'ফেসবুক লাইভ' যেভাবে রুখলো একজনের আত্মহত্যা

মোবাইল ফোনে ফেসবুকের লোগো ছবির কপিরাইট Getty Images

কলকাতার একটি ফ্লাইওভারের ওপরে দাঁড়িয়ে ফেসবুক লাইভ করছিলেন এক ব্যক্তি। অবসাদগ্রস্ত ওই ব্যক্তি ফেসবুক লাইভেই বলছিলেন যে, তিনি কিছুক্ষণের মধ্যেই ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন।

জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা শুনেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয় ফেসবুক। যে আই পি অ্যাড্রেস থেকে লাইভস্ট্রীম করা হচ্ছিল সেটি তারা দ্রুত খুঁজে বের করে। জানতে পারে ঘটনা কলকাতার।

দেরী না করেই কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলে খবর দেয় তারা, সঙ্গে পাঠানো হয় ফেসবুক লাইভের লিঙ্কও।

পুলিশ বুঝতে পারে হাতে সময় খুব কম। কিন্তু কীভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে - কোন ফ্লাইওভারের ওপরে দাঁড়িয়ে লাইভ করছেন ওই ব্যক্তি।

সাইবার থানার এক অফিসার ওই ব্যক্তির প্রোফাইল দেখে খুঁজে বার করেন দুটি মোবাইল নম্বর। ফোন করে দেখা যায় একটি বন্ধ, অন্যটিতে ফোন করা হলে এক নারী সেটি তোলেন।

তিনি জানান, এক সময়ে ওই ব্যক্তি তার গাড়ী চালাতেন। তিনিই ঠিকানা জানিয়ে দেন পুলিশকে।

আত্মহত্যা করতে যাওয়া ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালানোর সাথে সাথে সাইবার থানা খবর দেয় দক্ষিণ কলকাতার কসবা থানাকে।

সেখানকার এক অফিসার ওই নারীর দেওয়া ঠিকানায় পৌঁছান।

অন্যদিকে লাইভ লোকেশান খুঁজে বের করেন থানার আরেক অফিসার। জানা যায়, ওই ব্যক্তির একই সাথে তার বাড়িতে পাঠানো হয় পুলিশের আরেকটি দল। আর তিনি যে ফ্লাইওভরে দাঁড়িয়ে আছেন, সেদিকে রওনা দেয় আরেকটি দল।

কলকাতা পুলিশ বলছে, একদিকে তার মাকে দিয়ে ফোন করিয়ে ব্যস্ত রাখা হয় ওই ব্যক্তিকে। তার মধ্যেই দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ এলাকায় বন্ডেল রোড ফ্লাইওভারের ওপরে চলে যায় কসবা থানার আরেক অফিসার।

আরো পড়তে পারেন:

ভিনগ্রহের প্রাণী দেখতে আমেরিকায় ফেসবুক ইভেন্ট

একটি অপহরণ, সোহেল তাজ ও ফেসবুক লাইভ

ঈদের চাঁদ নিয়ে সরগরম ফেসবুক

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption অতিরিক্ত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে রাস্তায় টহল দিচ্ছে কলকাতা পুলিশ।

অনেক বুঝিয়ে আত্মহত্যার থেকে নিরস্ত করা যায় তাকে। পুলিশই তাকে বাড়ি পৌঁছিয়ে দিয়ে আসে।

কলকাতা পুলিশের সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত স্পেশ্যাল পাবলিক প্রসেকিউটার বিভাস চ্যাটার্জী বলছিলেন, "এরকম ঘটনা খুবই বিরল। ফেসবুক খুব দ্রুত পুলিশকে জানাতে পেরেছে বলে প্রাণ বাঁচানো গেছে ওই ব্যক্তির।"

"যদিও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থারই দায়িত্ব অপরাধ হতে যাচ্ছে এরকম কোনও ঘটনা পুলিশকে জানানোর। কিন্তু বাস্তবে তা খুব কমই ঘটে।"

"অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ হয়ে যাওয়ার পরে সামাজিক মাধ্যম বা ইন্টারনেট ভিত্তিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আইপি অ্যাড্রেস বা অন্যান্য তথ্য জোগাড় করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে আত্মহত্যার আগেই খবরটা পাওয়া গেছে, যার ফলে বেঁচেছে একটি প্রাণ," বলছিলেন মি. চ্যাটার্জী।

যে তিনজন অফিসার মূলত সে রাতে ওই ব্যক্তিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন, কলকাতা পুলিশ তাদের ছবিসহ সেই ফেসবুকেই একটা পোস্ট করেছে।

দেশ-বিদেশ থেকে শত শত মানুষ কলকাতা পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন একজন মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য।