ভারতকে আঘাত হানতে আল-জাওয়াহিরির বার্তা

আয়মান আল-জাওয়াহিরি ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption আয়মান আল-জাওয়াহিরি

সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল কায়দার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চরম আঘাত হানার আহ্বান জানিয়েছেন।

'কাশ্মীরকে ভুলো না' শিরোনামে ওই বার্তায় তিনি বলেছেন, কাশ্মীরে মুজাহিদিন বা জিহাদিদের এখন একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত ভারতীয় সেনার ক্ষতি সাধন করা।

কাশ্মীরি জিহাদিদের পাকিস্তানের ওপর ভরসা রাখা উচিত নয় বলেও তিনি সেখানে মন্তব্য করেন।

ভারত সরকারিভাবে এই বক্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া না-জানালেও দিল্লিতে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশ্মীরে আল কায়দার পায়ের তলায় জমি শক্তি করার উদ্দেশ্যেই এই বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

আয়মান আল-জাওয়াহিরির শেষ ভিডিও বার্তাটি প্রকাশ্যে এসেছিল ঠিক তিন বছর আগে, যখন তিনি মুসলিম বন্দীদের মৃত্যুদন্ড দিলে আমেরিকাকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

বস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলায় দন্ডপ্রাপ্ত জোখার সারনায়েভের নামও তিনি তখন আলাদাভাবে উল্লেখ করেছিলেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption কাশ্মীরের রাস্তায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল

এদিন তার যে ভিডিও বার্তাটি সামনে এসেছে, সেটিতে তিনি অবশ্য শুধু কাশ্মীরের জিহাদ নিয়েই কথা বলেছেন।

মুজাহিদদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন, "ভারতীয় সেনা ও সরকারের বিরুদ্ধে অবিশ্রান্ত আঘাত হানাই এখন তাদের একমাত্র ফোকাস হওয়া উচিত" - যার ধাক্কা ভারতীয় অর্থনীতির ওপর পড়ে, ভারতীয় সেনা যাতে ক্রমাগত লোকবল ও যুদ্ধাস্ত্র খোয়াতে থাকে।

ভারতের সুপরিচিত নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রভিন স্বামী বিবিসিকে বলছিলেন, "গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈবা বা হিজবুল মুজাহিদিনের মতো গোষ্ঠীগুলো থেকে অনেক জঙ্গীই গিয়ে আল কায়দা শিবিরে ভিড়েছেন।"

"এর প্রধান কারণ, তাদের অভিজ্ঞতা বলে পাকিস্তানের ওপর ভারতের চাপ বাড়লেই তাদের ওপর থেকে ইসলামাবাদের সমর্থন সরে যায়।"

"আল-জাওয়াহিরিও এখন বলছেন কাশ্মীরের লড়াইয়ে পাকিস্তান মোটেও কোনও নির্ভরযোগ্য সাথী নয়, তারা স্রেফ আমেরিকার দালাল। কাজেই তিনি চাইছেন, কাশ্মীরের সব জঙ্গীই যেন আল কায়দার পতাকার তলায় এসে জিহাদে সামিল হয়।"

ভারতের জন্য আল কায়দা যে সেল প্রতিষ্ঠা করেছে, তার নাম দেওয়া হয়েছে 'আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ'।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption নিহত জঙ্গী নেতা জাকির মুসার জানাজায় কাশ্মীরে মানুষের ঢল

ভারতে এই আল কায়দার শাখার যিনি প্রধান ছিলেন, সেই জাকির মুসা গত মে মাসেই ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন।

এরপর গত মাসে ঈদের সময় সংগঠনের নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হামিদ লেলহারিকে।

বছর তিরিশের হামিদ লেলহারি ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পুলওয়ামার ছেলে, আর তার ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গাজী ইব্রাহিম খালিদ।

প্রভিন স্বামী জানাচ্ছেন, "হামিদ লেলহারি, যার আসল নাম হামিদ বাট, তিনি নতুন নেতা হলেও জাকির মুসার মতো ক্যারিশমা তার নেই, কাশ্মীরি তরুণদের তিনি সেভাবে আকৃষ্ট করতে পারছেন না।"

"কাজেই আমার মনে হচ্ছে, আল কায়দার প্রধান নিজে এখন তাদের প্রতি বার্তা দিয়ে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করতে চাইছেন।"

"গত বিশ বছর ধরে কাশ্মীরে জিহাদ চালানো হলেও তেমন একটা পরিবর্তন আনা যায়নি, ফলে কিছুটা হতাশাও আছে - কিন্তু আল জাওয়াহারি এখন বলছেন ভারতকে নতুন যন্ত্রণা দিতে হবে, কাশ্মীরের বাইরেও তাদের বিভিন্ন শহরে, সরকারি স্থাপনায় উপর্যুপরি আঘাত হানতে হবে।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption শ্রীনগরে তার প্রথম সফরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী আল-জাওয়ারির নতুন ভিডিওটি খুঁটিয়ে দেখছে ঠিকই - তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কর্মকর্তারা এ নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে: জেনারেল জি পি বক্সী অবশ্য মনে করছেন, আল কায়দা প্রধানের আবেদন কাশ্মীরে তেমন একটা সাড়া ফেলতে পারবে না।

তার কথায়, "কাশ্মীরি যুবকরা কিন্তু মনস্থির করে ফেলেছেন তারা ভারতের মূল স্রোতেই থাকবেন। জিহাদ বা জঙ্গীবাদের রাস্তায় যেতে তারা আর উৎসাহী নন।"

"আর এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, বারামুলায় সম্প্রতি আর্মির রিক্রুটমেন্ট ক্যাম্পে যোগ দিতে হাজারে হাজারে কাশ্মীরি তরুণ লাইন দিয়েছিলেন। এরা সবাই ভারতের তেরঙ্গা জাতীয় পতাকাকেই আপন করে নিয়েছেন।"

নর্থ ব্লকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রও বলছে, গত চার-মাসে কাশ্মীরে জঙ্গী হামলার ঘটনা অনেক কমে গেছে, অন্যদিকে অসংখ্য জঙ্গী এনকাউন্টারে মারা গেছেন।

এই পটভূমিতে আল-জাওয়াহিরির ভিডিও বার্তা সেই জিহাদিদের মনোবল বাড়ানোর একটি মরিয়া চেষ্টা বলেই তারা মনে করছেন।