কন্টেন্টটি ইন্সটাগ্রামের অন্যসব ভুল তথ্যের মতো করে একইভাবে ব্যবহার করবো।"

"যদি তৃতীয় পক্ষের ফ্যাক্ট চেকার এটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করে, তবে আমরা এটিকে ফিল্টার করবো।"

এই কাজের সাথে জড়িত শিল্পীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কোম্পানির নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিবিসিকে তারা জানান যে, "এই ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট শিল্পকে নতুন মাত্রার প্রোপাগান্ডা হিসেবে ব্যবহার করার আশঙ্কা রয়ে যায়। এর ফলে ফেসবুক দ্বারা সেন্সর করা আমাদের শিল্প নিশ্চয়ই কেউ দেখতে চাইবে না।"

তবে ডিজিটালভাবে প্রভাবিত শিল্পের অর্থপূর্ণ নিয়ন্ত্রণকে তারা স্বাগতও জানিয়েছেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption হ্যাকারদের থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে মানুষের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হল সচেতনতা।

রাজনৈতিক ক্ষেত্র

তিন সপ্তাহ আগে মিজ পেলোসির মিথ্যা ভিডিওটি সরিয়ে নেবার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করার পর ফেসবুক যদি এখনকার এই পোস্টটি ব্লক করে, তবে তা একধরনের ভণ্ডামির পর্যায়ে পড়বে।

সেই ক্লিপটি 'ডিপফেক' প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি না হলেও সেটি এমনভাবে তৈরি যেখানে একজন গণতান্ত্রিক রাজনীতিকের বক্তব্য বিকৃত হয়ে প্রকাশ পায়।

মিজ পেলোসি দৃঢ়ভাবে ফেসবুকের সমালোচনা করে বলেন, "এখন তারা এমন কিছু অনলাইনে আনছে যা তারা জানে যে মিথ্যা।"

"আমি এটা মেনে নিতে পারি... কিন্তু ফেসবুক সাধারণ মানুষের কাছে মিথ্যা বলছে।"

ওয়াশিংটনপোস্ট থেকে জানা যায় যে, মি. জাকারবার্গ ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্যে মিজ পেলোসির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মিজ পেলোসি কোনও সাড়া দেননি।