দেশে এসিড সন্ত্রাস ব্যাপক হারে কমেছে, তবে নারীর উপর অন্য অপরাধ বেড়েছে - এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন

এসিড হামলা, বাংলাদেশ, মানববন্ধন, ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বাংলাদেশে এসিড হামলার ঘটনা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। (ফাইল ছবি)

গত ১০ বছরে বাংলাদেশে এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। তবে বেড়েছে নারীর উপর অন্যান্য ধরণের সহিংসতা বেড়েছে।

বাংলাদেশে এসিড হামলার শিকারদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য।

গবেষণায় বলছে, ২০০২ সালে সবচেয়ে বেশি এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। যার সংখ্যা ছিলো প্রায় পাঁচশোটির মতো।

তবে ২০০৯ সাল থেকে এর পরিমাণ কমতে শুরু করেছে যা ২০১৮ সালে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৮টিতে। গত বছর এসব হামলার ঘটনায় ২২জন আক্রান্ত হয়েছেন।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমদে এনা বলেন, সরকারি পর্যায়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দুটি শক্ত আইন প্রণয়ন করায় এই অপরাধ কমেছে। গণমাধ্যমেরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এই অপরাধ দমনে ভূমিকা রেখেছে।

আরো পড়তে পারেন:

'প্রত্যেক পুরুষ আপনার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়'

রং ফর্সা করার মূল্য কীভাবে দিচ্ছেন লাখ লাখ নারী

থাকার জায়গা পেলেন ঝালকাঠির সেই নারী নাপিত

বিভিন্ন বছরে বাংলাদেশে এসিড সন্ত্রাসের চিত্র

সূত্র: এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন

তিনি বলেন, এই অপরাধের সাজা কার্যকর হওয়ার নজির কম থাকলেও তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত গণমাধ্যমে এর ব্যাপক প্রচারের কারণে মানুষের মধ্যে এসিড অপরাধের প্রতি ভীতি তৈরি করেছে। যার কারণে এটি কমে এসেছে।

এছাড়া, এসিড কেনা-বেচা ও পরিবহনের আইন কঠোর হওয়ায় সেটিও পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করেছে।

তবে মিজ এনা বলেন, "নারীদের প্রতি ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে, যৌন হয়রানির ঘটনা বেড়েছে। আবার বার্ন ভায়োলেন্স সেক্ষেত্রে এর হার বেশি, বাল্যবিবাহের ধরণ বেড়েছে।"

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে যে আইন আছে তার সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

এছাড়া পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর প্রতি যে নেতিবাচক ধারণাগুলো আছে, তা সমাজে বিদ্যমান। সুশাসনের অভাবের কারণে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, "শাস্তিহীনতা ও বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি সেটা খুব প্রকট। তারপর আমরা নীরবে সয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি সেটাও একটা বড় কারণ। "

এসব কারণেই নারীদের উপর এ ধরণের সহিংসতা কমছে না বলে মনে করেন তিনি।

সম্পর্কিত বিষয়