বরগুনা হত্যাকাণ্ড: 'পুলিশে চাকরির জন্য উত্তীর্ণ হয়েছিলেন গ্রেপ্তারকৃতদের একজন '

বরগুনায় বুধবারের হত্যাকাণ্ডের এই ভিডিও ফুটেজ স্যোশাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে ছবির কপিরাইট ভিডিও থেকে সংগৃহীত
Image caption বরগুনায় বুধবারের হত্যাকাণ্ডের এই ভিডিও ফুটেজ স্যোশাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে।

বরগুনায় আলোচিত রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটককৃত এই ব্যক্তি পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য উত্তীর্ণ হয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ''এ নিয়ে এই মামলায় এজহারভুক্ত দুইজন সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।''

তিনি বলেন, ''মামলার অপর আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, সবাই চেষ্টা করছে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা তাদের ধরে ফেলতে পারবো বলে আশা করছি।''

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''এজাহারে নাম না থাকলেও, অভিযুক্তরা ০০৭ নামের যে ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ তৈরি করেছিল, এ ছিল গ্রুপের একজন সদস্য। হত্যাকাণ্ডের দিনে সেখানে আলাপচারিতায় তার অংশগ্রহণ দেখা গেছে। তাই সন্দেহভাজন আসামী হিসাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।''

আটককৃত এই ব্যক্তি সম্প্রতি পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

এই তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলছেন, সে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, অপরাধে সম্পৃক্ত হওয়ায় তার পুলিশে চাকরির বিন্দুমাত্র সুযোগ আর থাকে না।

বরগুনার 'বন্ড ০০৭' নামে ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপের সেও একজন সদস্য ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদদাতারা।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক আলাপের স্ক্রিনশট থেকে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের সময় এই গ্রুপের সদস্যদের বরগুনার কলেজে উপস্থিত থাকার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, সেখানে এই সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া যুবক লাইক দিয়েছিলেন।

আরো পড়ুন:

রিফাতকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি কেন

বরগুনা হত্যাকাণ্ড: ঘটনাস্থলে থাকলে আপনি কী করতেন?

'চিৎকার করেছি, সবাইকে বলেছি - ওরে বাঁচান'

ছবির কপিরাইট রুদ্র রুহান
Image caption "আমার আশপাশে অনেক মানুষ ছিল...কিন্তু কেউ আমারে একটু সাহায্য করে নাই", নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা আক্তার।

গত ২৬শে জুন বরগুনা কলেজের সামনে রিফাত শরীফ নামের এক যুবককে স্ত্রীর সামনেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, কলেজের মূল ফটকের কাছে কয়েকজন যুবক রিফাতের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে উপর্যুপরি হামলা চালাচ্ছে।

এসময় আয়েশা আক্তার একাই দুর্বৃত্তদের হামলা থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

বিবিসি বাংলার কাছে আয়েশা আক্তার বলেন, "আমার স্বামী [রিফাত] আমাকে কলেজ থেকে নিয়ে ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। আমি অস্ত্রের মুখে পড়েও অনেক বাঁচানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু বাঁচাতে পারি নাই।"

তিনি বলেন, "আমার আশেপাশে অনেক মানুষ ছিল। আমি চিৎকার করছি, সবাইকে বলছি - ওরে একটু বাঁচান। কিন্তু কেউ এসে আমারে একটু সাহায্যও করে নাই।"

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

পাকিস্তান-আফগানিস্তান ম্যাচের যত নাটকীয়তা

নাগরিকত্ব তালিকায় না থাকায় কি আত্মহত্যা বাড়েছে?

ধর্ষণে বাধা দেয়ায় মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া, আটক ২

লন্ডনে এসে যেভাবে খুনি হয়ে উঠলো খুরাম বাট