'ছাদ দেখানোর কথা বলে ওয়ারীর শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল'

ঢাকায় ওয়ারীতে সাত বছরের শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

ঢাকায় ওয়ারীতে সাত বছরের শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে ওই ভবনের একটি তলার বাসিন্দা ওই যুবককে কুমিল্লার মেঘনার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ।

ওয়ারী জোনের অতিরিক্ত উপ- পুলিশ কমিশনার শাহ ইফতেখার বিবিসি বাংলাকে বলছেন, '' জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।''

অতিরিক্ত উপ- পুলিশ কমিশনার শাহ ইফতেখার বলছেন, ছাদ দেখানোর কথা বলে সে শিশুটিকে লিফট থেকে সবচেয়ে ওপর তলায় অবিক্রীত একটি শূন্য ফ্লাটের ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে প্রথমে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। তাতে ব্যর্থ হয়ে শিশুটির মাথায় আঘাত করে অচেতন করে।

''এরপরে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। কিন্তু তার পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে, এই ভয়ে শিশুটিকে হত্যা করে গলায় রশি বেধে ঝুলিয়ে রেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়, '' গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে জানাচ্ছেন মি. ইফতেখার।

এ সময় বাড়ির দারোয়ান তাকে বেরিয়ে যেতে দেখে। তার বক্তব্যের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরো পড়ুন:

উপরের শূন্য ফ্ল্যাটে পড়ে ছিল ধর্ষিতা শিশুটির মৃতদেহ

'৬ মাসে প্রায় ৪০০ শিশু ধর্ষণের শিকার'

ছবির কপিরাইট মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন
Image caption মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়ার মোট ৩৪৫টি সংবাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৩৫৬

এর আগে পুলিশ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিল যে, প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন:

প্রতিদিনের মত বিকালের দিকে মেয়েটি ওপর তলার একটি ফ্ল্যাটে তার সমবয়সী একটি শিশুর সাথে খেলতে বের হয়ে যায়। দরজা খুলে ঐ ফ্ল্যাটের শিশুটি পরিবারের সাথে বাইরে যাবে বলে খেলতে পারবে না জানালে, মেয়েটি বাসার উদ্দেশ্যে লিফটে ওঠে।

"শিশুটি তার খেলার সঙ্গী মেয়েটিকে লিফটে উঠতে দেখেছে বলে জানিয়েছে।"

পুলিশ এরপরের ঘটনার বর্ণনা পেয়েছে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে।

এই ভবনের একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দার আত্মীয় গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তি। একসময় সেই বাড়িতে এই ব্যক্তি নিয়মিতভাবে থাকলেও, কিছুদিন ধরে মাঝে মাঝে এসে থাকতেন। ওই বাসাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটি মাঝে মাঝে খেলা করতে যেতো।

শুক্রবার বিকালে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সাতবছরের ওই মেয়ে শিশুটি।

সন্ধ্যার পরও ঘরে না ফিরলে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে রাত আটটা নাগাদ শিশুটির রক্তাক্ত মৃতদেহ পাওয়া যায় ভবনের সবচেয়ে উপর তলায় একটি শূন্য ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে।

শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ময়না তদন্তের পর ডাক্তাররা তাদের রিপোর্টে বলেছেন, শিশুটিকে জবরদস্তি করে ধর্ষণ করা হয়েছে। তারপর গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

দেশব্যাপী বাড়ছে ডিমের দাম, কারণ কী?

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ - কজন বিশেষজ্ঞের চোখে

পক্ষাঘাতগ্রস্থ মানুষের দেহে স্নায়ু সচল সম্ভব হবে?

তেহরান পরমাণু চুক্তি: নতুন আলোচনার সম্ভাবনা

সম্পর্কিত বিষয়